কুর্দিস্তানে গণভোটের কেন বিরোধিতা করছে ইরান?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i44468-কুর্দিস্তানে_গণভোটের_কেন_বিরোধিতা_করছে_ইরান
ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, ইরাকের শ্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান এলাকার স্বাধীনতা প্রশ্নে সম্ভাব্য গণভোটের যে তোড়জোড় চলছে তা গত কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ১৯, ২০১৭ ১৪:১৪ Asia/Dhaka

ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, ইরাকের শ্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান এলাকার স্বাধীনতা প্রশ্নে সম্ভাব্য গণভোটের যে তোড়জোড় চলছে তা গত কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ইরানের সেনা প্রধান গতকাল (শুক্রবার) তিন দিনের তুরস্ক সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তেহরান ও আঙ্কারা মনে করে, কুর্দিস্তান এলাকা আলাদা হয়ে গেলে ইরাকে দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত ও যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠতে পারে এবং এর ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে ইরান ও তুরস্কও রেহাই  পাবে না। কুর্দিস্তান ইরাক থেকে আলাদা হয়ে গেলে ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইরানের সেনা প্রধান বলেছেন, এটা ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি বলেন,  তবে কুর্দিদের এটা জেনে রাখা উচিত তারা এমন এক ভৌগোলিক অবস্থানে আছে যেখানে একদিকে রয়েছে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার অন্যদিকে রয়েছে ইরান, তুরস্ক ও সিরিয়া এবং এই চারটি দেশই কুর্দিস্তানে গণভোটের বিরোধী।

পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যখন উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে মোকাবেলায় সবাই ব্যস্ত তখন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ইরাকের কুর্দিস্তানে গণভোটের সিদ্ধান্ত এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে। কুর্দিস্তানের স্বাধীনতা প্রশ্নে ইরাকের সরকার বিরোধী সংগঠনগুলোতো বটেই প্রতিবেশী সব দেশই সেখানে গণভোটের প্রচণ্ড বিরোধী। তবে কীভাবে গণভোটের বিরোধিতা করা হচ্ছে সেটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের কোনো কোনো দেশ এমনকি ইরাকের কোনো কোনো গ্রুপ বা সংগঠন কুর্দিস্তানে গণভোট দেয়ার সময় এখনো আসেনি বলে মনে করে। কিন্তু ইসলামি ইরান, তুরস্ক, ইরাক ও সিরিয়া স্পষ্ট বলে দিয়েছে যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা কুর্দিস্তানে গণভোটের বিরোধী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার জন্য কুর্দিস্তানে সম্ভাব্য গণভোট বিপদজনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ মেয়াদে বিভেদ, যুদ্ধ ও সংঘাতের সূচনা করবে। এ অবস্থায় কেবলমাত্র এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর শত্রুরাই লাভবান হবে। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানির প্রস্তাবিত গণভোটের প্রতি দখলদার ইসরাইল সমর্থন জানিয়েছে এবং এর পেছনে তেলআবিবের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা হচ্ছে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো। ইসরাইল অবশ্য অনেক আগে থেকেই ফিলিস্তিন সমস্যা থেকে শুরু করে যেকোনো সংকটের ছায়াতলে তার ওই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে।

ইসরাইলসহ মুসলিম দেশগুলোর অভিন্ন শত্রুরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ কারণে ইরানের সেনা প্রধান কুর্দিস্তানে সম্ভাব্য গণভোটের ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, এ বিষয়টি দীর্ঘ মেয়াদে এ অঞ্চলে সংঘাতের বীজ বপন করতে পারে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে ইরাকের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানি সব কুর্দি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। আর স্বাধীনতা প্রশ্নে প্রস্তাবিত গণভোট কুর্দিদের অধিকার রক্ষা করবে না। এ ব্যাপারে ইরানের রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. সালেহি বলেছেন, খোদ কুর্দিস্তানের জনগণ স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের ব্যাপারে একমত নয়। কিন্তু তারপরও মাসুদ বারাজানি নিজেকে কুর্দিদের স্বার্থ দেখাশোনাকারী বলে দাবি করে থাকে।

যাইহোক, মাসুদ বারাজানি মধ্যপ্রাচ্যে আর্থ-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে এনেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। এমনকি স্থানীয় সংসদও তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। #

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৯