৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হবেন যারা
খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের আবেগ বিএনপিকে শক্তিশালী করবে: মির্জা ফখরুল
-
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে আবেগ-ভালোবাসা, তা বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করবে।
আজ(বৃহস্পতিবার) দুপুরে গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোক বইয়ে স্বাক্ষর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসার কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন বিরল ব্যক্তিত্ব। নীতির প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তিনি সমস্ত জীবন গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা জন্য সংগ্রাম, লড়াই করেছেন। কারাভোগ করেছেন। তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু কখনো এ দেশ ছেড়ে চলে যাননি। এই যে দেশের প্রতি ভালোবাসা, মাটির প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা- এটাই সমস্ত মানুষকে আলোড়িত করেছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিদায়লগ্নে বিপুল মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে তার দেখানো পথে মানুষ গণতন্ত্র চর্চায় সোচ্চার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন তার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই সময় তার চলে যাওয়ায় মানুষ মর্মাহত হয়েছে। সে কারণে দেশনেত্রীর আত্মার মাগফিরাতের জন্য তারা সমবেত হয়েছে, চোখের পানি ফেলেছে। সেখান থেকে মানুষ এই আশা নিয়ে গেছে যে আগামী নির্বাচনে দেশের পক্ষের শক্তি বিএনপিকে তারা বিজয়ী করবে।
খালেদা জিয়ার ৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হবেন যারা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার তিনটি আসনে তার বিকল্প হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারাই দলের প্রার্থী হবেন।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আসনে বিকল্প প্রার্থী থাকায় নির্বাচনি কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত বা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর এমন ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতার কারণে স্থগিত হবার প্রশ্ন আসতে। কিন্তু এখন সে পরিস্থিতি নেই। বাছাইয়ের আগেই তিনি মারা গেছেন।
খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী আর নেই, কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে আছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি খেতাব পেয়েছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। জানাজায় যারা ঢাকায় আসতে পারেননি, তারাও গায়েবে গায়েবে জানাজায় শরিক হয়েছেন। কত মানুষ তার জানাজায় শরিক হয়েছেন, তার পরিসংখ্যান হয়তো ভবিষ্যতে আলাদাভাবে তুলে ধরা যাবে। কারণ শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে ও বিশ্বাস করে—গণতন্ত্রের লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে একজন সাধারণ গৃহিণী কীভাবে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারেন, গণতন্ত্রের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে ম্যাডাম নিজের জীবন, সন্তান, পরিবার সবকিছুই ত্যাগ করেছেন। বলতে গেলে, এ দেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, এ দেশের মাটির জন্য তার যে টান, যে ভালোবাসা, যে দেশপ্রেম—তার কোনো তুলনা নেই।
তিনি বলেন, আমরা তার সেই ত্যাগ, সেই অবদান, সেই দেশপ্রেমকে পাথেয় করেই সামনে শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেষ্টা করব। করতেই হবে—এটাই জাতির দাবি।
তিনি বলেন, আমরা সেভাবেই দেখি—খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন; তিনি সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি সব দল-মতের ঊর্ধ্বে নিজেকে তুলতে পেরেছেন, এবং এ দেশের মানুষ, এ দেশের সবাই তাকে সেই মর্যাদায় আসীন করেছেন।#
পার্সটুডে/জিএআর/১