জুন ২১, ২০১৭ ১৩:২৯ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠক! আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি। আজ ২১ জুন বুধবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশের শিরোনাম: 

  • রাঙামাটি মহাসড়কে যান চলাচল শুরু-ইত্তেফাক
  • ইত্তেফাকের অন্য একটি খবরের শিরোনাম- শুরু হলো ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা
  • তোপে থাকা অর্থমন্ত্রীর পাশে তোফায়েল-প্রথম আলো
  • সরকারি গুদামে চাল দিতে মিল মালিকদের অনীহা-মানবজমিন
  • বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করতে আগামী অর্থবছর গুরুত্বপূর্ণ'-কালের কণ্ঠ
  • ২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ডলার: প্রধানমন্ত্রী-যুগান্তর
  • হাওরবাসীর কন্ঠে কেবলই বাঁচার আকুতি-নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • ধর্ষণে জেরবার উত্তরপ্রদেশে দিবানিদ্রায় পুলিশ, ভাইরাল ভিডিও-সংবাদ প্রতিদিন
  • সেনা প্রত্যাহার না হলে দার্জিলিংএ বনধ চলবে- মোর্চা-আজকাল
  • জামিনের আবেদন খারিজ, কলকাতার জেলে আনা হচ্ছে বিচারপতি কারনানকে-আনন্দবাজার

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরছি.. প্রথমে বাংলাদেশ

২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ডলার: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যুগান্তরে পরিবেশিত খবরটিতে লেখা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ২০৪১ সালে স্বাধীনতার ৭০তম জয়ন্তীতে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে। আজ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। 

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক এবং অর্থ  লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংককে জনগণের ট্যাক্সের টাকা দেয়ার বিষয় নিয়ে ঘরে বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল সংসদে তাকে অনেকটা অসম্মানজনক তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। এ সম্পর্কে আজকের প্রথম আলোর খবরে লেখা হয়েছে, 

তোপে থাকা অর্থমন্ত্রীর পাশে –বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল

ঘরে বাইরে তোপের মুখে থাকা অর্থমন্ত্রীর পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল ্‌আহমেদ

বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, জাতীয় সংসদে পরপর দুই দিন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের তোপের মুখে পড়া অর্থমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আস্থা আছে। তিনি আরও বাজেট দেবেন।

বিএনপির মুখে ‘গুম খুন হাস্যকর: ওবায়দুল কাদের-প্রথম আলো

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (ফাইল ফটো)

২১ হাজার নেতা-কর্মীর রক্তের দাগ রয়েছে বেগম জিয়ার হাতে। সে দাগ এখনো শুকায়নি। তাঁদের শাসনামলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে গেছে। এ দেশে তাঁরাই খুন-গুম শুরু করেছেন। তাঁদের মুখে গুম-খুনের কথা হাস্যকর।’ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আজ এ মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী প্রসঙ্গে বলেন, ‘ও সেখানে বসে বসে শুধু মিথ্যা কথা বলে। ও একটা প্যাথলজিক্যাল লায়ার।

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করার খবরটি এসেছে যুগান্তরসহ বেশ কয়েকটি দৈনিকে। ঘটনার ৪ দিন পর অভিযোগ দায়ের করা হলো।

সরকারি গুদামে চাল দিতে মিল মালিকদের অনীহা

সরকারি গুড়াতে চাল দিতে চাননা মিল মালিকরা

দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, বাজারে চালের দাম বাড়ায় সরকারের বেঁধে দেওয়া ৩৪ টাকা কেজিতে চাল দিতে অধিকাংশ মিলার নারাজ। এবার উত্তরাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মিলার খাদ্য অফিসের সঙ্গে চাল দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়নি। এতে সরকারি খাদ্যগুদামে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। চালের চলমান অস্থির বাজার এর জন্য দায়ী। ছোট ছোট মিলারদের লোকসানে খাদ্যগুদামে চাল দিতে বাধ্য করা হলেও রাঘববোয়ালরা এক কেজি চালও গুদামে এখন পর্যন্ত দেয়নি। তারা সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার পরিবর্তে খোলা বাজারে কেজিতে ১৫-১৮ বেশিতে চাল বিক্রি করছেন।

