ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর
কানাডা-দুবাই ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরলেন ডা. মুরাদ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১২ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম :
- মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত একপেশে : কাদের -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তথ্যমন্ত্রী-প্রথম আলো
- আওয়ামী লীগ নয়, দেশ চালায় আমলারা: ফখরুল- দৈনিক মানবজমিন
- সৌদিতে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশ: যুগান্তর
- দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়নি: আইনমন্ত্রী -দৈনিক ইত্তেফাক
-
তাহলে মুরাদ এখন কোথায়? : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- দলের কর্মীদের একাংশের কারণেই নন্দীগ্রামে হেরেছেন মমতা, ভাইরাল শীর্ষনেতার অডিয়ো-আনন্দবাজার পত্রিকা
- ব্যাংক ডুবলে চিন্তা নেই, সবার টাকা সুরক্ষিত’, আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির- প্রতিদিন
- সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে উপস্থিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়ার আলম, রাখলেন মূল্যবান বক্তব্য ’ আজকাল
শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি-
কথাবার্তার প্রশ্ন
কথাবার্তার প্রশ্ন (১২ ডিসেম্বর)
১. ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে চার জেলায় ডিজিটাল আইনে মামলা। এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবর। কীভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?
২. রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছরের সহযোগিতা চুক্তি করতে যাচ্ছে ইরান। এর আসল উদ্দেশ্য কী?
মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত একপেশে : কাদের -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত একপেশে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ রবিবার সকালে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে ব্রিফিংকালে এমন কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরো বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত দেশের ভেতরে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করবে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে খাদ্যসংকটের সময় ১৯৭৪ সালে কিউবার কাছে পাট বিক্রির অজুহাতে খাদ্যবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছিল আমেরিকা।’ তিনি বলেন, '৭১-এর গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ এবং '৭৫-এর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে আছে, তবুও বন্ধুত্বের প্রশ্নে স্পর্শকাতর এ বিষয়গুলোকে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দিইনি আমরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় এবং অভিন্ন ইস্যুসহ বহুপক্ষীয় ইস্যুতে দুই দেশ নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন লগ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি সিদ্ধান্তে আমরা বিস্মিত এবং ব্যথিত হয়েছি।
র্যাব একটি এলিট ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ দমনে এই বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারির পরিচয় দিয়ে কাজ করছে বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। এ বাহিনীর কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় এ বাহিনীর অন্তত সাতজন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল। কোনো অভিযোগ থাকলে বাহিনী নিজে কিংবা মন্ত্রণালয় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
দুদক যেকোনো তদন্তকাজ চালিয়ে যেতে স্বাধীন ভূমিকা পালন করছে, কিন্তু ঢালাওভাবে অভিযোগ এনে একটি বাহিনীর প্রধান এবং সাবেক কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞা প্রদান অযৌক্তিক। মানবাধিকারের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সিদ্ধান্তই এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আজ মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছে, আমরা তাদের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আগে পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করছি।’
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তথ্যমন্ত্রী-প্রথম আলো
