২০২৪ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম, গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়ের দিন ৫ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161936-২০২৪_স্বাধীনতা_ও_গণতন্ত্র_রক্ষার_সংগ্রাম_গণতন্ত্রকামী_মানুষের_বিজয়ের_দিন_৫_আগস্ট_প্রধানমন্ত্রী
পার্সটুডে: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়ের দিন।
(last modified 2026-08-05T05:51:07+00:00 )
আগস্ট ০৫, ২০২৬ ১১:৩৬ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পার্সটুডে: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়ের দিন।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের এ দিনে বীর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। তিনি এই দিনটিকে জাতীয়ভাবে উদযাপনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বাণীতে তিনি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকেও রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেছেন, ওই সময়ে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংকট তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমনে গুলি চালানোসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা এখন সবার দায়িত্ব। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিভেদ বা সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগও চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/০৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।