শত আঘাতের পরও ইরান কেন অপরাজেয়? ৪টি কারণ ব্যাখ্যা করলেন রুশ বিশেষজ্ঞ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i159934-শত_আঘাতের_পরও_ইরান_কেন_অপরাজেয়_৪টি_কারণ_ব্যাখ্যা_করলেন_রুশ_বিশেষজ্ঞ
পার্সটুডে: মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইরানের জয়ী হওয়ার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে দেশটির নাগরিকদের অনন্য জাতীয় পরিচয় এবং বিপদের দিনে তাদের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মধ্যে—এমনটাই মনে করেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমির প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক ভ্যাসিলি কুজনেটসভ।
(last modified 2026-06-16T05:39:17+00:00 )
জুন ০২, ২০২৬ ১৬:৪৬ Asia/Dhaka
  • ভ্যাসিলি কুজনেটসভ
    ভ্যাসিলি কুজনেটসভ

পার্সটুডে: মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইরানের জয়ী হওয়ার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে দেশটির নাগরিকদের অনন্য জাতীয় পরিচয় এবং বিপদের দিনে তাদের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মধ্যে—এমনটাই মনে করেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমির প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক ভ্যাসিলি কুজনেটসভ।

মস্কোতে ইরানের বার্তা সংস্থা 'ইরনা' (IRNA)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই রুশ বিশেষজ্ঞ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, কেন ইরানকে দুর্বল বা ধ্বংস করার পশ্চিমা পরিকল্পনা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর মতে, ইরানের এই অপরাজেয় শক্তির পেছনে ৪টি প্রধান কারণ রয়েছে:

১. হাজার বছরের প্রাচীন শিকড়: ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে, পৃথিবীতে এমন কোনো সময় ছিল না যখন ইরানের অস্তিত্ব ছিল না। শত ঝড়-ঝাপটার মধ্যেও ইরান কখনো খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়নি। এই হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাসই ইরানকে এক অদম্য শক্তি দিয়েছে। তাই ইরানকে ধ্বংস করার মার্কিন বা ইসরায়েলি স্বপ্ন একেবারেই অবাস্তব।

২. শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা: ইরান শুধু ঐতিহাসিকভাবেই প্রাচীন নয়, বর্তমান সময়েও দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো অত্যন্ত সুদৃঢ়। তাদের এই অনন্য ও শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণেই যেকোনো বড় ধাক্কা তারা সহজেই সামলে নিতে পারে।

৩. ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বোকামি: আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসন ব্যর্থ হওয়ার বড় কারণ তাদের নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত। তারা এতটাই অন্ধ যে, এই সাধারণ বিষয়টিও বুঝতে পারেনি—কোনো দেশের ওপর বোমা হামলা চালালে সেই দেশের মানুষ কখনো হামলাকারীদের স্বাগত জানাবে না, বরং আরও বেশি ক্ষিপ্ত হবে। এই দিক থেকে বিচার করলে, ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত ছিল চরম বোকামি।

৪. পতাকার নিচে জনগণের অভূতপূর্ব ঐক্য: যখনই কোনো বিদেশি শত্রু ইরানের ওপর সামরিক আঘাত হেনেছে, তখনই সব মতভেদ ভুলে ইরানের সাধারণ মানুষ তাদের নেতৃত্ব এবং জাতীয় পতাকার নিচে একতাবদ্ধ হয়েছে। ইরানিদের এই অনন্য সভ্যতা, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চেতনা বিশ্বকে নিয়ে তাদের গভীর ভাবনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা তাদের কোনোভাবেই ভাঙতে দেয় না।

সবশেষে ভ্যাসিলি কুজনেটসভ বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয় একটি শক্তিশালী সভ্যতাগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিকে আরও দৃঢ় করেছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২