আইএইএ'র জরুরি বৈঠক: ইরানের বিরুদ্ধে সবাইকে দাঁড় করানোই আমেরিকার উদ্দেশ্য
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা ধ্বংস করার জন্য আমেরিকা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরছে। এরই অংশ হিসেবে আমেরিকা আজ ইরানের ব্যাপারে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে।
পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপকে দেয়া ইরানের ৬০ দিনের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর ইরান গত ৭ জুলাই রবিবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। অর্থাৎ চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ৩.৬৭ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কথা থাকলেও এখন থেকে আরো বেশী মাত্রায় সমৃদ্ধ করবে ইরান। তেহরান হুমকি দিয়ে বলেছে, পরবর্তী আরো ৬০ দিনের মধ্যে ইউরোপ যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করে তাহলে ইরান তৃতীয় ধাপের কাজ বাস্তবায়ন করবে।
ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করায় গত ১ জুলাই ইরান প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের মজুদ ৩০০ কেজি ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ইরানের এসব পদক্ষেপের অর্থ এ নয় যে দেশটি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে চায় কিংবা এটি লঙ্ঘন করতে চায়। ইরান এমন সময় এসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানাল যখন আইএইএ'র ১৫টি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান এ চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলেছে। এ সংস্থার মহাসচিব ইউকিয়া আমানো গত সোমবার জানিয়েছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ব্যাপারে আইএইএ'র জরুরি বৈঠক ডাকার পেছনে আমেরিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে আমেরিকার বেআইনি ইস্যু বা পরিকল্পনা উত্থাপন করা। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি আমেরিকার আহবানে জরুরি বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "আইএইএ'র নির্বাহী বোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে কেবল পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরি করা। অন্য কিছু নয়।"
আমেরিকা পরমাণু ইস্যুর বাইরে গিয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে এনে আন্তর্জাতিক সমাজকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় পরমাণু সমঝোতা যদি হুমকির মুখে পড়ে কিংবা এ ইস্যুতে যদি আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয় তার জন্য আমেরিকা দায়ী থাকবে। খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ নওম চমস্কি বলেছেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্ব চিন্তিত অথচ এ অঞ্চলের প্রকৃত হুমকি হচ্ছে, দখলদার ইসরাইল। যারা কিনা বিশ্ব শক্তিগুলোর সহায়তায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশাল পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে।
যাইহোক এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করতে হলে আমেরিকাকে অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে। ইরান এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রমাণ দিয়েছে । এখন চুক্তিতে সইকারী অন্য দেশগুলোকে তাদের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০