'ইরানের বিরুদ্ধে যে কোন দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জবাব হবে শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তমূলক'
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157040-'ইরানের_বিরুদ্ধে_যে_কোন_দুঃসাহসিক_পদক্ষেপের_জবাব_হবে_শক্তিশালী_ও_সিদ্ধান্তমূলক'
পার্স টুডে: ইরানের বিরুদ্ধে যে কোন দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জবাবে তেহরান শক্তিশালী সিদ্ধান্ত মূলক ও উপযুক্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ২২:৫০ Asia/Dhaka
  • রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি
    রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি

পার্স টুডে: ইরানের বিরুদ্ধে যে কোন দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জবাবে তেহরান শক্তিশালী সিদ্ধান্ত মূলক ও উপযুক্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানের উচ্চ সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামনেয়ির অন্যতম সিনিয়র ও শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা। 

 শুক্রবার আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শামখানি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জবাবে আমরা শক্তিশালী, সিদ্ধান্তমূলক এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাব।”

তাঁর এই সতর্কবার্তা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।

জানুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প “আরেকটি সুন্দর নৌবহর” ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এবং তিনি বলেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর চালানো হামলার চেয়েও “অনেক ভয়াবহ” পরিণতি হবে।

শামখানি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমাদের সামরিক প্রস্তুতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো পক্ষের ভুল হিসাবের মূল্য হবে উল্লেখযোগ্য।”

তাঁর এই বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘটনাটি, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার সময় সংঘটিত হয়। এর জবাবে ইরান কাতারে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে, যেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছিল, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে—এটি ছিল আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব না দিয়ে ছেড়ে না দেয়ার বার্তা।

শামখানি আঞ্চলিক উত্তেজনায় ইসরায়েলের ভূমিকাও তুলে ধরে বলেন, “ওয়াশিংটনের সরাসরি সমর্থন ছাড়া জায়োনিস্ট তথা ইহুদীবাদী ইসরায়েল কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না।”

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা এই কর্মকর্তা বলেছেন, “যুক্তিসংগত” পথ হলো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলাই সব পক্ষের জন্য যুক্তিসংগত ও বিবেচনাপ্রসূত পথ।” তাঁর এই আহ্বান এসেছে গত শুক্রবার মাসকাটে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নতুন দফা আলোচনাকে “ভালো সূচনা” হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ এবং তা হুমকিমুক্ত, শান্ত পরিবেশে এগোতে হবে।

শামখানি উল্লেখ করেন, ন্যায্য শর্তে কূটনীতি সফল হতে পারে। তিনি বলেন, “আলোচনা যদি বাস্তবসম্মত হয় এবং অতিরিক্ত দাবি থেকে মুক্ত থাকে, তাহলে তা ইতিবাচক পথে এগোতে পারে এবং সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। অঞ্চলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রাজনৈতিক বিকল্পকে শক্তিশালী করা এবং উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।”

ইরানি এ কর্মকর্তারা আরো বলেন, মাসকাটে তাদের প্রধান দাবি হলো কার্যকর ও যাচাইযোগ্যভাবে অর্থনৈতিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

তেহরান জোর দিয়ে বলছে, বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল ছাড়া যে কোনো চুক্তি অর্থহীন। এছাড়া, ইরানের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের আইনি অধিকার এবং এটি কোনোভাবেই আলোচনাযোগ্য নয়। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রসঙ্গে শামখানি বলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা একটি লাল রেখা এবং এটি আলোচনার বিষয় নয়।”

এদিকে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্ভাব্য চুক্তির শর্তে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন।শামখানি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং এর জন্য বিশেষ সমন্বয় প্রক্রিয়া প্রয়োজন।”#

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।