আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা: ট্রাম্পের নরম প্রতিক্রিয়া
মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় জেনারেল কাসেম সোলাইমানি শহীদ হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইরাকে অবস্থিত আমেরিকার দুটি বিমান ঘাঁটিতে এক ডজনের বেশী ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছে। এর আগে ইরানের যে কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কয়েকগুণ বেশি প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের নরম প্রতিক্রিয়া থেকে তার আতঙ্কিত হয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।
ইরান প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করলে পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে গত ক'দিন ধরে ট্রাম্প হুমকি ধমকি দিয়ে আসলেও গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তিনি নরম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি স্রেফ ইরানের ব্যাপারে তার অতীতের দাবিগুলোর পুনরাবৃত্তি করে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান বিরোধী অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাকে গুরুত্বহীন ও খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, "ইরানের হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি এবং মার্কিন ঘাঁটিরও খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সময় ইরানের কঠোর প্রতিশোধকে হাল্কা করে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন যখন স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানের আইআরজিসি'র একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমেরিকার অন্তত ৮০ সন্ত্রাসী সেনা নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২০০ জন।
প্রকৃতপক্ষে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের মুখোমুখি হওয়া থেকে বিরত থাকেন। এর অন্যথায় এর বিপদজনক পরিণতির বিষয়ে তিনি ভালভাবেই অবহিত আছেন। এ কারণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে গুরুত্বহীন করে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে চলেছেন এবং এখনো ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতিতে অটল আছেন। তিনি ইরানের কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জেনারেল সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলছেন। তবে প্রতিশোধ নিলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। গত শনিবার তিনি কঠোর হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে তাহলে তেহরানকে কঠিন ও কয়েকগুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি এও দাবি করেছিলেন, ইরানের যেকোনো হামলা মোকাবেলায় ওয়াশিংটন প্রস্তুত।
এ দিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফের দাবি করেছেন ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ট্রাম্প এও বলেন তিনি যতদিন ক্ষমতায় আছেন ততদিন ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেব না। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তার এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রতিবেদনের ঠিক বিপরীত। ধারণা করা হচ্ছে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার মাধ্যমে ট্রাম্প যে অন্যায় করেছেন সেটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্যই তিনি পুরানো ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা টেনে এনেছেন।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