বিশ্বের মানবাধিকার ব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান চীনের
https://parstoday.ir/bn/news/world-i163590-বিশ্বের_মানবাধিকার_ব্যবস্থা_সংস্কারের_আহ্বান_চীনের
পার্সটুডে- চীন বিশ্বের ৭১টি দেশের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ বা বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উদ্যোগের আলোকে এ সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে।
(last modified 2026-10-01T14:47:02+00:00 )
অক্টোবর ০১, ২০২৬ ১৯:২১ Asia/Dhaka
  • জাতিসংঘ
    জাতিসংঘ

পার্সটুডে- চীন বিশ্বের ৭১টি দেশের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ বা বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উদ্যোগের আলোকে এ সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে।

পার্সটুডের বরাতে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি জিয়া গুই দে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে ৭১টি দেশের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানান। তিনি বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থায় ন্যায়সংগত, যৌক্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থায় বড় ধরণের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে চীন চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।

প্রথমত, মানবাধিকার ব্যবস্থায় জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি দেশের জনগণ যেন নিজেদের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও উন্নয়নের মাধ্যমে নিজস্ব চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং মানবাধিকারের মূল লক্ষ্য সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সার্বভৌম সমতার নীতি মেনে চলতে হবে। বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থায় সব দেশের সমান অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সুফল ভোগের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মতামতকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা, বৈষম্যমূলক আচরণ ও রাজনীতিকীকরণ পরিহার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।

তৃতীয়ত, ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর বিরোধিতা করতে হবে। সব ধরনের মানবাধিকারের প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন মেনে চলতে হবে এবং জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতিমালা সমুন্নত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের সমান ও ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্বৈতনীতি, মানবাধিকারের অজুহাতে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্যের ওপর নিজস্ব মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করতে হবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উদ্যোগ উত্থাপনের এক বছরেরও বেশি সময় পর জেনেভাভিত্তিক ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্সের বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ’ গ্রুপের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তৈরি ও উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরানও এ গ্রুপের সদস্য।#

পার্সটুডে/এসএ/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।