র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করে সরকার। এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। এসব কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে করা ‘মা ও শিশু’ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেভাবে র্যাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেটি অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এমনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেনি। তিনি আরও বলেন ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, উন্নয়ন–সহযোগী। আমরা আশা করব, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের অনুভূতি অনুধাবন করতে সক্ষম হবে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, কোনো যোগাযোগ ছাড়াই হঠাৎ করে এভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন ‘আমরা মনে করি, দিজ অ্যাকশন ইজ মিস লিডেড। কারণ, আমাদের দেশের কিছু এনজিও, কিছু ব্যক্তিবিশেষ ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন জায়গায় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিভিন্ন দেশে ভুলভাবে তথ্য–উপাত্ত সরবরাহ করে। ফেব্রিকেটেড, মিসলিডেড তথ্য–উপাত্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মনে করি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই থাক। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে সম্পর্ক, তার ওপর এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না।
এদিকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো সাংসদ মুরাদ হাসানের অবস্থান বিষয়ে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, সুতরাং আমি বলতে পারব না।’
আওয়ামী লীগ নয়, দেশ চালায় আমলারা: ফখরুল- দৈনিক মানবজমিন
আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল নয় দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা এখন একটা দানবে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এখন কিন্তু দেশ চালায় না। দেশ চালায় বর্তমান আমলা আর সাবেক আমলারা।রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে এ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শনিবার আপনারা দেখেছেন আমাদের প্রতিষ্ঠান র্যাব ও র্যাব কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তারা সেদেশে যেতে পারবে না। তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে।এটা দেশের জন্য অনেক বড় লজ্জার ঘটনা। আমার বয়স ৭৪ বছর। আমি কোনো দিন শুনিনি, পাকিস্তান আমলে হোক, বাংলাদেশে হোক, আমাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপরে, কোনো কর্মকর্তাদের ওপরে এ ধরনের কলঙ্কজনক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।দিস ইজ শেম অন আওয়ার কান্ট্রি। আজকে আওয়ামী লীগ সেই অবস্থা তৈরি করেছে। তারা নিজেদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করেছে।তিনি বলেন, দুঃখ হয় আমাদের সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান তাকেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা এমন একটা অসভ্য বর্বর, অগণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছি আমাদের রাষ্ট্রের যারা ওপরের দিকে আছে, যাদের ওপরে রাষ্ট্র নির্ভর করে তাদেরকে আজকে বিভিন্ন রাষ্ট্র গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছে না।
তারা (আওয়ামী লীগ) আমাদের জন্য বিপজ্জনক। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। লজ্জা হয়, দুঃখ হয়, যখন আমরা দেখি এই সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী কী অশালীন ভাষায় কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটা ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে আছি। এ সঙ্কট শুধু বিএনপির না, এটা গোটা জাতির। আমাদের সব অর্জনগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা বন্দি জাতিতে পরিণত করেছে।তিনি বলে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এখন হাসপাতালে। একটা মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। কারণ একটাই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বাইরে রাখা যাবে না। তার মধ্যে যে ক্ষমতা আছে মানুষকে জাগিয়ে তোলার, সেই লড়াইকে ক্ষমতাসীনরা ভয় পায়। চিকিৎসকরা ইতোমধ্যেই বলেছেন, তার (খালেদা জিয়া) যে চিকিৎসা দরকার সেটা এদেশে নেই। তাকে বাইরে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য শুধু কথায় কাজ হবে না। আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছি, এই আন্দোলনকে আরও দুর্বার গতিতে করতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তাকে মুক্ত করে বাইরে পাঠাতে হবে। এজন্য আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। সংগঠন যদি শক্তিশালী না থাকে তাহলে কোনো আন্দোলনই সফল হবে না।কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক টিএস আইয়ুবের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কৃষিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডি, সহ-সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, আবুল বাশার আকন্দ, নাসির হায়দার, জামাল উদ্দিন খান মিলন, মামুনুর রশীদ খান, কর্নেল (অব.) এস. এম ফয়সাল, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. দৌলতুজ্জামান আনছারী, আ.ন.ম.খলিলুর রহমান (ভিপি ইব্রাহীম), সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি, ফেরদৌস পাটোয়ারী প্রমুখ।
সৌদিতে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশ: যুগান্তর
