কথাবার্তা
এক নজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খবর
শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! আজ ৩ মার্চ বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার প্রাত্যহিক আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। তারপর দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:
- কিয়েভে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, থমকে আছে সেই রুশ সেনাবহর -প্রথম আলো
- বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক কালের কণ্ঠ
- ইউক্রেনে সেই জাহাজ থেকে বাংলাদেশি নাবিকের আকুতি ‘আমাদের বাঁচান’ (ভিডিও)-যুগান্তর
- বিএনপি বিভাজনের রাজনীতি করে না: ফখরুল-মানবজমিন
- এবার জলপথে আক্রমণের পরিকল্পনা রুশ বাহিনীর: ইত্তেফাক
-
ধ্বংসাত্মক হামলার মুখে কিয়েভ-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:
- নামেই যোগী, আসলে ভোগী’, বারাণসীতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তোপ মমতার -আজকাল
- আপনাকে দেখেই হারের ভয় পাচ্ছে বিজেপি’, বারাণসীতে মমতাকে পাশে নিয়ে হুঙ্কার অখিলেশের-সংবাদ প্রতিদিন
- খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন ইউক্রেনের শহরে, যুদ্ধের পরোয়া না করেই পথে মানুষ-আনন্দবাজার পত্রিকা
এবারে বিশ্লেষণে যাচ্ছি। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
বিশ্লেষণের বিষয়:
কথাবার্তার প্রশ্ন (০৩ মার্চ)
১. নওগাঁয় নিজের রাইফেল বুকে ঠেকিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা। বাংলাদেশের প্রায় সব মিডিয়া এ খবর প্রচার করেছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
২. ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান নিয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড় চলছে। জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে। আপনি বিষয়টিকে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন?
বিশ্লেষণের বাইরের কয়েকটি খবর:
কিয়েভে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, থমকে আছে সেই রুশ সেনাবহর -প্রথম আলো
ইউক্রেনে রাজধানী কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। খবর বিবিসির।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজের বরাতে বিবিসি জানাচ্ছে, স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে অন্তত চারটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয় কিয়েভে। বিস্ফোরণের পর কিয়েভের রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। তবে হামলার লক্ষ্য কী ছিল, কিংবা এতে কতজন হতাহত হয়েছেন, তা জানা যায়নি।
কিয়েভের কেন্দ্রস্থলের একটি রেলস্টেশনের কাছে বড় ধরনের একটি বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরই এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাশিয়ার সেনাদের গোলাবর্ষণ থেকে রক্ষা পেতে রেলস্টেশনটির কাছে কিয়েভের শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। স্টেশনের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উপদেষ্টা বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা বাধা দেওয়ার পরই একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ার কারণে সেখানে বেশ কিছু অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিতিশ্চকো বলেছেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, শত শত সাঁজোয়া যান নিয়ে কিয়েভ অভিমুখে অগ্রসর হওয়া ৪০ মাইল দীর্ঘ রুশ সেনাদের একটি বহর এখন পথেই থমকে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা অনুযায়ী, গত ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তারা তেমন কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।’
জন কিরবি বলেন, রাশিয়ার সেনারা পুনরায় দলবদ্ধ হওয়া ও কতটা অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, আর কতটা অগ্রগতি করতে হবে, তা মূল্যায়নের জন্য আটকে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম ও দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ করার জন্য চ্যালেঞ্জ এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে ওঠার বিষয়টি ভেবে দেখছে।