হাওরবাসীর কন্ঠে কেবলই বাঁচার আকুতি-নয়া দিগন্ত

হাওরবাসীর কান্না থামতে না

প্রতিবেদনটিতে লেখা হয়েছে, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ফসলহারা প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোতে ঈদের আনন্দ নেই। পরপর কয়েক বছর শিলাবৃষ্টি, অতিবর্ষন আর গেল চৈত্র মাসের বন্যার কারনে বছরে একটি মাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে না পারার ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের ঈদরে আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। পবিত্র রোজায় চরম কষ্টে দিনযাপন করে কোন রকম সংসার চালাতে তাদের কন্ঠে কেবলই শুধু বাঁচার আকুতি। সারা বছর পরিশ্রম করে গোলাঘরে ধান ভর্তি করে প্রতিবছর যারা ঈদের আনন্দে মেতে ওঠতেন, চলতি বছর ফসল ডুবির কারণে তাদের ঘরে অন্যান্য বছরের মতো এবার ঈদের আনন্দ নেই। অনেকেই ছেলে মেয়ে ও পরিবার পরিজনকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছেন না। 

শ্রোতাবন্ধুরা ! ভারতের বাংলা দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ বিশেষ তুলে ধরছি।

জামিনের আবেদন খারিজ, কলকাতার জেলে আনা হচ্ছে বিচারপতি কারনানকে-আনন্দবাজার

বিচারপতি কারনান গ্রেফতার 

খারিজ হয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত  বিচারপতি সি এস কারনানের অন্তবর্তীকালীন জামিনের আবেদন। সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। সে আবেদন সর্বোচ্চ আদালত আজ খারিজ করে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ বিচারপতি কারনানকে ছ’মাসের জন্য জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল আগেই। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই তিনি মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হন। কারাদণ্ডের নির্দেশ বাতিল হবে না বলেও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি এস কে কলের অবসরকালীন বেঞ্চ আজ তা জানিয়ে দিয়েছে। শীর্ষ আদালতকে অবমাননার দায়ে গত ৯ মে প্রাক্তন বিচারপতি সি এস কারনানকে ছ’মাসের কারাদণ্ড হয়।

নারীদের শ্লিলতাহানিতে উ্ত্তাল উত্তরপ্রদেশ, দিবানিদ্রায় পুলিশ -সংবাদ প্রতিদিন

উত্তরপ্রদেশের নারীদের শ্লিশলতাহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে।  মঙ্গলবারই চলন্ত  গাড়িতে এক মহিলাকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর গ্রেটার নয়ডায় এলাকায় আক্রান্ত মহিলাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। অভিযুক্তরা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে। এই ঘটনায় ফের যোগীর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর এরইমধ্যে খোদ রাজধানী লখনউতেই টহলদারি ভ্যানে বসে দিবানিদ্রা সারতে দেখা গেল দু’জন পুলিশকর্মীকে। 

দার্জিলিং পরিস্থিতি নিয়ে আজকালের খবরের শিরোনাম এরকম যে, সেনা প্রত্যাহার না হলে বন্‌ধ চলবে

পাহাড়ে মোর্চার বনধ নিয়ে নতুন কৌশল

পাহাড়ে অনির্দিষ্টকালের বন্‌ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মোর্চা নতুন কৌশল নিয়েছে।তারা দাবি তুলেছে পাহাড় থেকে সেনা সরাতে হবে। যতদিন না সেনা সরবে, মোর্চা বন্‌ধের পথ থেকে সরবে না। তবে নতুন করে বুধবার কোনও হিংসাত্মক ঘটনার ‌খবর দুপুর পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এরইমধ্যে আজ গ্যাংটকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর সঙ্গে দেখা করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার এক প্রতিনিধিদল। পৃথক গোর্খাল্যান্ড গড়ে তোলার দাবিতে রিজিজুকে ২ দফা দাবি তুলে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তাঁরা। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে-পৃথক গোর্খাল্যান্ড তৈরির প্রক্রিয়া যতদিন না গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা হবে, ততদিন পাহাড়ে অচলাবস্থা চলবেই।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২১