সৌদি আরবে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের মন্ত্রী ডা. আব্দুল লতিফ আল শাইখের জারি করা এক নির্দেশনায় জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে কথা বলতে বলা হয়। তাবলিগ জামাত নিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা দেওয়া হয় এতে।
সৌদির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের এক টুইটে মন্ত্রণালয় কর্তৃক লিখিত আরবি খুতবাতে তাবলিগ জামাতের কাজের নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ জামাতের ওপর দেওয়া হয়েছে কিছু অভিযোগ।
সৌদি সরকারের ওই ঘোষণায় বলা হয়, এটি (তাবলিগ জামাত) সন্ত্রাসবাদের একটি প্রবেশপথ। এদের বিপদ সম্পর্কে মানুষকে বোঝান। এদের ভুলগুলো তুলে ধরুন।
তাবলিগ জামাতের পাশাপাশি দাওয়া নামে আরেকটি সংগঠনের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। মন্ত্রী টুইটে জানিয়েছেন, মসজিদে ইমামদের তাদের ভাষণে উল্লেখ করা উচিত এরা কীভাবে সমাজের জন্য বিপজ্জনক। ১৯২৬ সালে দাওয়া নামে এ সংগঠনটি গঠিত হয়।
উইকিপিডিয়া বলছে, তাবলিগ জামাত ভারতীয় উপমহাদেশকেন্দ্রিক একটি ধর্মপ্রচার আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে— মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা এবং যা মুসলিমদের ও নিজ সদস্যদের সেভাবে ধর্মচর্চায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করে, যেভাবে নবী মুহাম্মাদের (সা.) জীবদ্দশায় তা চর্চা করা হতো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তাবলিগ জামাত ভারতের দেওবন্দভিত্তিক সুন্নি মুসলিমদের সংগঠন। অন্যদিকে সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী কট্টর ওয়াহাবি ও আহলে হাদিস মতাদর্শের অনুসারী। তাই সৌদিতে প্রকাশ্যে তাবলিগ জামাতের কাজ করা যায় না এবং সৌদি সরকার মাঝেমধ্যেই এ দলটি সম্পর্কে সতর্ক করে খুতবা দেয়। কিন্তু এ বছরই প্রথম অহিংস এ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।
সৌদি সরকারের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের এমন নির্দেশনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম স্কলাররা।
ভারতের বিখ্যাত আলেম শায়খ সালমান হুসাইনি নদবী এ বিষয়ে সৌদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তাৎক্ষণিক আরবি ও উর্দু ভাষায় এর প্রতিবাদ করেছেন।
তিনি বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের এ সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এজেন্ট হয়ে যে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে কাজ করছে সেটি এমন নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট হলো। তবে এ বিষয়ে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বাংলাদেশের গবেষক আলেম মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, সৌদি সরকারের ফরমান, অভিযোগ ও খুতবা প্রচারের বিষয়ে আমার মূল্যায়ন দেশটির বড় আলেমদের কাছে পৌঁছানো হবে। শাসক পর্যায়েও পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ। ২০ জন আরব আলেমকে নিয়ে আমরা জুম মিটিং করছি। এ ধারা চলতে থাকবে। তারা কারেকশন দিতে পারেন কিন্তু শতবর্ষী একটি দীনি আন্দোলনকে এভাবে একতরফা নিন্দা ও নিরুৎসাহিত করতে পারেন না। মিথ্যা প্রচারণা শুনে তাবলিগি কাজের বিরুদ্ধে অপবাদ দিতে পারেন না।
তিনি বলেন, সৌদি সরকারের প্রজ্ঞাপনটির বক্তব্যে ব্যক্তিগতভাবে খুবই মর্মাহত হয়েছি। তারা এ কথা কোথায় পেলেন যে, তাবলিগিরা কবরকে সেজদার স্থান বানায়? দুনিয়ার কোথাও এমন নেই, হতে পারে না। তাদের এ কথা তুলে নিতে হবে। সাবকন্টিনেন্টের আলেমদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। বিশ্বের কোটি কোটি তাবলিগ সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
কানাডা-দুবাই ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরলেন ডা. মুরাদ : দৈনিক যুগান্তর
বিতর্কিত রাজনীতিক সদ্য পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান কানাডার পর দুবাইয়ের দরজাও তার জন্য বন্ধ থাকায় উপায় না পেয়ে দেশেই ফিরেছেন।
রোববার বিকাল ৪টা ৫৪ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মুরাদ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮৬ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।
এর আগে আজ (রোববার) সকালেই দুবাই থেকে তার ঢাকায় পৌঁছার কথা, কিন্তু সেই ফ্লাইটে তিনি আসেননি।একাধিক সূত্র জানায়, ডা. মুরাদ দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (ইকে-৫৮২) বিমানে দেশে ফিরছেন সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটের ফ্লাইটে এমন খবরে সাংবাদিকরা ভোর থেকেই ভিড় করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।কিন্তু বিমানবন্দরের একটি সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করে, নির্ধারিত বিমানটি ল্যান্ড করলেও এই ফ্লাইটে ডা. মুরাদ হাসান আসেননি।
সূত্র জানায়, কানাডায় প্রবেশে ব্যর্থ হওয়ার পর দুবাইয়ের ভিসা পাওয়ার চেষ্টায় করছিলেন ডা. মুরাদ।কিন্তু সেই চেষ্টায়ও ব্যর্থ তিনি।দুবাইয়ের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই তার।শেষমেশ আজই (রোববার) দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মুরাদ।