যাচাই করা হয়নি এমন কিছু প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি আরও জানিয়েছে, রাশিয়ার সেনাদের খাবার ও জ্বালানি তেল ফুরিয়ে যাওয়ার দিকে। ইউক্রেনের যেসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ রুশ সেনাদের হাতে, সেসব এলাকার কর্মকর্তাদের দাবি, রুশ সেনাদের খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। সুপারমার্কেটে লুট চালাচ্ছেন তাঁরা।
দুই দিন ধরে এই রুশ সাঁজোয়া যানের বহরের কথা শোনা যাচ্ছে। সর্বশেষ জানা যাচ্ছিল, এই বহরটি কিয়েভের মাত্র ১৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রুশ সাঁজোয়া যানের ৪০ মাইল দীর্ঘ এই বহর কিয়েভ যাওয়ার পথে কোনোভাবে আটকে গেছে।
বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক কালের কণ্ঠ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। তিনি বৈশ্বিক নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলাতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা দেখতে চান।
শেখ হাসিনা আজ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ও গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি ফেলোশিপ ও গবেষণা সহায়তা গ্রহীতাদের জাতির সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের আটটি বিভাগেই শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রতিষ্ঠা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল বিভাগীয় শহরে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার আমরা স্থাপন করব। আমাদের ৮টি বিভাগ এবং ৮টি বিভাগেই যেন নভোথিয়েটার হয়, যাতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আরো ভাল শিক্ষা নিতে পারে এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারে। ’
ইতোমধ্যে চার-পাঁচটি বিভাগে নভোথিয়েটার স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারপ্রধান আজ সকালে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’, ‘এনএসটি ফেলোশিপ’প্রাপ্তদের মাঝে চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
তিনি তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদানপ্রাপ্তদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের দেওয়া রাজস্ব থেকে আপনাদের ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। কাজেই যারা ফেলোশিপ পাচ্ছেন আপনাদেরকেও সর্বোচ্চ শ্রম এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে জাতীয় উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কারণ, আমরা চাই দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তুলতে।
শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কাজেই এই কৃষিকে যেমন যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উন্নত করতে হবে, পাশাপাশি শিল্পায়ন ও আমাদের দরকার।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, শিল্পায়নের ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। তার জন্য উপযুক্ত দক্ষ মানবশক্তিও আমাদের গড়ে তুলতে হবে এবং সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
সরকার প্রধান বলেন, দেশের মানুষ যাতে আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পায় সেটাই আমরা চাই। আপনাদের উদ্ভাবনী জ্ঞানের ব্যাবহারিক প্রয়োগ যেন মানুষের কল্যাণে হয়। কাজেই যারা আজকে গবেষণা করছেন সেই গবেষণার কী ফলাফল হলো- সেটাও আমি দেখতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই মেধাকে কাজে লাগিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারব। অর্থনৈতিকভাবে আমরা এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’, ‘এনএসটি ফেলোশিপ’ এবং ‘বিশেষ গবেষণা অনুদান’ প্রদান করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান স্বাগত বক্তৃতা করেন।
ইউক্রেনে সেই জাহাজ থেকে বাংলাদেশি নাবিকের আকুতি ‘আমাদের বাঁচান’ (ভিডিও)-যুগান্তর
