ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি কোনও রসিকতা নয়: ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক
-
• ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি
পার্সটুডে- ইরানের সাথে যেকোনো সংঘর্ষের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং সামরিক ক্ষমতা তেল আবিবের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ এবং ইসরায়েলের শক্তিকে অতিরঞ্জিত ও বড় করে তুলে ধরা উচিত নয়।
ইসরায়েলি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইরান সম্পর্কে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে নেতানিয়াহুর অতিরঞ্জিত বক্তব্য ইসরায়েলের নিরাপত্তায় কোনও পরিবর্তন আনবে না। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট জোর দিয়ে বলেছেন যে নেতানিয়াহুর এসব বড় বড় কথা কেবল প্রত্যাশা তৈরি করে এবং মানুষকে উদ্বিগ্ন করে।
ইসরায়েল ইরানের উপর কোনও পূর্বনির্ধারিত আক্রমণ চালাবে না উল্লেখ করে ওলমার্ট বলেন, ইসরায়েলের ক্ষমতা অতিরঞ্জিত করা উচিত নয় এবং এটি ভাবা উচিত যে এই ইসরায়েল ইরানকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তিনি বলেন যে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ ইরানের উপর আক্রমণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে। তার মতে, ইরানে আক্রমণের মূল্য "অত্যন্ত ভারী" এবং ইসরায়েলি সমাজের "অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের অবস্থায়" প্রবেশ করার কোনও প্রয়োজন নেই।
তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তৈরি বর্তমান পরিবেশের সমালোচনা করে বলেন যে ইরানের আক্রমণের সম্ভাবনার উপর ক্রমাগত মনোযোগ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং নেতানিয়াহুর বক্তব্য সমাজে অযৌক্তিক ভয় তৈরি করেছে। ওলমার্ট ক্ষমতাসীন জোটকে "পুতুল সরকার" হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
প্রতিক্রিয়ার আরেকটি অংশে, সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান বলেছেন যে নাভাতিম ঘাঁটিতে আক্রমণসহ ইসরায়েলি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলিকে লক্ষ্য করে ইরান আবারও হামলার হুমকি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন: ইরানি আক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো পূর্বাভাস দেওয়া এবং আগে থেকে সেগুলি সরিয়ে নেওয়া কার্যত অসম্ভব। লিবারম্যানের মতে, ১২ দিনের যুদ্ধের পর, ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মান বৃদ্ধি করেছে এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
লিবারম্যান বলেছেন যে ইরানিদের দ্বারা ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউটে হামলা এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে এর ফলে সমস্ত ধরণের অতী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, অনুসন্ধান এবং কয়েক দশকের গবেষণা ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধ সরঞ্জামের তুলনা করে তিনি আরও বলেন: "আজকের যুদ্ধের বেশিরভাগ অংশই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং কোয়াডকপ্টার দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ইরানের কাছে ক্লাস্টার ওয়ারহেডসহ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে ১,৮০০ কিলোগ্রাম ওয়ারহেডও রয়েছে।" ইহুদিবাদী সংবাদপত্র হারেৎজ আরও লিখেছে যে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে অথবা হিজবুল্লাহর মাধ্যমে লেবাননের সীমান্তে চাপ প্রয়োগ করে ইসরায়েলের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে। সংবাদপত্রটি ইয়েমেনি বাহিনীর সংঘাতে যোগদানের সম্ভাবনাও উত্থাপন করেছে। ইহুদিবাদী সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথও জানিয়েছে যে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে বর্তমান উত্তেজনা ইরানের পক্ষে শেষ হয়েছে এবং এটি ইসরায়েলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি নয়। তবে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা পরিষেবা ইরানের ভেতর থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ লাইন কেটে ফেলার ফলে তথ্যপ্রাপ্তি সীমিত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ একটি নোটে লিখেছেন যে ইরানে আক্রমণ করার কোনও মার্কিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, ইরান বিক্ষোভ দমন করতে সক্ষম হয়েছে এবং বর্তমানে কোনও অর্থবহ প্রতিবাদ আন্দোলন নেই এবং মার্কিন সামরিক হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।
সিট্রিনোভিচ লিখেছেন যে কেবল বিমান হামলার সাফল্যের কোনও রেকর্ড নেই এবং কম খরচে বিজয়ের কোনও গ্যারান্টি নেই। বরং মার্কিন হামলা ইরানি সরকারের প্রতি জনসাধারণের সমর্থন বাড়াবে এবং ইরানের এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।