কাবুল সরকারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করছে মাত্র ৫০০ ব্রিটিশ সেনা!
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন দাবি করেছেন, আফগানিস্তান থেকে তার দেশের সেনা প্রত্যাহার করা হলে কাবুল সরকারের পতন হবে এবং সে দায় সরাসরি লন্ডনের ওপর পড়বে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো দাবি করেন, আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার করা হলে দেশটিতে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেবে যার ফলে সেদেশ থেকে ইউরোপ অভিমুখে অন্তত ৪০ লাখ শরণার্থীর ঢল নামবে। ফ্যালন বলেন, আফগান সরকার ব্রিটেনের কাছে সাহায্য চেয়েছে এবং দায়িত্ব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে কাবুলের পাশে থাকতে হবে বলে আমি মনে করি।
আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার করা হলে কাবুল সরকারের পতন ঘটবে বলে এমন সময় মাইকেল ফ্যালন দাবি করলেন যখন আফগানিস্তানে ব্রিটেনের মাত্র ৫০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। এসব সেনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা সরাসরি আফগানিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষার কোনো কাজেও জড়িত নেই।
এ ছাড়া, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাবুল সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে যুদ্ধ তৎপরতার ইতি ঘটিয়েছে পশ্চিমা সেনারা। এসব সেনা বর্তমানে আফগানিস্তানে অবস্থান করছে শুধুমাত্র আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়ার জন্য। ২০১৪ সালের পর ব্রিটেনসহ কোনো পশ্চিমা দেশের সেনাদেরকে সরাসরি তালেবান বা অন্য কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে হয়নি।
আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব বর্তমানে পালন করছে আফগান পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এ ছাড়া, ২০০১ সালে ইঙ্গো-মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান দখল করার পর থেকেই ব্রিটিশ সেনারা হেলমান্দ প্রদেশে মোতায়েন ছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত যতদিন পশ্চিমা সেনারা তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে ততদিনও ব্রিটিশ সেনারা কখনোই কাবুলে মোতায়েন ছিল না। কাজেই হেলমান্দে বসে মাত্র ৫০০ ব্রিটিশ সেনা কীভাবে কাবুল সরকারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করছে তা পর্যবেক্ষকদের বোধগম্য নয়।
তারা বলছেন, ২০০১ সালে হেলমান্দ প্রদেশে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের পর সেখানে জঙ্গি হামলা এবং মাদকের চাষ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। অথচ ব্রিটিশ সেনাদেরকে এই দু’টি সমস্যা কমিয়ে আনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কাজেই দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত যখন আফগানিস্তানে হাজার হাজার ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন ছিল তখনই তারা তাদের দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থ হয়েছে। আর এখন যখন তাদের সংখ্যা মাত্র ৫০০ তখন স্বাভাবিকভাবেই আফগানিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষার ওপর এসব সেনার কোনো হাত নেই।
এ ছাড়া, আফগান সরকারই ব্রিটেনের কাছে দেশটির সেনা মোতায়েন রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বলে মাইকেল ফ্যালন এমন সময় করেছেন যখন কাবুল সরকার দেশটিতে বিদেশি সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির বিরোধিতা করছে এবং আগে থেকে মোতায়েন বিদেশি সেনাদেরকে যুদ্ধ তৎপরতায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সরকার নিজের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার যে বাসনা পোষণ করছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলোর সামনে ব্রি আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মারাত্মক ঝুঁকিপুর্ণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২১