ব্যাংকে টাকা রাখলে কমে যাবে: আবগারি শুল্ক না বাড়ানোর দাবি সরকারদলীয় হুইপের
শ্রোতা/পাঠক! সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। ৫ জুন সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। শুরুতেই যথারীতি বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ শিরোনাম। তারপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ব্যাংকে টাকা রাখলে কমে যাবে: প্রথম আলো
- আবগারি শুল্ক না বাড়ানোর দাবি সংসদে: প্রথম আলোর আরেকটি শিরোনাম
- মুক্তির একমাত্র পথ হলো বর্তমান সরকারকে হঠাতে হবে: ইত্তেফাক
- গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত থাকবে: ইত্তেফাকসহ প্রায় সকল দৈনিকেই এসেছে খবরটি
- রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: বাংলাদেশ প্রতিদিন
- চেক প্রতারণার মামলায় এমপি হারুনের বিরুদ্ধে সমন জারি: মানব জমিন
ভারতের শিরোনাম:
- বিধি ভেঙে এ যেন এক দূষণনগরী: আনন্দবাজার পত্রিকা
- গুরুংকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ মিরিকে মমতার সভা: বর্তমান পত্রিকা
- প্রতারণার অভিযোগ ধৃত চিট ফান্ড সংস্থা চক্র গ্রুপের কর্ণধার: সংবাদ প্রতিদিন
শ্রোতাবন্ধুরা ! এবারে বাংলাদেশের দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ বিশেষ তুলে ধরছি।
ব্যাংকে টাকা রাখলে কমে যাবে!

প্রথম আলো এই শিরোনামে লিখেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতিয় সংসদে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হচ্ছে। তিনি নিজে যতই এই বাজেটকে উত্তম বলে দাবি করুন না কেন, জনগণের বৃহত্তর অংশ মনে করছে এটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে খারাপ বাজেট। বাজেট সরকারের কেবল আয় ও ব্যয়ের হিসাব নয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের দলিলও। এখানে দর্শনটা পাওয়া যায় না। অর্থনীতির নীতি-কাঠামোয় সংস্কারেরও উদ্যোগ নেই।
চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান সত্ত্বেও অর্থমন্ত্রী আগের বাজেটগুলোতে একটি গণমুখী চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এবারে তার লক্ষণও দেখছি না। তিনি প্রত্যক্ষ করের চেয়ে অপ্রত্যক্ষ কর বাড়িয়ে সমাজের বৃহত্তর অংশের ওপরই দায় চাপিয়ে দিলেন। এটি হলো ধনীকে আরও ধনী এবং গরিবকে গরিব রাখার কৌশল।
আগে যেকোনো বাজেট ঘোষণার পর সরকারি ও বিরোধী দল অবধারিতভাবে রাজপথে সরব থাকত। একপক্ষ ‘গরিব মারার বাজেট’ মানি না মানব না বলে স্লোগান দিত। আরেক পক্ষে গণমুখী বাজেট হিসেবে তাকে অভিনন্দন জানাত। বাজেট নিয়ে এবারে রাজপথে মিছিল-পাল্টা মিছিল বের না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। অর্থমন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করে সেসব প্রতিক্রিয়া দেখলে বুঝতে পারতেন, সত্যি সত্যি বাজেটটি গণবান্ধব না গণ-অবান্ধব।
আবগারি শুল্ক না বাড়ানোর দাবি সরকারদলীয় হুইপের

ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক না বাড়িয়ে আগের হার বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন সরকারদলীয় হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান
শহীদুজ্জামান বলেন, ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গ্রামের মানুষ এক লাখ, দুই লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখেন। এখন আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে আমানতের টাকা কেটে নেওয়া হবে। তিনি অর্থমন্ত্রীকে আবগারি শুল্ক না বাড়িয়ে আগেরটা বহাল রাখার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ভ্যাটের আওতা কমিয়ে আয়কর ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পরামর্শও দেন সরকার দলীয় এই হুইপ। তিনি বলেন, এটি করা গেলে জনগণকে আরও স্বস্তি দেওয়া যেত। এ সময় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমানোরও আহ্বান জানান শহীদুজ্জামান। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র কেনার লক্ষ্য ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের হারের ওপর যাতে কাঁচি না চলে। একে আরও সহজ করার যদি প্রক্রিয়া থাকে সেটা অনুসরণ করতে হবে।
মুক্তির একমাত্র পথ হলো বর্তমান সরকারকে হঠাতে হবে: ইত্তেফাক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে আজ আমরা একটি বৈরি পরিবেশের মধ্যে বাস করছি। আজ আমাদের দেশে রাজনৈতিক কোনো পরিবেশ নেই, অর্থনৈতিক পরিবেশ নেই। এ দেশে এখন আমাদের বাঁচার অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো বর্তমান সরকারকে হঠাতে হবে। সরকার নিজেদের স্বার্থে সুপরিকল্পিতভাবে এমন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করেছে যেগুলো পরিবেশকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে। দুর্নীতি আছে। আছে ক্ষমতায় টিকে থাকার ব্যাপার।’
আজ সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিসটিটিউশন মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বাংলাদেশে পরিবেশ ভাবনা বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, যে সরকার দেশের পরিবেশ ধ্বংস করে, দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করে। সেই সরকারকে হঠানো ছাড়া কোনো পথ নেই।
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত থাকবে: ইত্তেফাক আরও জানিয়েছে,
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত ঘোষণা সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এ সংক্রান্ত রুল ৩১ শে জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন ডিভিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আপিল বিভাগ বলেছে, এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলো তা স্থগিত থাকবে।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।
আদালতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও রিট আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী শুনানি করেন।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত থাকবে তবে রুল নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আজ সোমবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. আয়েন উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, চাহিদা নির্ণয়, স্থানীয় উৎপাদন, মজুদ পরিস্থিতি, আমদানির পরিমাণ ইত্যাদি ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
চেক প্রতারণার মামলায় এমপি হারুনের বিরুদ্ধে সমন জারি: মানব জমিন
ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি বজলুল হক হারুনের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা মামলায় সমন জারি করেছে ঢাকার সিএমএম আদালত। জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমানের দায়েরকৃত প্রতারণা মামলায় আদালত এ সমন জারি করে। সোমবার বিচারক সাব্বির ইয়াসিন আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩শে নভেম্বর এমপি হারুনকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হওয়া আদেশ দেয়া হয়।
শ্রোতাবন্ধুরা ! ভারতের বাংলা দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ বিশেষ তুলে ধরছি।
বিধি ভেঙে এ যেন এক দূষণনগরী: আনন্দবাজার পত্রিকা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের আইন ও বিধি আছে। তা রূপায়ণ করার জন্য দফতর আছে। লোকলস্কর আছে। শুধু আইন মানার বা মানানোর সদিচ্ছা নেই। তাই দূষণ নিয়ে জেরবার মানুষ। দূষণজনিত সমস্যায় মৃত্যু বাড়ছে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত মানা হয় না। কিছু প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলা ছাড়া সারা বছর পরিবেশ দফতরের অস্তিত্ব কার্যত দূরবীন দিয়ে দেখতে হয়। যদিও ঘটা করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করার ব্যাপারে দফতরের উৎসাহ দেখার মতো। আজ,বিশ্ব পরিবেশ দিবস। দেখা যাক, দূষণ সঙ্গে নিয়ে কী ভাবে বেঁচে আছে কলকাতার মানুষ।
চিনকে টক্কর দিতে নরেন্দ্র মোদীর নীল নকশা: আনন্দবাজার পত্রিকার আরেকটি শিরোনাম
সঙ্ঘের স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ বলছে, চিনা পণ্য বয়কট করো। সরকার বলছে, সম্ভব নয়। ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা’-র বিধি মানতে হয়। অথচ চিনা পণ্যে ছেয়ে যাচ্ছে ভারতের বাজার। আর চিন তাদের দেশে সে ভাবে ঢুকতেও দিচ্ছে না ভারতকে।
এই জাঁতাকলে পড়ে চিনের উপর আর্থিক নির্ভরশীলতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি নকশা বানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
হিসেব বলছে, গত দু’দশকে ভারতে চিনা পণ্যের আমদানি বেড়েছে প্রায় আশি গুণ। এ দেশের বাজার জুড়ে চিনের দাপট। প্রতি বছর আমদানি বাড়ছে, তার থেকেও বেশি লাফিয়ে কমছে চিনে রফতানি। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে হু-হু করে। বারবার বলা সত্ত্বেও ভারতের পণ্যকে সে দেশে ঢুকতে দেওয়া নিয়ে গড়িমসি করে যাচ্ছে বেজিং। তিন বছর ধরে নরেন্দ্র মোদী ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান দিয়ে আসছেন। কিন্তু চিনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছেন কই?
এ বারে তাই চিনকে টক্কর দেওয়ার নকশা তৈরি করেছে মোদী সরকার। চিনের বাজার বুঝে ভারতকে আরও সক্ষম করার পাঁচ দফা সূত্র।
গুরুংকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ মিরিকে মমতার সভা: বর্তমান পত্রিকা
বিমল গুরুংকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ মিরিকে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভা জয়ের পর ঐতিহাসিক এই সভাকে ঘিরে মিরিকে এখন উৎসবের মেজাজ। এদিকে মোর্চা বাংলা ভাষাকে ইস্যু করে চরম বিরোধিতার রাস্তায় নেমেছে। ইতিমধ্যেই বিমল গুরুং হুংকার দিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসন জবরদস্তি করলে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে। রবিরার থেকে মিরিকে দু’ঘণ্টা করে আলো নিভিয়ে প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দিয়েছে মোর্চা। স্বাভাবিকভাবে পাহাড় এখন উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সভা তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতারণার অভিযোগ ধৃত চিট ফান্ড সংস্থা চক্র গ্রুপের কর্ণধার: সংবাদ প্রতিদিন

দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর অবশেষে গ্রেফতার চিট ফান্ড সংস্থা চক্র ইনফ্রাস্ট্রাকচার গ্রূপ অফ কোম্পানিজের মালিক পার্থ চক্রবর্তী৷ দীর্ঘ দিন ধরে তাঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল পুলিশ৷
শনিবার সকালে দমদম বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা৷ বাজার থেকে কয়েকশো কোটি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে চক্র গ্রূপের বিরুদ্ধে৷ গরফা থানা ছাড়াও পার্থ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে৷ ‘একদিন’ সংবাদপত্রের প্রাক্তন সম্পাদকও ছিলেন পার্থ।
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৫/৪৫৭