আন্তর্জাতিক নারী দিবস
বৈষম্যমুক্ত সমাজে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ; মন্তব্য কর্মজীবী নারীদের
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিউপাড়া এলাকা। নদী কিংবা খালে নৌকায় বসে, বড়শির ছিপ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কোরে মাছ ধরেন, অথবা জাল টেনেও মাছ ধরেন নারীরা। শিকার করা সেসব মাছ বাজারে বিক্রি করেই চলে তাদের অভাবের সংসার। তবে নদ-নদীতে দিনদিন মাছ কমে যাওয়ায়, এখন কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। নারী মৎস্যজীবী হওয়ায়,পায়নি কোন সরকারি সহায়তা।
তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের নিউপাড়া গ্রামের শেফালী, আছিরন, ফুলবিবি ও রোজিনা।তাদের বাবা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে,কিশোর বয়সেই সংসারের হাল ধরেন,চার বোন।বাবার জাল,নৌকা বরশি নিয়ে বেড়িয়ে পরেন আন্ধার মানিক নদীতে। কালের পরিক্রমায় হয়ে যান নারী জেলে।
এই শেফালী বেগম আছিরণদের সংগ্রাম মুখর নারীরাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অন্যদের প্রেরণা। কারণ উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা, জীবিকা, সম্পদ, রাজনৈতিক ক্ষমতা, পরিবার ও সমাজে বাংলাদেশের নারীরা এখনো পুরুষের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে। নারী-পুরুষের সমান সুযোগ, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখনো গোড়ার সমস্যা। গত কয়েক দশকে নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে। সাফল্য আছে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামাজিক পরিস্থিতিতেও। পাশাপাশি কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে আছে নারীর প্রতি সহিংসতা, যা কিনা অর্জনগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলছে। নারী অধিকার–কর্মী ও গবেষকেরা আরও বলছেন, বৈষম্য এবং বৈষম্যের মানসিকতা দূর করে নারীর অবস্থান শক্তিশালী করা না গেলে এ সহিংসতা প্রতিরোধ করা যাবে না। বিশেষ চ্যালেঞ্জ হবে পারিবারিক আইনের সংস্কার এবং সার্বিকভাবে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের দৃষ্টিভঙ্গি দূর করার কার্যকর কৌশল ঠিক করা।
বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন, নারী শিক্ষা, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণে অনেক এগিয়ে গেলেও নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করতে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেসব সংস্কার বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছে। সে জন্য বিশ্বব্যাংকের ‘উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল ২০২২ প্রতিবেদন অনুসারে, নারী-পুরুষ সমতার ক্ষেত্রে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৪।
চলাচলের স্বাধীনতা, কর্মক্ষেত্র, বেতন, বিবাহ, অভিভাবকত্ব, উদ্যোক্তা, সম্পদ ও পেনশন এই আটটি সূচকের ওপর ৩৫টি প্রশ্নের ভিত্তিতে এই স্কোর নির্ণয় করা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৪তম; স্কোর ১০০-এর মধ্যে অর্ধেকের কম, ৪৯ দশমিক ৪। ২০২১ সালেও বাংলাদেশের স্কোর একই ছিল।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই স্কোর ছিল ৩৫। সেই হিসাবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও আর্থিক সুযোগের সমতায় বাংলাদেশের নারীদের অবস্থানে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। এ জন্য সরকারি উদ্যোগে দেশের নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ শত ভাগ আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটি বেতনসহ মঞ্জুর করার তাগিদ দিয়েছেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া জামান রত্না। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারী কর্মীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত না করার জন্যও পরামর্শ এই নারী কর্মজীবীরা। সাথে সাথে কর্মপরিবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি বলেছেন অনেক জোর দিয়েই। #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।