জুন ২০, ২০২৪ ২০:২৩ Asia/Dhaka
  • নিউইয়র্ক টাইমস: ইসরাইল ক্রমেই কোণঠাসা হচ্ছে; ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল সামরিক-কূটনৈতিক বিকল্পহীন

পার্সটুডে-মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পার্সটুডে-বেনিআমিন নেতানিয়াহু তার ধ্বংসাত্মক নীতিগুলোর মাধ্যমে ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে দিনকে দিন বেশি একঘরে করছেন।

দৈনিকটি লিখেছে, শান্তির সময়ই ইসরাইলের নীতিমালা উন্মাদনাময়, কিন্তু যুদ্ধের সময় সেসব পরিপূর্ণ উন্মাদনায় ভরপুর হয়ে ওঠে। ইসরাইল প্রতিদিনই বন্ধু হারাচ্ছে। কারণ কোনো দেশই এইসব নীতির সহযোগী বা সহযোগিতাকারী হতে চায় না। 

পার্সটুডে জানিয়েছে, বিশিষ্ট মার্কিন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক টমাস ফ্রেডম্যান কিছুকাল আগে একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে ইসরাইলের নীতিমালাগুলো ধ্বংসাত্মক। তার ওই প্রবন্ধের নাম: যে ইসরাইলকে আমি চিনতাম তা ধ্বংস হয়ে গেছে।

নেতানিয়াহুর দল ও চরম উগ্র ডানপন্থীদের দলের যে জোট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল সে বিষয়ে ফ্রেডম্যান লিখেছেন: এই জোটের চরমপন্থী হওয়ার বিষয়ে আমি যখন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলাম তখন অনেকেই আমার বিরোধিতা করেছিলেন।এখন ঘটনা-প্রবাহ দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা ভুল করছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি এমনকি অতীতের চেয়েও অনেক শোচনীয় হয়েছে... ইসরাইল এখন বিপদের মধ্যে রয়েছে।

এই মার্কিন বিশ্লেষক স্বীকার করেছেন যে ইসরাইল এখন ইরানের মুখোমুখি হয়েছে যে ইরান একটি আঞ্চলিক শক্তি। ইরানের মোকাবেলায় ইসরাইলের নেই কূটনৈতিক জবাবের বিকল্প ও নেই সামরিক বিকল্প। ফ্রেডম্যানের মতে ইসরাইল গাজা, লেবানন ও পশ্চিম তীরেও যুদ্ধের সম্ভাবনার মুখোমুখি। তিনি এ প্রসঙ্গে লিখেছিলেন: হিজবুল্লাহর এমনসব নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যে সেগুলো ইসরাইলের এক বিশাল অঞ্চলের অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে। ইসরাইলের বিমানবন্দরগুলো ও নৌ-বন্দরগুলো থেকে শুরু করে সামরিক ঘাঁটিগুলো ও বিদ্যুৎ-কেন্দ্রগুলোও ধ্বংস হবে।

ফ্রেডম্যানের মতে ইসরাইলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এমনসব ব্যক্তিরা যারা কেবল নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট এবং তারা চায় যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে যাতে বিচার ও কারাবাসের শিকার না হয়। ফ্রেডম্যানের বিশ্বাস, নেতানিয়াহু নিজের আত্মাকে বিক্রি করে দিয়েছে যাতে চরম ডানপন্থী ইহুদিবাদীদের নিয়ে একটি মন্ত্রীসভা গঠন করা যায়। 

এদিকে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাক সম্প্রতি বলেছেন, নেতানিয়াহু যদি ক্ষমতা না ছাড়ে তাহলে তেলআবিব শিগগিরই নিজেকে এমন অবস্থায় দেখতে পাবে যে একদিকে গাজায় যুদ্ধ চলছে, আর উত্তরে হিজবুল্লাহ সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে এবং পশ্চিম তীরেও সে তৃতীয় ইন্তিফাদার মুখোমুখি। বারাক আরও বলেছেন, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন ও ইরাকের প্রতিরোধ ফ্রন্ট ইসরাইলে আঘাত হানছে এবং ইরানও ইসরাইলের মোকাবেলায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। 

টমাস ফ্রেডম্যান আরও লিখেছেন, এইসব সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম এশিয়ায় এক ব্যাপক যুদ্ধের দিকে টেনে নিচ্ছে। পাশ্চাত্যের আরও অনেক বিশ্লেষকের মত এই বিশ্লেষকও মার্কিন সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ দিতে যাতে ইহুদিবাদী বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইল যুদ্ধ-বিরতি মেনে নেয় এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করে। বর্তমান পরিস্থিতির অন্য অনেক সমালোচকের মত তিনিও নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও অধিকৃত ফিলিস্তিনে তথা ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছেন। 

ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার সদস্য বেনি গান্তজ্ প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং মেয়াদপূর্ব নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন। আর এদিকে এই মন্ত্রীসভার চরমপন্থী সদস্যরা আরও বেশি ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

               
 

ট্যাগ