গত ৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কানাডার উদ্দেশে দেশত্যাগ করেছিলেন তিনি। এরপর কানাডার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলেও তাকে সে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।সেখান থেকে তাকে দুবাইগামী একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়।কিন্তু দুবাইও তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো সূত্রে ডা. মুরাদের অবস্থানের কথা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
করোনাকালীন চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র না দেখাতে পারায় তাকে কানাডার টরেন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়েছে কানাডার বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। দেশটির স্থানীয় বাংলা অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, কানাডায় বসবাসরত তার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তবে কানাডার সরকারি সূত্র থেকে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কানাডা বর্ডার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।
জানা যায়, মুরাদ হাসান একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে টরেন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় কানাডা ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে তাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পরে তাকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের বিমানে তুলে দেওয়া হয়। বিপুলসংখ্যক কানাডিয়ান নাগরিক কানাডায় তার প্রবেশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলেও তাকে জানানো হয়।
মুরাদ হাসানের কানাডা সফর নিয়ে সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সরকার তার সফর সম্পর্কে দূতাবাসকে কিছু জানায়নি। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কানাডা সফরকালে আমাদের অবহিত করা হয়েছিল। মুরাদ হাসান এখন সংসদ সদস্য। অনেক সময় সংসদ সদস্যরা কানাডা সফর করলে আমাদের জানান বিভিন্ন ধরনের প্রটোকল সুবিধার জন্য। কিন্তু মুরাদ হাসান তার সফর সম্পর্কে আমাদের কিছু জানাননি।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডীয় হাইকমিশনার বেনোই প্রেফনটেইন জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তবে করোনাকালীন ভ্রমণের বিষয়ে বেশকিছু বিধিনিষেধ আছে, যা দেশটিতে ভ্যালিড (বৈধ) ভিসা থাকা সব ভ্রমণকারীর জন্য প্রযোজ্য। তবে কোনো ব্যক্তির ভিসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে দেশটির ইমিগ্রেশন ও বর্ডার এজেন্সি।
সম্প্রতি এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে ডা. মুরাদের অশালীন ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের এই সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৭ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করলে ওইদিন রাতেই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একইদিনে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় মুরাদ হাসানকে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার তাকে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুরাদ হাসানকে তার নিজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।এ ছাড়া মুরাদের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের বিষয়েও দলের পরবর্তী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে ডা. মুরাদ হাসান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এমিরেটসের ফ্লাইটে যাওয়ার কথা থাকলেও ফ্লাইটটি ছেড়ে যায় রাত ১টার দিকে। দুবাই হয়ে কানাডার পথে রওনা দেন তিনি। সংসদ সদস্য হিসেবে মুরাদ কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভিসা আবেদন করার পরে গত সেপ্টেম্বরে তিনি ব্যক্তিগত সফরে কানাডায় গিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়নি: আইনমন্ত্রী -দৈনিক ইত্তেফাক
দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তাই যুক্তরাষ্ট্র যে বিষয়টিকে সামনে এনে র্যাব ও বাহিনীটির কর্মকর্তাদের দেশটিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটি সঠিক নয় বলে জানান তিনি।
আজ রবিবার (১২ ডিসেম্বর) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচারকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদের একটা কর্তব্য থাকে। সেটা হচ্ছে নিউ প্রসেস এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাদের পক্ষ শোনা। আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, যাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের পক্ষ শোনা হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। আমি এটাও বলতে চাই যেসব দোষে র্যাব ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দোষী করা হয়েছে, তা কিন্তু ঠিক নয় এবং কল্পনাপ্রসূত।’
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন, জানতে পারবেন।
