ইরান-ইসরায়েলের স্বল্পস্থায়ী নয়া যুদ্ধ কী বার্তা দিলো!
-
ইরান-ইসরায়েল নয়া যুদ্ধের বার্তা
পার্সটুডে-অবশেষে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার সংঘাত রোববার শুরু হয়।
লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এ যুদ্ধের সূচনা হলেও এটি ছিল স্বল্পস্থায়ী। তবে অল্প সময়ের এই যুদ্ধ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
প্রথম বার্তা হলো, এই নতুন ও স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল এখনও ইরান-আমেরিকা আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ধ্বংসাত্মক ও বিঘ্ন-সৃষ্টিকারী ভূমিকা পালন করছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে-কোনো সমঝোতার বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েল, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে বারবার হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে। হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানাতে এবং বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সংঘাতে জড়ায়। একই সময়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবিও করেছিলেন–তেহরান-ওয়াশিংটন সমঝোতা অচিরেই চূড়ান্ত হতে পারে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হলো, মিত্রদের রক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দৃঢ় ও অটল অবস্থান। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের নিয়ে তেহরান তাদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো তথাকথিত “প্রতিরোধ অক্ষ” বা রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের বিষয়টি। ইসরায়েলের দাবির বিপরীতে, এই জোট দুর্বল হয় নি বরং এর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় আরও প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেন থেকেও অধিকৃত ভূখণ্ডের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই পদক্ষেপ ঐক্যেরই প্রতিফলন।
এ যুদ্ধের আরেকটি বার্তা হলো-আরব বিশ্বের ব্যাপক নীরবতার মধ্যে একটি আরব দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার পক্ষে ইরানের অবস্থান। ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার ফলে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা কার্যত দখল হয়ে আছে বলে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে অবশ্য অধিকাংশ আরব দেশ কার্যকর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় নি। এর আগে সিরিয়ার কিছু ভূখণ্ড দখলের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীরবতা দেখা গিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে ইরান সামরিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে। ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে, আলোচনার টেবিলে বসে তারা প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যান্য অংশকে নিজেদের থেকে আলাদা করে দেখবে না। তাদের মতে, একটি টেকসই সমঝোতা তখনই সম্ভব হবে যখন সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ঘটবে। এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের-তারা কি তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোবে, নাকি বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে।
সবশেষে বলা যায়, ইরান-ইসরায়েলের এই যুদ্ধ ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে শেষ হয়ে গেলেও এটি প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে পরিচালিত ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে ইরান মেনে নেবে না।#
পার্সটুডে/এনএম/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।