মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট: সরকারের মধ্যে মতবিরোধের আলামত
https://parstoday.ir/bn/news/world-i55006-মিয়ানমারের_নতুন_প্রেসিডেন্ট_উইন_মিন্ট_সরকারের_মধ্যে_মতবিরোধের_আলামত
মিয়ানমারের নয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সংসদ স্পিকার উইন মিন্ট। তিনি দেশটির বর্তমান স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি'র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ২৯, ২০১৮ ১১:৫৭ Asia/Dhaka

মিয়ানমারের নয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সংসদ স্পিকার উইন মিন্ট। তিনি দেশটির বর্তমান স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি'র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।

তিন চিয়াও প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার পর নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট স্পিকারের পদ থেকে সরে যান এবং সংসদের ৪০৩ ভোট পেয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। গত বছর রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যা ও জুলুম নির্যাতনের ব্যাপারে পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট তিন চিয়াও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হন। রাখাইনে মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে তিন চিয়াও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বিশ্বের বহু দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা তাকে তিরস্কার করে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তিন চিয়াও-এর পদত্যাগের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার বিষয়ে স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি'র সঙ্গে তার তীব্র মতবিরোধ রয়েছে।

গত বছরের ২৫আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং আট হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এ ছাড়া ১১ লাখের বেশি মুসলমান প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমারের কর্মকর্তারা রাখাইনে মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালানো এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করলেও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘটনা থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের মধ্যে মতবিরোধের আলামত পাওয়া যায়। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যান্থনিও কার্তালুচি বলেছেন, "সত্যিকারের জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলতে যা বোঝায় তা মিয়ানমারের রাখাইনে ঘটেছে।"

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তিন চিয়াওএর পদত্যাগের ঘটনায় আরেকটি যে বিষয় ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে এটা রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপের ফল হতে পারে। অবশ্য এ ধারণাও পোষণ করা হচ্ছে যে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে তাকে উপেক্ষা করায় তিনি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। তার এ পদত্যাগের পেছনে এটাও কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যাইহোক, প্রায় চার মাস আগে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে চুক্তি সই হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৯