বিএনপি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে: ইনু
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২ ডিসেম্বর শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- পাহাড়ে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা চলছে: সন্তু লারমা- দৈনিক প্রথম আলো
- ‘বিএনপি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে’-দৈনিক ইত্তেফাক
- দুই ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা আদায়, ডিবির তিন সদস্য সাময়িক বরখাস্ত-দৈনিক যুগান্তর
- ইয়াবার রাজ্য-দৈনিক মানবজমিন
- জমি নিয়ে বিরোধ : দুই সন্তানসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- বিমানবন্দর রেল স্টেশনের পার্কিং বেদখল-রাজধানীবাসীর বিড়ম্বনা-৪-দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- আবার বীভত্সতা! স্কুল প্রশাসন দায় এড়াবে কী ভাবে?-আনন্দবাজার
- চলতি বছর নিকেশ ২০০ জঙ্গি: রাজনাথ-দৈনিক আজকাল
- প্রিন্সিপালের প্রশ্রয়ে অপরাধীদের বাড়বাড়ন্ত, স্কুল বন্ধের হুঁশিয়ারি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ৪ হোক বা ৪০, নারীশরীর কোনওভাবেই শুধু যৌনতার সামগ্রী নয়-এটিও দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের শিরোনাম
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
আনিসুল হকের বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হককে শেষবারের মতো দেখতে বনানীর বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বেলা পৌনে ২টার দিকে বনানীর ২৭ নম্বরের বাসায় এসে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক। প্রধানমন্ত্রী এ সময় রুবানা হক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমাবেদনা প্রকাশ করে সান্ত্বনা দেন।এর আগে আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হকের ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল শফিউল হক উপস্থিত ছিলেন। আনিসুল হকের লাশের সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী রুবানা হক ও ছেলে নাভিদুল হক।
স্ত্রীর সঙ্গেই গত ২৯ জুলাই পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যান। পরে সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে মারা যান জনপ্রিয় এ মেয়র।
তার মৃত্যুতে শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘জনকল্যাণ ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিলেন। জনবান্ধব এই মেয়রের মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধিকে হারাল।’
বিএনপি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে: ইনু-দৈনিক ইত্তেফাক
জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যারা রাজনীতি করছেন তারা বাংলাদেশের ক্ষতি করছেন এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন।
তথ্যমন্ত্রী আজ কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে ‘ভাসান চর হবে আত্মঘাতী’ বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশে রাখা হয়েছে। সুতরাং রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যাক বা অন্য জেলাতে পুনর্বাসনে যাক সেটার জন্য প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা দুর্বল হয়নি। এক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পাহাড়ে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা চলছে: সন্তু লারমা- দৈনিক প্রথম আলো
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা বলেছেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা চলছে। সংবিধান থেকে আমাদের মুছে দেওয়া হয়েছে। আমাদের অস্তিত্বহীন করে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ি জনগণ এখন কোথায় যাবে? কোথায় আশ্রয় নেবে?’
