বাংলাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৩১৭
https://parstoday.ir/bn/news/event-i159178-বাংলাদেশে_হাম_ও_হামের_উপসর্গে_আরও_৬_শিশুর_মৃত্যু_এ_পর্যন্ত_মৃত্যু_৩১৭
বাংলাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে দুই শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল চার শিশুর।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মে ০৫, ২০২৬ ১৯:১২ Asia/Dhaka
  • খাদিজা ও ফাতেমা জমজ বোন হামে মারা গেছে
    খাদিজা ও ফাতেমা জমজ বোন হামে মারা গেছে

বাংলাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে দুই শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল চার শিশুর।

এ সময় সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৮৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে দুই শিশু ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে খুলনা ও রাজশাহীতে দুজন এবং সিলেটে দুজন মারা গেছে।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৬৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৫৪ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪২ হাজার ৯৭৯ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯ হাজার ৮৩১ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ২৬ হাজার ৩৬৮ শিশু। ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৫ হাজার ৭২৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রাদুর্ভাব: বিশেষজ্ঞরা

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে চরম অদক্ষতা ও উদাসীনতার ফলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ৩১৭ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হিসাবও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

শিশুদের নিয়ম মতো টিকা দেওয়ায় একসময় হামের সংক্রমণ বিরল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু চলতি বছর এই রোগের সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গতকাল পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একসময় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি সদ্য সাবেক এই সরকারের ১৮ মাসের আমলে কার্যত ভেঙে পড়ে।

টিকা কেনার পদ্ধতি ও অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। যা থেকে দেখা দেয় টিকার সংকট। শেষ পর্যন্ত টিকার মজুত একেবারে তলানিতে নেমে আসে। এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় হামের প্রাদুর্ভাব। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন এবং কয়েক দফায় কর্মবিরতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচির আওতা কমে যাওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পুরো মেয়াদে কোনো বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেনি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে একটি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি চালানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম ও রুবেলা (এমআর-১ ও এমআর-২) টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী সম্পূরক ক্যাম্পেইন না হওয়াকে এ সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, বহু পরীক্ষিত এই কর্মসূচি খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সরকার চাইলে সেগুলো সমাধান করতে পারত। কিন্তু পুরো কর্মসূচি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরো খাতটি অপারেশন প্ল্যাননির্ভর থাকায় নতুন ব্যবস্থায় যেতে আন্তবিভাগীয় ব্যাপক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু তাতে যে এত সময় লাগবে, তা অন্তর্বর্তী সরকার আগে বুঝতে পারেনি।

তিনি বলেন, কর্মকর্তারা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই মূলত বিলম্ব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কর্মকর্তারা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই মূলত বিলম্ব হয়েছে।#

পার্সটুডে/জিএআর/৫