ইউক্রেনে বাংলাদেশি ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজ রকেট হামলার শিকার হয়ে হাদিসুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। ওই জাহাজে এ মুহূর্তে অবস্থান করছেন আরও কয়েকজন বাংলাদেশি। নাবিকদের উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে দুটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এক বাংলাদেশি নাবিক, যা ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে। ভাইরাল হওয়া ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে ওই বাংলাদেশি নাবিককে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বাঁচান। আমাদের কোনো জায়গা থেকে সাহায্য আসেনি।’ জানা গেছে, ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ নামের ওই জাহাজটি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আটকে আছে। জাহাজে বাংলাদেশের ২৯ জন নাবিক রয়েছেন।
বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে) জাহাজে গোলা আঘাত হানে। এতে নাবিক হাদিসুর রহমান নিহত হন। তিনি জাহাজটিতে থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামে।
সেই তথ্য জানিয়ে ভিডিওতে আতঙ্কের কণ্ঠে নাবিক বলেন, ‘আমি বাংলার সমৃদ্ধির সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের জাহাজে একটু আগে রকেট হামলা হয়েছে। একজন অলরেডি ডেড। আমাদের পাওয়ার সাপ্লাই নেই। ইমার্জেন্সি জেনারেটরে পাওয়ার সাপ্লাই চলছে। আমরা মৃত্যুর মুখে সম্মুখীন। আমাদের এখনো উদ্ধার করা হয়নি। দয়া করে আপনারা আমাদের বাঁচান। আমরা সবাই আছি এখানে। দেখেন।...আমাদের কোনো জায়গা থেকে সাহায্য আসেনি। আমাদের বাঁচান।’
এর আগে বাংলাদেশি জাহাজটিতে হামলার খবর গণমাধ্যমকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে নিশ্চিত করেন জাহাজটিতে থাকা একজন নাবিক।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের সময় ৫টা ১০ মিনিটের দিকে আমাদের জাহাজে বিমান হামলা হইছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি। আরেক নাবিক লিখেছেন, ‘বোমা পড়ছে’।
জাহাজটিতে থাকা এক নাবিকের ভাই আজিজুল হক টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে। আমাদের ভাইদের জন্য দোয়া করুন।’
এবার জলপথে আক্রমণের পরিকল্পনা রুশ বাহিনীর: ইত্তেফাক
ইউক্রেনের খেরসন শহর ইতিমধ্যেই রুশ বাহিনীর দখলে চলে গিয়েছে। কিয়েভ এবং খারকিভ দখলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। কিন্তু রাজধানী কিয়েভ এবং খারকিভ শহরে চরম প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে রুশ বাহিনীকে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্থলপথে ওই দুই বন্দর শহরে ঢুকতে না পারায় এ বার জলপথে হামলা চালানোর পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলল রাশিয়া। বৃহস্পতিবার আমেরিকা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাশিয়ার বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ক্রিমিয়া থেকে ওডেশার দিকে এগোচ্ছে। বৃহস্পতিবারই ওই যুদ্ধজাহাজ থেকে বন্দর শহরে হামলা চালাতে পারে রুশ সেনারা।
ইউক্রেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওডেশা। ওই দেশের সবচেয়ে বড় বন্দর শহরও বটে। ইউক্রেনের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড এই শহর। সোভিয়েত আমলেও এই বন্দর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবারই ইউক্রেনের অন্যতম বন্দর শহর খেরসন দখল করেছে রুশ সেনারা। ওডেশা দখল এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও রুশ হামলার পুরোপুরি জবাব দিতে প্রস্তুত এই শহর। এমনটাই দাবি করেছেন শহরের মেয়র গেনাডি ট্রুখানভ।
বিএনপি বিভাজনের রাজনীতি করে না: ফখরুল-মানবজমিন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভাজনের রাজনীতি আমরা করি না। আমরা সব সময় ঐক্যের রাজনীতি করি। বাংলাদেশকে তার আধ্যাত্মিকতার মধ্য দিয়ে, পার্থিব উন্নতির মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হলে ইস্পাত কঠিন ঐক্য দরকার।’বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা মহাসংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের’র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে এসে আয়োজিত শ্রদ্ধার্পণ সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। এর আগে তিনি দলের পক্ষ থেকে মহাসংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের’র মরদেহে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।