মিয়ানমারে সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের তীব্র সমালোচনা করল উগ্র বৌদ্ধ নেতা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i65054-মিয়ানমারে_সেনা_কর্মকর্তাদের_বিচারের_তীব্র_সমালোচনা_করল_উগ্র_বৌদ্ধ_নেতা
মিয়ানমারের একদল উগ্র বৌদ্ধ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইয়াঙ্গুন শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এই সমাবেশে মিয়ানমারের বিন লাদেন নামে খ্যাত উগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা অশিন ভিরাথু সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ১৫, ২০১৮ ১৪:৪২ Asia/Dhaka

মিয়ানমারের একদল উগ্র বৌদ্ধ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইয়াঙ্গুন শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এই সমাবেশে মিয়ানমারের বিন লাদেন নামে খ্যাত উগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা অশিন ভিরাথু সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এই বৌদ্ধ নেতা মিয়ানমারের কসাই নামেও কুখ্যাতি অর্জন করেছে। এমন সময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমাজের নীতি অবস্থানের সমালোচনা করলেন যখন গত মার্চ মাস পর্যন্ত উগ্র কথাবার্তার কারণে তার বক্তব্য প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ। কিন্তু আবারো তিনি নিজ সমর্থকদের মাঝে ফিরে আসায়, উগ্র কথাবার্তা বলা শুরু করায় এবং এমনকি খুনি সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি সমর্থন দিয়ে সমাবেশ করায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর আবারো গণহত্যা শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ উগ্র নেতা অশিন ভিরাথু'র বক্তব্য প্রকাশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তাতে বোঝা যায়, সমাজে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াতে পারে এমন বক্তব্য প্রকাশের বিরোধী অন্য বৌদ্ধ নেতারা। কেননা বৌদ্ধ ধর্ম যেকোনো ঘৃণা ও বিদ্বেষ পরিহার এবং শান্তির ধর্ম হিসাবেই খ্যাত। এ কারণে অশিন ভিরাথু'র উগ্র তৎপরতা রোধে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে মিয়ানমারের জনগণ আশা করছে। অশিন ভিরাথু'র উগ্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে অন্য উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ইতিহাসের ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল মাসেরি বলেছেন, "মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মুসলমানদেরকে পুরোপুরি উৎখাত করার জন্য নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে এবং উগ্র বৌদ্ধরাও সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করছে। অথচ শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মের মূল ভিত্তি।"

রোহিঙ্গা ক্যাম্প

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদেরকে ধর্ষণ এবং এরপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। এ কারণে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ছয় সেনা কর্মকর্তার বিচারের দাবি জানিয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এর প্রতিবাদে মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ নেতা অশিন ভিরাথু হুমকি  দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কোনো বিচারক যদি রোহিঙ্গাদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করতে মিয়ানমারে আসে তাহলে আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নেব। অন্যদিকে মিয়ানমারের সেনা প্রধান বলেছেন, তাদের বিচার করা কিংবা সেদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার জাতিসংঘ কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নেই। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