অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ১৩:১৬ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৯ অক্টোবর বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের অনলাইন শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • তিন শর্তে জামিন পেলেন খালেদা জিয়া-দৈনিক ইত্তেফাক
  • কুড়িগ্রামের ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র, কিছু জেলায় দারিদ্র্য বেড়েছে: বিবিএস-দৈনিক ইত্তেফাক
  • পেপ্যাল-জুম সার্ভিসের উদ্বোধন করলেন সজীব ওয়াজেদ জয়-দৈনিক ইত্তেফাক
  • দুর্ঘটনার ৫২% মহাসড়কে-দৈনিক প্রথম আলো
  • পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ছিনতাই!-দৈনিক যুগান্তর
  • আদালতে খালেদা জিয়ার প্রশ্ন-আমাকে অসম্মান করার প্রতিকার কোথায় পাব? -দৈনিক যুগান্তর
  • বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি তবুও চলছে নিয়োগ-দৈনিক ইনকিলাব
  • ১/১১ 'র প্রেক্ষাপট-প্রণবের 'ভূমিকায়' মুক্ত হন হাসিনা-খালেদা-দৈনিক সমকাল
  • রোহিঙ্গাদের জন্য আসলে কতটুকু করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়?-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • হাসিনা-খালেদাকে মুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছি, দাবি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর-কালের কণ্ঠ
  • 'সরকারের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন কী করে সম্ভব?'-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন

ভারতের শিরোনাম:

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্টের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি দারুল উলুমের-দৈনিক আনন্দবাজার
  • বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ৯ বছরের বালিকার- দৈনিক আজকাল
  • বাবরির পরিণতি হতে পারে তাজমহলেরও, বাড়ছে আশঙ্কা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

তিন শর্তে জামিন পেলেন খালেদা জিয়া-দৈনিক ইত্তেফাক

আদালতে খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়াকে আদালত দুটি মামলায় তিন শর্তে জামিন দিয়েছেন। শর্তগুলো হলো- দুই লাখ টাকার বন্ড, দুইজনের জিম্মা এবং ভবিষ্যতে বিদেশ গেলে আগে থেকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারস্থ কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান খালেদা জিয়া। এসময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় তিনি জামিন পান। ওই আদালতেই মামলা দুটির বিচারকার্য চলছে।

খালেদার পক্ষে জামিন আবেদন করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। শুনানিতে জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেননি। তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, জামিন দিলে পলাতক হবেন না। অপরদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এ দিন আদালত এ মামলার অপর দুই আসামি কাজী সেলিমুল হক এবং শরীফ উদ্দীনের জামিন না মঞ্জুর করেছেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার প্রশ্ন-আমাকে অসম্মান করার প্রতিকার কোথায় পাব? -দৈনিক যুগান্তর

সরকারের হস্তক্ষেপে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করে নিজের মামলায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া।

তিনি প্রথমেই প্রশ্ন তুলে বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের মামলার বিচারকাজ যেখানে করা হয়েছে, সেখানে আমার মামলার বিচার কেন করা হচ্ছে?

খালেদা জিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে আরও যেসব মামলা করা হয়েছে সেগুলো অন্য আদালতে বিচারাধীন হলেও এ দুটি মামলা এখানে আনা হল কেন? এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য হল বিচারের নামে আমাকে জনসমক্ষে হেনস্থা ও অপমান করা। তিনি বলেন, এটি থেকেই প্রমাণিত হয়, সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আমার মামলার কাজ এখানে চালাচ্ছে।

এ ধরনের আচরণকে স্বাধীন বিচারের অন্তরায় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাকে এভাবে হেনস্থা ও অসম্মান করার প্রতিকার কোথায় পাব?

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

দলীয় অনেক এমপিকে ‘অত্যাচারী ও অসৎ’ বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত  দৈনিক প্রথম আলোকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারটিতে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি খুবই আশাবাদী যে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি অংশ না নিলেও তার দলের অন্যরা অংশ নেবেন। মনে হয় না তার দলের অন্যরা অংশ না নেওয়ার মতো অত বোকার কাজ করবেন। অংশ নেওয়াটাই ভালো হবে।

রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় বাংলাদেশ-ইত্তেফাক

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আবারো রোহিঙ্গা সংকটসহ ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত প্যালেস্টাইন সমস্যাসহ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর এক উন্মুক্ত আলোচনায় এই সমাধান চান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। এসময় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের বিপুল জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকটসহ ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের সম্মিলিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, 'ইতোপূর্বে ও সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের দ্বারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা এই সমস্যার ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছি এবং সঙ্গত কারণেই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী এই অবৈধ দখল ও ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছি।

পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ছিনতাই!-দৈনিক যুগান্তর

বাংলাদেশের পুলিশ (ফাইল ফটো)

জসিম উদ্দিন নামে পুলিশের এএসআইয়ের বিরুদ্ধে বিদেশগামী ব্যক্তির গাড়ি থামিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর খামারবাড়ি এলকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ওই এএসআই খুলনা জেলায় কর্মরত বলে জানিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিজি বিশ্বাস। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ী হিমেল খান জানান, তিনি তার চাচাতো ভাই সফিক খানকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে ধানমণ্ডি থেকে বিমানবন্দর যাচ্ছিলেন। খামারবাড়ির সামনে তাদের প্রাইভেট কার থামানো হয়।