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে এক আলোচনা সভায় সন্তু লারমা এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সন্তু লারমা বলেন, বর্তমান সরকার ১৯৯৭ সালের আজকের দিনে এই চুক্তি করেছিল। কিন্তু এই চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই। চুক্তি বাস্তবায়নের যে দাবি সরকার করছে, সেটা আসলে শুভংকরের ফাঁকি।
দুই ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা আদায়, ডিবির তিন সদস্য সাময়িক বরখাস্ত-দৈনিক যুগান্তর
দুই সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবির) দক্ষিণ বিভাগের রমনা জোনাল টিমের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ কারণে টিমের তিন সদস্য পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকী, এসআই পলাশ কুমার নাথ ও কনস্টেবল সাইফুল কবিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯ নভেম্বর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসা থেকে তুলে নেয় ডিবি পুলিশ। গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে ব্যাংকে কত টাকা আছে, কিভাবে ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন, কোথা থেকে এত টাকা আয় হয়, এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এদিকে ব্যবসায়ী বিল্লালের স্ত্রী তার স্বামীকে পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিম তাকে নিয়ে গেছে। একপর্যায়ে আমিন নামের এক ব্যক্তির শরণাপন্ন হন বিল্লালের স্বজনরা। প্রথমে ৫০ লাখ, পরে ২০ লাখে নেমে আসে ডিবি কর্মকর্তারা। এক পর্যায়ে ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে আমিনের কাছে দিতে রাজি হন বিল্লালের স্বজনরা।
আমিন ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে বিকালে তার গাড়ি দিয়ে ডিবি কার্যালয় থেকে আসাদগেট সংলগ্ন আড়ংয়ের সামনে নামিয়ে দেন বিল্লালকে। আর ঘুষের টাকাও লেনদেন করে ডিবির সোর্স আমিন।
এ ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে আরেক সিএনজি ব্যবসায়ী কমল কুমার রায়কে তুলে নিয়ে যায় ডিবির ওই টিম। তাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় করে ডিবি পুলিশ।
চট্টগ্রামে ইয়াবার রাজ্য-দৈনিক মানবজমিন
পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হাতে ইয়াবা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের হাতেও ইয়াবা, ব্যবসায়ীদের কাছেও মিলছে ইয়াবা। বাস-কাভার্ড ভ্যান-প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালকের হাতেও ইয়াবা, ওষুধের দোকানে ইয়াবা, ভাসমান চা বিক্রির দোকানে ইয়াবা। চট্টগ্রামের সর্বত্র ধনী থেকে ফকির পর্যন্ত সবার কাছে এখন পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। এ যেন ইয়াবাময় রাজ্য চট্টগ্রাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে এমনভাবে কথাগুলো বললেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ইয়াবা পাচার নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
জমি নিয়ে বিরোধ : দুই সন্তানসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাতিজা তার আপন চাচি, চাচাত ভাই ও বোনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়াও চাচা গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার তারাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের শহর উল্লার বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত মোশারফ হোসেন এবং তার চার ভাইয়ের মধ্যে ১০ শতাংশ বসতভিটার বণ্টন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ৫ ভাইয়ের মধ্যে ২ ভাই সৌদিপ্রবাসী। বাকি ৩ জন এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ করা হয়। এতে কোনো প্রতিকার হয়নি।
বিমানবন্দর রেল স্টেশনের পার্কিং বেদখল-রাজধানীবাসীর বিড়ম্বনা-৪-দৈনিক ইনকিলাব