দলের কর্মীদের একাংশের কারণেই নন্দীগ্রামে হেরেছেন মমতা, ভাইরাল শীর্ষনেতার অডিয়ো-আনন্দবাজার পত্রিকা
নন্দীগ্রামে ভোটগণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে বিধানসভা নির্বাচন পর্ব মিটতেই আদালতে গিয়েছে শাসকদল তৃণমূল। সে মামলার এখনও কোনও নিষ্পত্তি হয়নি হাই কোর্টে। তার মধ্যেই সোমবার একটি অডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে এক পুরুষ কণ্ঠকে বলতে শোনা যাচ্ছে, কিছু কর্মীর অসহযোগিতার কারণেই নন্দীগ্রামে বিধায়ক হতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি, অডিয়ো ক্লিপের ওই কণ্ঠস্বর তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর। যদিও ওই অডিয়ো ক্লিপের সত্যতা আনন্দবাজার যাচাই করেনি।
স্থানীয় সূত্রেও জানা গিয়েছে, ২৮ নভেম্বর রাতে ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক কর্মিসভায় ওই মন্তব্য করেছেন সুব্রত। সেখানে করা তাঁর ওই মন্তব্যই অডিয়ো ক্লিপ হিসাবে ভাইরাল হয়েছে। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে আগামী পুরনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী কাজরী। তাঁর সমর্থনে আয়োজিত কর্মিসভাতেই হাজির হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি। স্থানীয়দের একংশের দাবি, সেখানেই এমন মন্তব্য করেছেন মমতার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী সুব্রত। ওই অডিও ক্লিপে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘আমাদের দলের কিছু সহকর্মীর অসহযোগিতার কারণেই মমতা নন্দীগ্রামের প্রতিনিধি হতে পারলেন না। কিন্তু আমরা গর্বিত যে, তিনি ভবানীপুরের মাটি থেকে জিতেই তৃতীয় বারের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।’’ তৃণমূলকর্মীদের একাংশের দাবি, এমন কথা বলে ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থীদের জয় ছিনিয়ে আনতে বলেছেন সুব্রত। তবে সুব্রত কোন কর্মীদের অসহযোগিতার কথা বলতে চেয়েছেন, তা তিনি খোলসা করেননি। অন্তত ভাইরাল হওয়া অডিয়ো ক্লিপে তার কোনও উল্লেখ নেই।
সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে উপস্থিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়ার আলম, রাখলেন মূল্যবান বক্তব্য ’ আজকাল
সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর তথা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাংসদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহামান্য মহম্মদ শাহরিয়ার আলমের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ডেপুটি হাই–কমিশনার তৌফিক হাসান এবং মুক্তিযোদ্ধা এ এস এম সামসুল আরিফিন। যিনি বাংলাদেশ সরকারের গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের চেয়ারম্যান। ছিলেন আরও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি এবং একইসঙ্গে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রীরও পঞ্চাশ বছর উদযাপন। প্রসঙ্গত শাহরিয়ার আলম সারা ভারতের মধ্যে প্রথমবার এই বিষয়ে বক্তব্য রাখলেন। সিস্টার নিবেদিতার মূর্তিতে আচার্য্য সত্যম রায়চৌধুরী শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মহম্মদ শাহরিয়ার আলম প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্রী ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের মঞ্চে ডেকে নেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবিতে মাল্যদান করেন বিশেষ অতিথি শাহরিয়ার আলম। এরপর বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য শ্রী সত্যম রায়চৌধুরী মহাশয়।
তিনি জানান চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতীয় সেনার সহযোগিতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের স্মরণে বিজয় মশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরবঙ্গ তথা শিলিগুড়ি শাখায় বিযয়ভাস নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। তিনি আরও জানান চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে মোমবাতি মিছিলে অংশ নেন। ২৭ মার্চ তিনি ঢাকায় তার নিজের লেখা বই ‘Bangabandhu for you’ এর উদ্বোধন করেন। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ উদ্ধৃত করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল রহমান তার বক্তব্যে জানান, যে তিনি এবং আচার্য্য সত্যম রায়চৌধুরী ও মন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সহযোগিতায় ‘Friends of Bangladesh’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং আজকের অনুষ্ঠান তারই একটি পদক্ষেপ। এই সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য ৭১ এর তাৎপর্য যাতে সকলে জানতে পারে এবং তা যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে সেটা নিশ্চিত করা। এরপর বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহম্মদ শাহরিয়ার আলম। যার পরিচয় শুধু মন্ত্রিত্বতেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষ হিসাবেও অসাধারণ তিনি। তিনি এমন একজন মানুষ যিনি বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি সাংসদ থাকাকালীন প্রাপ্ত সমস্ত পারিশ্রমিক তুলে