থামানোর সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহীরা নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয়। পরে জোর করে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

এ সময় তারা ছিনতাইকারী ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন তাদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ কর্মকর্তার নাম এএসআই জসিম। অপর ব্যক্তির নাম মিঠু। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস বলেন, তার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ দেয়ায় বিষয়টি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।’

দুর্ঘটনার ৫২% মহাসড়কে- দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা

ভাগ্য বদলের আশায় স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে ঢাকায় আসেন রিকশাচালক আজিজুল হক (৪০)। গত ২৪ মার্চ রাতে কম খরচে গ্রামের বাড়ি যেতে একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে ওঠে পুরো পরিবার। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকায় ট্রাকটি উল্টে যায়। পরদিন সিমেন্টের বস্তার স্তূপ থেকে বের করা হয় আজিজুল, তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলেসহ ১০ জনের লাশ।

শুধু আজিজুল ও তাঁর পরিবার নয়, মহাসড়কে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়ে প্রথম আলোর সাংবাদিকদের পাঠানো তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে দেখা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২৮ দিনে মোট ১ হাজার ৪৮১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মারা গেছেন ২ হাজার ১১১ জন। গড়ে দিনে মারা যান প্রায় ১০ জন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৫১ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঘটেছে মহাসড়কে এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৯০ জন। অবশ্য ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) বলেছে, সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশ ঘটে মহাসড়কে।

কুড়িগ্রামের ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র, কিছু জেলায় দারিদ্র্য বেড়েছে: বিবিএস-দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের সার্বিক দারিদ্র্য

দেশের সার্বিক দরিদ্র্য হার কমলেও কিছু জেলাতে এই হার বেড়েছে। খানা আয় ব্যয় জরিপের তথ্যানুযায়ী দেশের সবচেড়ে বেশি গরীব মানুষ বাস করছে কুড়িগ্রামে। এই জেলার ৭০ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। ২০১০ সালেও এই অঞ্চলের ৬৩ দশমিক ৭ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে ছিল।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সদ্য প্রকাশিত ‘খানা আয় ব্যয় জরিপ-২০১৬’ এর তথ্যে দেখা গেছে, দেশের উত্তর বঙ্গের মঙ্গাপীড়িত লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলায় দারিদ্র্যের হার না কমে বরং বেড়ে গেছে। ২০১০ সালে লালমনিরহাটে সাড়ে ৩৪ ভাগ  মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছিল। ২০১৬ সালে এই হার বেড়ে ৪২ ভাগ হয়েছে। নিলফামারী জেলায় দারিদ্র্যের হার ২০১০ সালে ৩৪ দশমিক ৮ ভাগ থেকে ২০১৬ সালে মাত্র ৩২ দশমিক ২ ভাগে নেমে এসেছে। গাইবান্ধায় দারিদ্র্য হার কিছুটা কমেছে, সেটিও এক শতাংশের কম।

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য-আওয়ামী লীগ-বিএনপির বলা না-বলা কথা-দৈনিক সমকাল

ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া আওয়ামী লীগের ১১ দফা ও বিএনপির ২০ দফা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনামায় নির্বাচন কমিশন গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে বিসাদৃশ্য তেমন কিছু বলা হয়নি। পক্ষান্তরে বিএনপির প্রস্তাবনায় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের ভেতরের ও বাইরের বেশ কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনামায় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো কথা নেই। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার-বহির্ভূত বিবেচনায় থাকারও কথা নয়। অথচ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই মূল বিতর্ক। নির্বাচন সম্পর্কিত বলে বিতর্কটি নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে গড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের বক্তব্য হচ্ছে- বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। বিএনপির দাবি- সহায়ক সরকার; যা নির্বাচনী প্রস্তাবনামায় সর্বাগ্রে স্থান পেয়েছে। তবে আজকের বাস্তবতায় দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুযোগ নেই। আর বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দিয়েও নির্বাচন করার সুযোগ আছে। আর সেটি জরুরি এই কারণে যে, যখন একজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তখন অপর প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সুযোগের সমতা রক্ষা করা যাবে না। এ বিবেচনায় নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়াই যৌক্তিক বলে মনে করি।

ইসির সঙ্গে বিএনপির সংলাপ

আমাদের মনে রাখা দরকার, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। আর সে ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার দূরত্ব। এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা। আর সেটি প্রতিষ্ঠিত হলে সংবিধান কোনো বাধা নয়। এ উদাহরণের জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-উত্তর তিন জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছিল, তা সংবিধান নির্দেশিত পথে নয়, রাজনৈতিক মতৈক্যের ভিত্তিতেই হয়েছিল। এখনও রাজনৈতিক অঙ্গনের মতৈক্য অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে পারে।

'সরকারের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন কী করে সম্ভব?'-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

মাহমুদুর রহমান মান্না

সরকারের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন কী করে সম্ভব? এমন প্রশ্ন রেখেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। মাহমুদুর রহমান মান্না আরও বলেন, আগামীতে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাইলে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়ন করতে হবে। এই সরকারের শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের অবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। সেই সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?

