ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা অপসারণে ইউরোপের ব্যর্থতা: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
-
সাঈদ খাতিবযাদে
যুক্তরাষ্ট্র বেআইনিভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও ইরান এক বছর পর্যন্ত নিজের প্রতিশ্রুতিতে অটল ছিল। ওই সময়টিতে ইরান যাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে না যায় সেজন্য ইরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল ইউরোপ। একইসঙ্গে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার পাশাপাশি এ চুক্তি থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দেবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে কথা ইউরোপ রাখেনি।
যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান অনেক ধৈর্য ধরেছে এবং ইউরোপকে তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছে। পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত ইউরোপের তিনটি দেশ অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ১১টি পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল স্ল্যাপব্যাক পদ্ধতি চালু করা যাতে ইরান সহজে অন্য দেশের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করতে পারে। কিন্তু ইউরোপ আজ পর্যন্ত ওই পদ্ধতি চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন চাপের কাছে তারা চরম অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে নিজেদের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি পালনে অক্ষমতা সত্বেও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাইকো ম্যাস দাবি করেছেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘণ করেছে। এমন সময় তিনি এ দাবি করলেন যখন নিজেও সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বীকার করেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপ ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদে সংবাদ এক সম্মেলনে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা যেন মনে রাখে ইতিহাস সব কিছুর বিচার করবে এবং তারা দেখতে পাবে কোন পক্ষ পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে অক্ষমতা দেখিয়েছে এবং কোন পক্ষ প্রতিশ্রুতি পালন করেছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, ইউরোপ ভাল করেই জানে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে ভয়াবহ ও খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে গিয়ে আমেরিকা এখন অন্য দেশকেও এ থেকে বেরিয়ে যেতে উস্কানি দিচ্ছে। এ অবস্থায় ইউরোপ কেন মার্কিন স্বেচ্ছাচারিতার কাছে নতি স্বীকার করেছে এবং কেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে দায়ী করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, হয় তাদেরকে নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন ও পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে অথবা তাদেরকে ভুল পথ বেছে নিতে যার পরিণতিতে পরমাণু সমঝোতা ধ্বংস হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন বলদর্পী শক্তির অন্যায় আবদারের কাছে নতি স্বীকার করলে তা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাড়াবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