হুররিয়াত নেতারাও ভারতের নাগরিক, তাদের সঙ্গে কথা হবে: সাবেক গোয়েন্দা প্রধান
-
কাশ্মিরে ভারত সরকারের প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মা
কাশ্মিরের হুররিয়াত কনফারেন্সের নেতারাও দেশের নাগরিক সেজন্য তাদের সঙ্গেও কথা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মা।
কাশ্মির সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে কথা বলার সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীনেশ্বর শর্মা এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন।
সাবেক গোয়েন্দা প্রধান দীনেশ্বর শর্মা বলেন, তিনি খুব শিগগিরি জম্মু-কাশ্মিরে গিয়ে সেখানকার মানুষজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন। সেখানে যেসব তরুণরা বিভ্রান্ত হচ্ছে, পাকিস্তান থেকে যে তহবিল আসে তাদেরকে বোঝানো হবে যে ওই তহবিলের মাধ্যমে তাদের কোনো কল্যাণ হবে না। তাতে কোনো উন্নয়ন হবে না। বহু বছর ধরে সেখানে যে সমস্যা চলে আসছে তা কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তার উপরে কাজ করা হবে।

হুররিয়াত নেতাদের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে দীনেশ্বর শর্মা বলেন, পাকিস্তান থেকে যে অর্থায়ন হচ্ছে এনআইএ (জাতীয় তদন্ত সংস্থা) তার তদন্ত করছে। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব নিয়ে তাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু তিনি এটা চান যে পাকিস্তানের ইঙ্গিতে যারা কাজ করছে তা হওয়া উচিত নয়, সেখান থেকে অর্থ আসা উচিত নয়। এতে এ দেশের জম্মু-কাশ্মিরের তরুণদের কোনো ফায়দা হওয়ার নয়।
তিনি বলেন, আমার কাজ হবে জম্মু-কাশ্মিরে শান্তি ফিরিয়ে আনা। সেখানে উন্নয়নের পথ খুলে যাক এবং আমাদের তরুণরা যারা বিভ্রান্ত হয়েছে তাদের সঠিক রাস্তায় নিয়ে আসা। দীনেশ্বর শর্মা দেশবাসী ও সরকারের প্রত্যাশা পূরণ করতে সমর্থ হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মিরি জনতার সঙ্গে সংলাপের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি বলেছেন, আলোচনাই হল কাশ্মির সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ। এটাই সময়ের দাবি।
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ কটাক্ষ করে বলেছেন, যারা মনে করছিলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, তারা প্রত্যেকেই এদিনের ঘোষণায় পরাজিত হয়েছেন।
কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমও। তিনি বলেন, আমি আশা করব, আলোচনাকারী নিয়োগের মাধ্যমে সরকার অবশেষে মেনে নেবে যে জম্মু-কাশ্মিরে পেশী শক্তির প্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হয়েছে।
কাশ্মিরে ২০০২ সাল থেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ পাঠিয়ে উপত্যকার অশান্তি থামানোর উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথমবার নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কে সি পন্থ। দ্বিতীয়বার এন এন ভোরা। ২০১০ সালে তৃতীয়বার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ পদগাঁওকরের নেতৃত্বে তিনজন আলোচনাকারীকে নিয়োগ করেছিল। ওই দল যেসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিল, তা কার্যকর হয়নি।
কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ইউপিএ সরকার বিদায় নেয়ার পর বিজেপি’র নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ‘ইটের বদলে পাটকেল’ নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়। কিন্তু তাতে কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার চেয়ে আরো অশান্ত হয়ে ওঠে। অবশেষে ভোল বদল করে সংলাপ ও আলাপ আলোচনার পথেই ফিরতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যা নিয়ে সুযোগ বুঝে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