দিয়েছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে যা স্কলারশিপ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। তার নির্বাচনী এলাকায় তিনি প্রথম ক্রিকেট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। মহামান্য মহম্মদ শাহরিয়ার আলমের বক্তব্য এই অনুষ্ঠানের মুখ্য আকর্ষণ ছিল। তার বক্তব্য ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং তথ্যপূর্ণ। ইতিহাসের পাতা থেকে বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা তিনি ব্যাখ্যা করেন অত্যন্ত সহজ সরল ও সাবলীলভাবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি অর্থাৎ মোট তেরো কোটি জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও তারা মোট বাজেটের ৮০% ব্যবহার করতো, বিদেশি সাহায্যের ৬৫% পেত, বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের দুই গুণেরও বেশি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত সেনাবাহিনী বা সরকার–পাকিস্তানের কোথাও কোনও বাঙালিকে সুযোগ দেওয়া হতো না। পূর্ব পাকিস্তানে চাষাবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ পাকিস্তানের তুলনায় বেশি ছিল অথচ সারের মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ পেত পূর্ব পাকিস্তান। বিদ্যালয় থেকে চিকিৎসালয় সমস্ত ক্ষেত্রেই পূর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত করা হতো। ১৯৭২ এ বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলার এর নিচে। কিন্তু আজ তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাথাপিছু ২৫০০ এর বেশি, যা এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রের থেকে বেশি।
আজ থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জাতি সংঘ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে সুপারিশ করেছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী এই অর্থবর্ষে বাংলাদেশ ৬.৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার এবং এক্সপোর্ট ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এইরকম বজায় থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ পৃথিবীর ৩৬ তম অর্থনৈতিক দেশের স্থান লাভ করতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর যে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেন, তাতে উল্লেখ ছিল ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে
পরিণত হবে এবং যা বাস্তবে সম্ভবপর হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কোনও বাড়ি নেই যেখানে পানীয় জল, শৌচালয় বা বিদ্যুৎ নেই। আজ থেকে ১০ বছর আগেও যেখানে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র রাষ্ট্র ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য ১০ টি বড় প্রকল্প নিয়েছেন যা আগামী ২ বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে যার মধ্যে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উল্লেখ্যযোগ্য। বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণের মাধ্যমে মহম্মদ আলম তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে উপহার তুলে দেওয়া হয় অতিথিদের হাতে। অতিথিদের তরফ থেকেও উপহার প্রদান করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য, উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারকে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সুমন চ্যাটার্জির বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
ব্যাংক ডুবলে চিন্তা নেই, সবার টাকা সুরক্ষিত’, আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির- প্রতিদিন
ব্যাংক বেসরকারিকরণ নিয়ে আতঙ্কের আবহে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রবিবার ‘ব্যাংক আমানত বিমা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সাধারণ ব্যাংক গ্রাহকদের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যদি কোনও কারণে ব্যাংক যদি গ্রাহকদের টাকা শোধ করতে নাও পারে, তাহলেও সবার টাকা সুরক্ষিত। সরকার ৯৮.১ শতাংশ গ্রাহকের টাকাই সুরক্ষিত করে ফেলেছে বিমার মাধ্যমে। গ্রাহকদের মোট ৭৬ লক্ষ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বিমা সুরক্ষার আওতায় এসেছে।
রবিবার ‘ব্যাংক আমানত বিমা’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ক্ষমতায় আসার পর নিয়ম বদলেছি। আমরা ব্যাংক ডিপোজিটের (Bank Deposite) বিমার পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মধ্যবিত্তদের ভীতি দূর করতে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে যাতে গ্রাহকরা তাঁদের টাকা ফেরত পান, সেটা নিশ্চিত করবে তাঁর সরকার। এদিন ব্যাংকের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যখন আমি মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন বারবার অনুরোধ করতাম এই টাকা ফেরতের ঊর্ধ্বসীমা ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হোক। কিন্তু আমার কথা শোনা হয়নি। সেজন্যই আপনারা আমাকে পাঠিয়েছেন।”#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।