বক্তব্যের শুরুতেই বিএনপির মহাসচিব বলেন, মহাসংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের শান্তির জন্য, সৌহাদ্যের জন্য, মানুষে-মানুষে ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য সারাজীবন অতিবাহিত করেছেন। শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা এসেছি। বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য এসেছি।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধর্মের নামে যে হানাহানি, সেই হানাহানি বাংলাদেশে সবচেয়ে কম হয়। কিছু কিছু কুচক্রী আছে, যারা মাঝে মাঝে ধর্মের বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করে।কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে ভাইয়ে-ভাইয়ের মতো বসবাস করেছে। বৌদ্ধ ধর্মের একটা প্রভাব, শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সব জায়গায় সৃষ্টি করেছিল। এটা হচ্ছে শান্তির ধর্ম, কল্যাণের ধর্ম।বিএনপির মহাসচিব উল্লেখ করেন, সারা বিশ্বে শান্তি নষ্ট হচ্ছে। বিশ্বে এখন যুদ্ধ হচ্ছে।তিনি বলেন, আজকে বার্মা থেকে রোহিঙ্গারা চলে এসেছে। অন্যদিকে, কাশ্মীরে মানুষেরা নির্যাতিত হচ্ছে। আর আজকে, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের শিশু, নারীরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে। সমগ্র বিশ্বে অশান্তি আজকে। আমাদের দেশও আজ মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষার জায়গা থেকে বহুদূরে চলে এসেছে। গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে। ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। ভিন্নমত পোষণকারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত।এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য আব্দুস সালাম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ধ্বংসাত্মক হামলার মুখে কিয়েভ-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
অভিযানের সপ্তম দিনে গতকাল রুশ বাহিনী ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও শিল্পকেন্দ্র খেরসন দখল করে নেয়। এরপর তারা সেখান থেকে কিয়েভ শহরের কেন্দ্রস্থল দখলের প্রস্তুতি নেয়। খবরে বলা হয়, সকালে খেরসন দখলের পর রুশ বাহিনী নিজেদের সামরিক বহরকে আরও সুসংহত করে। একই সঙ্গে রুশ বাহিনীর পক্ষ থেকে কিয়েভ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানরত সাধারণ নাগরিকদের বাড়িঘর ছেড়ে সরে যেতে বলা হয়। ইউক্রেনের স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়) পাওয়া সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে বড় মাপের আঘাত হানার জন্য রুশ বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। এ সময় তারা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। আভাস পাওয়া যায়, যে কোনো মুহূর্তে তারা আঘাত হানা শুরু করবে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, খেরসন শহর দখল করার পর রুশ সামরিক বহর পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়ে অগ্রসর হয়ে কিয়েভ শহর পুরোপুরি ঘিরে ফেলেছে। ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রুশ সামরিক বহর শহরের উত্তর দিকে অবস্থান করছিল। স্থল বাহিনীর অগ্রাভিযানের পাশাপাশি এবং বিমান বহর থেকে ছত্রীসেনা নামিয়ে এই শহরটি দখল করা হয়। উত্তরে খারকিভ থেকেও রুশ সামরিক বহর পশ্চিম দিক থেকে আক্রমণের জন্য সেনাদের সহযোগিতা করতে প্রস্ততি নিয়ে রেখেছে। ইউক্রেনের স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, কিয়েভের মূল অবস্থানে ঢুকতে রুশ বাহিনী চূড়ান্ত প্রস্ততি গ্রহণ করছিল। তার আগে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘টার্গেট অবস্থান থেকে’ সাধারণ নাগরিকদের কালবিলম্ব না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়। এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, রুশ বাহিনী সাধারণ মানুষ এবং শহরের স্থাপনাসমূহের ক্ষতি চায় না বলেই এ আহ্বান জানাচ্ছে। কারণ রুশ বাহিনী এখনো বড় ধরনের কোনো অস্ত্রের ব্যবহার করেনি এবং জনস্বার্থেই তা করতে চায় না। তবে ইউক্রেন সরকারের অনুগত সেনারা দ্রুত আত্মসমর্পণ না করলে তাদের পক্ষে আর ধৈর্য ধারণ করা সম্ভব হবে না। