ইরানবিরোধী অবস্থান ও পদক্ষেপের জেরে তেহরানে জার্মান রাষ্ট্রদূতকে তলব
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জার্মান কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ইরানবিরোধী অবস্থান ও পদক্ষেপের প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গতকাল (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপবিষয়ক মহাপরিচালক আলিরেজা ইউসেফি জার্মান রাষ্ট্রদূত অ্যাক্সেল ডিটম্যানকে ডেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানান। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, জার্মানিতে ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জার্মান কর্মকর্তাদের ইসলামি প্রজাতন্ত্রবিরোধী অবস্থানের কারণেই এই তলব।
বৈঠকে ইউসুফি জার্মানির অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, "তেহরানবিরোধী 'সহিংস ও সন্ত্রাসী উপাদান ও গোষ্ঠীকে আশ্রয় ও সমর্থন' দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এর ফলে বার্লিনের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়।"
জার্মান রাষ্ট্রদূত তেহরানের প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে টার্গেট করে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বক্তব্য ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জার্মান কর্তৃপক্ষও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। গত জানুয়ারির শেষ দিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস মন্তব্য করেন, ইরানি সরকারের “দিন ফুরিয়ে আসছে।” ওই মন্তব্যের পরও রাষ্ট্রদূত ডিটম্যানকে তলব করা হয়েছিল।
এদিকে ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত দাঙ্গাকারীরা অর্থনৈতিক বিক্ষোভকে অস্থিরতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুমকি বৃদ্ধি এবং দেশটির চারপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জার্মানি ইরানবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সমাবেশ ও তৎপরতারও আয়োজক হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়, যার মধ্যে সাবেক পাহলভি শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিদার রাজতন্ত্রপন্থীরাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সময়ে মিউনিখ শহরে পাহলভি শাসনব্যবস্থার সমর্থকদের অংশগ্রহণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৮