এসপিভি নিয়ে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়া প্রতিশ্রুতি: বাস্তবায়ন কতদূর?
পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার ব্যাপারে ইউরোপীয়রা মুখে অনেক চেষ্টা-প্রচেষ্টার কথা বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ইরানকে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন করছেন না।
সর্বশেষ বুধবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লা দ্রিয়াঁ দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থা এসপিভি শিগগিরই চালু হবে।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি গত বছর এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ এসপিভি চালু করা হবে। কিন্তু ২০১৮ শেষ হয়ে ২০১৯ সালের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এই ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি ইউরোপ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকার পক্ষ থেকে চাপ ও হুমকির কারণে ইউরোপীয়রা মুখে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার কথা বললেও সে প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবরূপ দিতে পারছে না। এখান থেকে বোঝা যায়, স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বা দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছা ইউরোপের নেই। তারা বরং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরানকে দেয়া সহযোগিতার ধরন পরিবর্তন করছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর এই দ্বিধা ও সংশয়কে তেহরান ভালো চোখে দেখছেন না। ইরান বরং দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, পরমাণু সমঝোতা বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তাতে দেশটি সন্তুষ্ট নয় বরং যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি গত সোমবার বলেন, কখনো আগে থেকে পরমাণু সমঝোতা ত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা তার দেশের নেই। তবে ইউরোপীয়রা যদি পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেহরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে না পারে তাহলে ইউরোপের অপেক্ষায় না থেকে এই সমঝোতার ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।তবে আমেরিকা ওই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও এতে স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এবং চীন ও রাশিয়া পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকার ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে এসব দেশ ইরানকেও পরমাণু সমঝোতা ত্যাগ না করার আহ্বান জানায়।
ইরান তাদের আহ্বানের জবাবে বলেছে, পরমাণু সমঝোতা থেকে পাওয়া সুবিধা ইউরোপীয় দেশগুলো নিশ্চিত করতে পারলে তেহরান এই সমঝোতায় অটল থাকবে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়েই ইউরোপ বহির্বিশ্বের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জন্য ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকেল’ সিস্টেম বা এসপিভি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অবিলম্বে ওই ব্যবস্থা চালু না হলে ইরান পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
এদিকে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি ইউরোপকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তার দেশ মাত্র তিন থেকে চারদিনের প্রস্তুতিতে ২০ মাত্রায় ইউরিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ থেকে পাঁচ-এর নীচে নামিয়ে এনেছিল।
যাই হোক, পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের আর্থিক লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা এখন ইরানের অকাট্য অধিকার। ইউরোপ শেষ পর্যন্ত সে অধিকার প্রদান করে নাকি ইরান বিরক্ত হয়ে পরমাণু সমঝোতা পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৪