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের খবরে আগেই উল্লেখ করা হয়, রুশ সেনারা উচ্চমাত্রার নিখুঁত হামলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সার্ভিস এবং ৭২তম তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান কেন্দ্রকে ঠিক করা হয়। এর আগে একজন সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেন, রাশিয়া খেরসন শহর দখলে নেওয়ার পর ওডেসা ও মিকোলাইভ শহরে নতুন করে অভিযান শুরু করার মতো পথ তৈরি হয়েছে। এতে করে ইউক্রেনের বন্দরব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের পূর্ব দিক থেকে মারিওপোল শহরও ঘিরে ফেলেছে রুশ সেনারা। শহরটি দখলে নিলে তা রুশ সেনাদের জন্য ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করবে। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার মূল ভূখন্ড ও ক্রিমিয়ার মধ্যে অবাধে চলাচল করতে পারবে রুশ সেনারা। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাশিয়ার সরকারি গণমাধ্যম স্পুতনিক নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল সকালে রুশ বাহিনী কৃষ্ণসাগরের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও শিল্পকেন্দ্র খেরসনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। খেরসনে মেয়র ইগর কলিখায়েভ জানান, শহরের প্রধান রেলস্টেশন এবং বন্দর রুশ বাহিনীর দখলে চলে গেছে।
খবরে বলা হয়, এ পর্যন্ত রাশিয়া যেসব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তার মধ্যে খেরসন সবচেয়ে বড় শহর। এখানে প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস।
যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনা : যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে রুশ ও ইউক্রেনিয়ান কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা গতকাল সন্ধ্যায় শুরু হওয়ার কথা। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি। এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধি দল আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। এতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সহযোগী ভøাদিমির মেদিনস্কি রাশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন। উল্লেখ্য, গত সোমবার বেলারুশ-ইউক্রেন সীমান্তের গোমেলে দুই পক্ষের প্রথম দফার বৈঠক হয়। এ দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। তবে খবরে মুখপাত্ররা জানান, আগের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রবিরতি নিয়ে আলোচনায় মতৈক্য হওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। দ্বিতীয় দফার আলোচনা বৈঠকে সেই বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধাতে আসার কথা। এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেন, আগের বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনে অস্ত্রবিরতি নিয়ে আলোচনা করা। সেখানে সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে দুই পক্ষ কয়েকটি অগ্রাধিকারের বিষয় চিহ্নিত করে।
নামেই যোগী, আসলে ভোগী’, বারাণসীতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তোপ মমতার -আজকাল
একদিকে চলছে ষষ্ঠ দফার নির্বাচন।
তার মধ্যেই সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচনী প্রচার চলছে। আর তা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র বারাণসীতে দাঁড়িয়ে তাঁকে একের পর এক তোপ দাগলেন মমতা ব্যানার্জি। ছেড়ে কথা বললেন না উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও। বললেন, ‘নামেই যোগী, কাজে আসলে ভোগী। ওঁকে ভোট নয়’। তাই রাজ্য থেকে বিজেপি–কে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার ডাকও দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি–কে প্রায় ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে তৃণমূল। তার পর থেকে গোটা দেশের কাছেই বাড়তি সমীহ আদায় করে নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। সেকথা বারণসীতে মঞ্চে উঠেই বলে দিলেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। বললেন, ‘মমতা ব্যানার্জি এসেছেন, আর হারের কথা মনে পড়ছে বিজেপির। মমতাকে দেখেই হারের ভয় পাচ্ছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। মানুষ বিজেপিকে মাফ করবে না, সাফ করে দেবে। এবারের নির্বাচনে আসল লড়াই করছে সাধারণ মানুষ।’