রোহিঙ্গাদের জন্য আসলে কতটুকু করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়?-দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা 

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের যে ঢল নেমেছে বাংলাদেশে গত ২৫শে অগাস্ট থেকে সেটি এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বে বড় খবরগুলোর একটি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কয়েক দফা আলোচিত হয়েছে এবং সংস্থাটি বলেছে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি হলো ‘বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল শরণার্থী সংকট’। তারা এটিকে জাতিগত নিধনের একটি উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

জাতিসংঘের হিসেবে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে যার মধ্যে ৫৮% শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী।

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মানের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বারবার তুলে ধরেছে গণমাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছে দ্রুত এগিয়ে আসার জন্য।

কিন্তু কি কি প্রয়োজন রোহিঙ্গাদের? কি বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো? কি এসেছে? কি বলছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব? • আগামী ৬ মাসে প্রয়োজন হবে জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ৪৩৪ মিলিয়ন ডলার

• ৯ লাখ ডোজ কলেরা টিকা দেয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ

• অন্তত ১০ হাজার টয়লেট তৈরি করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

• বাংলাদেশকে আরও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে

• পাঁচশ টন সাহায্য এসেছে পাঁচটি বিশেষ বিমানে

• জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বারবার রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে কিন্তু কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি

• যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানাতে বলেছে যাতে সহিংসতা ও মানুষের বাস্তু চ্যুত হওয়া বন্ধ হয়

• চীন বলেছে জাতীয় উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিয়ানমার যে প্রচেষ্টা নিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাতে সমর্থন দেয়া

• যুক্তরাজ্যের দুর্যোগ বিষয়ক জরুরী কমিটি শরণার্থীদের জন্য তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বলেছেন। জাতিসংঘ ও ইরান, তুরস্ক, মালেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ত্রাণ দিয়েছে এবং দিচ্ছে এছাড়া ইরান রোহিঙ্গাদের মাঝে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ করেছে।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

বাবরির পরিণতি হতে পারে তাজমহলেরও, বাড়ছে আশঙ্কা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

তাজমহল

বাবরির মতোই ধ্বংস করা হতে পারে তাজমহলকেও। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান। বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী জানিয়েছিলেন, চুরি করা জমির উপর তাজমহল তৈরি হয়েছে। তারপরই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন উত্তরপ্রদেশের নেতা।

তাজমহল নিয়ে গত কয়েকদিনে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমের তাজমহলকে বিশ্বাসঘাতকদের তৈরি ও ভারতের ইতিহাসে কলঙ্ক অভিধা দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই চরমে ওঠে বিতর্ক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্টের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি দারুল উলুমের-দৈনিক আনন্দবাজার

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট নিয়ে দেহবন্দের ফতোয়া

আবার ফতোয়া দারুল উলুমের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার উপর নিষেধাজ্ঞা দিল উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দের এই ইসলামিক প্রতিষ্ঠান। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটে নিজের বা অন্য কারও ছবি পোস্ট করা ‘ইসলাম বিরোধী’— নিদান দিয়েছে দারুল উলুম। আর এই ফতোয়াকে ঘিরে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে দওবন্দের ইসলামিক প্রতিষ্ঠানটি।

দারুল উলুমের যে শাখা প্রতিষ্ঠানটির হয়ে বিভিন্ন রকমের ফতোয়া জারি করে, সেই দারুল ইফতা-ই জারি করেছে এ বারের ফতোয়াও। কোনও মুসলিম পুরুষ বা মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের বা পরিবারের কারও ছবি যেন পোস্ট না করেন। এই সব পোস্ট ইসলামের বিরোধী, জানিয়েছে দারুল ইফতা।

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ৯ বছরের বালিকার- দৈনিক আজকাল

শিশুর মৃত্যু

অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের লাইনে দাঁড়িয়েও কোনও সুরাহা হল না। একরকমভাবে বিনা চিকিৎসাতেই মারা গেল ৯ বছরের বালিকা। ঘটনাটি ঘটেছে পাটনার এইমস হাসপাতালে। এমনকী মৃত বালিকার বাবার অভিযোগ, তাঁর মৃত মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের তরফ থেকে কোনও অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার পেশায় শ্রমিক রামবালক নিজের ৯ বছরের মেয়েকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাটনার এইমসে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, বরং তাঁর অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে দেখানোর জন্য কার্ড করাতে লাইনে দাঁড়াতে হয়। গত ছ’‌দিন ধরে তাঁর মেয়ে জ্বরে ভুগছে। রামবালক এবং তাঁর স্ত্রী কাজরা গ্রাম থেকে ১৪০ কিমি দূরে এইমস হাসপাতালে তাঁদের মেয়ের চিকিৎসার জন্য আসেন। তাঁরা লাইনে দাঁড়ানো অন্যান্যদের কাছে অনুরোধ করেন যে, তাঁদের কার্ড করার জন্য আগে যেতে দেওয়া হোক, কিন্তু কেউই তাঁদের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে, রামবালকের মেয়ের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মারা যায়।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৯