কাশ্মীর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করল আমেরিকা
-
অ্যালিস ওয়েলস
কাশ্মীর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য ভারতের উপরে চাপ সৃষ্টি করল আমেরিকা। গতকাল (বৃহস্পতিবার) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যালিস ওয়েলস ভারতকে দ্রুত কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা আশার করব খুব দ্রুত কাশ্মীরের অবস্থা স্বাভাবিক হবে। সেখানে সমস্ত বিধিনিষেধ উঠে যাবে এবং যাঁদের এখনও পর্যন্ত আটক করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দেয়া হবে।’
অ্যালিস ওয়েলস বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের আটক অবস্থা ও সেখানকার বাসিন্দাদের উপরে বিধিনিষেধ জারি করা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব দ্রুত অবস্থার উন্নতি হবে। ভারত সরকার কাশ্মীরের অবস্থাকে স্বাভাবিক করে তুলবে এবং যথা সময়ে সেখানে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।’
ভারত-পাকিস্তান উভয়ই চাইলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলেও মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দু’দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমলে গোটা বিশ্বই উপকৃত হবে এবং ওই কারণগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনে মধ্যস্থতা করতেও রাজি।
ভারত আগেই তৃতীয় কোনও পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন ওই কর্মকর্তা পুনরায় মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন।
অ্যালিস অবশ্য চীনে উইঘুর ও তুর্কিভাষী দশ লাখ মুসলিম আটক থাকলেও তা নিয়ে পাকিস্তানকে কিছু বলতে শোনা যায় না বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই, পশ্চিম চীনে আটক থাকা ওই মুসলিমদের নিয়েও ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করবে ও প্রশ্ন তুলবে।’
এদিকে, নিউইয়র্কে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যুর ছাপ পড়েছে। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যখন ভাষণ দেন তখন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি অনুপস্থিত ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে সেখানে পৌঁছে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, তাঁর দেশ ‘কাশ্মীর’-এর অবরুদ্ধ অবস্থা স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনও সম্মেলনে একসঙ্গে যোগ দেবে না, জড়িত থাকবে না।’ পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষণের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও অবশ্য উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির বক্তব্যকে নাটক বলে কটাক্ষ করে এ ধরণের নাটক করে কোনও লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘একটা জিনিস এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, কাশ্মীরের বিষয়টা আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে এই সরকার। দীর্ঘকাল পরে জাতিসঙ্ঘে আবার বিষয়টি এসেছে। স্বভাবতই তাঁরা বলার একটা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিকীকরণ হওয়ার কারণে। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখন কী বলছেন এটাও বোধগম্য নয়। একেক দিন একেকরকমের বিবৃতি দিচ্ছেন। এখন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করার তা ভারত সরকারকেই ঠিক করতে হবে। আরেকটা বিষয় হল প্রধানমন্ত্রী মোদি এখন আন্তর্জাতিকস্তরেও প্রচার করছেন। এটাও কোনোকালে দেখা যায়নি যে ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রচার করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে এটাও কোনোকালে ছিল না। কোনোদিন ভাবাও যেত না। ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীর কোনও সভা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গ হয়ে উঠেছে এটা কোনোদিন ভাবা যায়নি।
ড. আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, এরআগে আমরা দেখেছি, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগিয়ে ভোট প্রচার করেছিলেন, মানুষের কাছে ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত অবশ্য তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এখন দেখা যাক, পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। কিন্তু এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে জম্মু-কাশ্মীর হচ্ছে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা সকলেই জানে যে, বর্তমানে যে দল ভারতে সরকার চালাচ্ছে তাদের কৌশলগত অংশীদার হল আমেরিকা। এখন এই বিষয়গুলোতে তারা কী বলে সেটা দেখার।’#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।