আপনাকে দেখেই হারের ভয় পাচ্ছে বিজেপি’, বারাণসীতে মমতাকে পাশে নিয়ে হুঙ্কার অখিলেশের-সংবাদ প্রতিদিন
ভাজপা কে বিগড়ে হালাত হ্যায়/ কিউকি দিদি ভাইয়া সাথ হ্যায়।’ গতকালই টুইট করে বলে দিয়েছিলেন অখিলেশ যাদব। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অখিলেশ যাদবের ‘সাথ’ যে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির হাল ‘বিগড়ে’ দিতে পারে সেটা বৃহস্পতিবার বারাণসীর জনসভা দেখলেই বোঝা যাবে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ সেই জনসভা এদিন অখিলেশের ‘ভরসা’ যে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে সেটা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা। বারাণসীর সভা থেকে অখিলেশ বললেন, মমতা আসায় শুধু যে সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party) ভরসা পাচ্ছে তাই নয়, ভরসা পাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষও।
বারাণসীর সভা থেকে অখিলেশ দাবি করেন, “মমতাকে দেখেই হারের ভয় পাচ্ছে বিজেপি। বাংলায় ভয়ংকর সেই হারের স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে ওদের।” উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এদিন মনে করান, “মমতা বাংলায় ঐতিহাসিক লড়াই করেছেন। বিজেপি (BJP) ওখানে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই ভোটও মমতা জিতে এসেছেন। আপনি এখানে আসায় শুধু যে আমরাই আত্মবিশ্বাস পেলাম তাই নয়, শুধু যে সমাজবাদী পার্টির কর্মীরাই আত্মবিশ্বাস পেল তাই নয়, গোটা রাজ্য ভরসা পেল।”
খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন ইউক্রেনের শহরে, যুদ্ধের পরোয়া না করেই পথে মানুষ-আনন্দবাজার পত্রিকা
দোকানের দরজা থেকে শুরু হয়েছে লাইন। দরজার চৌকাঠ থেকেই উঠোন। যা কম করে আধা কিলোমিটার দূরের রাস্তায় গিয়ে মিলেছে। সার দেওয়া মানুষের পংক্তি বেঁকেচুরেও শেষপর্যন্ত উঠোনে আঁটিয়ে উঠতে পারেনি নিজেকে। কংক্রিটের চত্বর ছাপিয়ে গিয়ে পড়েছে রাস্তায়। খোলা আকাশের নীচে এতগুলো মানুষ! প্রাণের ভয় নেই এদের!ছবি: ম্যাক্সার।
জায়গাটা কিভ। ইউক্রেনের রাজধানী। যে শহর এখন প্রতি মুহূর্তে প্রহর গুনছে হামলার। যেখানে বিশাল বহর নিয়ে যে কোনও সময় অনুপ্রবেশ করতে পারে শত্রু রাশিয়ার সেনারা। ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের ভয়ে যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ সেনার বাঙ্কারে, কেউ বা মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন। সেই কিভে খোলা আকাশের নীচে এতগুলো মানুষ! প্রাণের ভয় নেই এদের! সার দিয়ে পর পর বাড়ির মাথা থেকে বেরিয়ে আসছে কালো ধোঁওয়া।ছবি: ম্যাক্সার।
স্থানীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গেল, প্রাণের ভয়ের থেকেও বড় সমস্যা এখন পেটের দায়! সাত দিনের যুদ্ধে বাড়িতে জমা খাবার শেষ হয়ে গিয়েছে। খিদের জ্বালা শিশুরা তো বটেই বড়রাও সহ্য করতে পারছেন না। বাধ্য হয়েই ছাদের নিরাপদ আড়াল ছেড়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে। দোকানে পৌঁছে লাইন দিতে হয়েছে শ’খানেক মানুষের পিছনে। খাবার কেনার সেই লাইনের ছবি ধরা পড়েছে মহাকাশ থেকে। কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবিতে।
কিভের মতোই ইউক্রেনের আর এক শহর চার্নিহিভেও একই দৃশ্য ধরা পড়েছে কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবিতে। আমেরিকার ওই উপগ্রহ চিত্রেই এর আগে ধরা পড়েছিল রাশিয়ার প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সেনা সাঁজোয়ার ছবিও। ম্যাক্সার নামে ওই কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ধরা পড়েছে বোমা বর্ষণে বিধ্বস্ত বাড়ির ছবিও। সার দিয়ে পর পর বাড়ির মাথা থেকে বেরিয়ে আসছে কালো ধোঁওয়া।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।