আকাশ পথে দেশে প্রবেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশী বিদেশী যাতায়াত করেন। তাদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় রেলপথে যাতায়াতের জন্য বিমানবন্দর রেলস্টেশন ব্যবহার করেন। কিন্ত রেলস্টেশন ও আশপাশ এলাকার পরিবেশ দেখে বাংলাদেশ সর্ম্পকে শুধু বিদেশীদের মধ্যেই বিরূপ প্রভাব পড়েনি। দেশী বিদেশী বিমানযাত্রীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়চ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অবহেলা এবং উদাসীনতার কারণে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপুর্ণ এলাকার রেলস্টেশনটি একন একটি বস্তিতে পরিণত হয়েছে। রেলস্টেশনের বাথরুম,টয়লেট, বিশ্রামাগার যেমন নোংরা ও ময়লায় ভর্ত্তি, তেমনি বাইরের পরিবেশও খারাপ। রেলস্টেশনের পাশেই রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তপ। বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপোযোগি, ময়লা র দুর্গেন্ধে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম। শুধু তাই নয়, রেলস্টেশনের পাশে যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য রাথা পার্কিং এর জায়গাও বেদখল হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, যাত্রীদের কারপার্কিং এর স্থলে রেন্টেকার, ট্যক্সি ক্যাব এবং ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ১৬ শক টাকা আদায় করা হয়। একেইভাবে পার্কিংএর জায়গা অলিখিতভাবে লিজ দেয়া হযেছে রেন্টেকার ও ট্যাক্সি চালকদের কাছে। স্টেশন মাস্টার, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সিআই, জিআরপি পুলিশের ইনচার্জ টাকার বিনিময়ে রেলস্টেশনের উভয় পাশে ৩ শতাধিক ভাসমান দোকানদারদের কাছে অলিখিতভাবে এ ইজারা দিয়েছেন।(রেলস্টেশনের উভয় পাশে শত শত অবৈধ দোকানপাট, বিমান যাত্রীসহ পথচারীরা ভোগান্তি শিকার : যাত্রীদের কারপার্কিং ট্যাক্সি ক্যাব রেন্ট-এ-কার চালকদের দখলে, মাসোহারা আদায় করেন স্টেশন মাস্টার, আরএনবি সিআই, ইনচার্জ এবং জিআরপি ইনচার্জ)
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘটানো হয়েছে। ঘাতক মবিনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার রহস্য জানা যাবে।
এবার কোলকাতার কিছু খবরের বিস্তারিত
চলতি বছর নিকেশ ২০০ জঙ্গি: রাজনাথ-দৈনিক আজকাল
সন্ত্রাসবাদ দমনে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না ভারতীয় সেনা। গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহুদা জেলার মহুদা শহরে একটি নির্বাচনী জনসভায় গিয়ে এমনটাই বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরে দু’শোর বেশিও জঙ্গিকে খতম করেছে সেনা। পাকিস্তানের নাম না করে রাজনাথ বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ প্রতিদিনই কিছু না কিছু সমস্যা তৈরি করছে। কিন্তু আমাদের সেনা কখনও ধৈর্য হারায় না। চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা নিরাপত্তাবাহিনীর মনোবল খুবই শক্ত। প্রায় রোজই তারা অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের খতম করছে। এখনও ডিসেম্বর মাস শেষ হয়নি। ফলে সংখ্যাটি বাড়বে।’ নির্বাচন নিয়ে রাজনাথ বলেন, ‘বিজেপি প্রায় ১৫০টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে। কারণ সাধারণ মানুষ বিজেপি ভোট দেবে।’ কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করে রাজনাথ বলেন, ‘গোটা দেশে দুর্নীতি করে নিজেদের নাক কংগ্রেস নিজেই কাটিয়েছে।
জি ডি বিড়লা স্কুলে নার্সারি পড়ুয়া ৪ বছরের এক শিশুর ওপর দুই শিক্ষকের বিকৃত যৌন লালসার আপডেট খবর ছাপা হয়েছে সংবাদ প্রতিদিন, আনন্দবাজারসহ প্রায় সব বাংলা দৈনিকে।
ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলে ম্যারাথন বিক্ষোভ অভিভাবকদের। এদিকে ঘটনার পর আতঙ্কে কার্যত বাকরুদ্ধ শিশুকন্যাটি। এদিকে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক অভিষেক রায় ও মহম্মদ মফিজুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্কুলের প্রিন্সিপালের প্রশ্রয়ে অপরাধীদের বাড়বাড়ন্ত বলে অভিযোগ তুলেছে শিশুটির পরিবারসহ অন্যরা। তারা স্কুল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গতকালের মতো আজও উত্তাল রানিকুঠির জি ডি বিড়লা স্কুল চত্বর। স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মধ্যে নির্যাতিতার বাবা ঘটনার জন্য স্কুলের প্রিন্সিপালকে দুষেছেন। তিনি বলেন, তিন বছর আগেও একইরকম ঘটনা ঘটেছিল। অপরাধীরা মনে করে এমন কাজ করলে শাস্তি হবে না।' পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, ‘‘প্রিন্সিপাল মিথ্যা কথা বলছেন। অনেক কিছু তথ্য গোপন করেছেন। তাঁর পদত্যাগ চাই।' বিচারের দাবিতে প্রয়োজন হাইকোর্ট এমনকী সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভেবেছে মেয়েটির পরিবার। তিনি আরও জানান, ‘‘এ শুধু আমার মেয়ের বিচার নয়। সব মেয়ের জন্য বিচার চাইছি। ভবিষ্যতে যাতে অন্য কোনও অভিভাবকের এভাবে চোখের জল না পড়ে তার জন্য যত দূর যাওয়ার যাব।'
আবার বীভত্সতা! স্কুল প্রশাসন দায় এড়াবে কী ভাবে?-দৈনিক আনন্দবাজার
বড় দুঃসময় আজ। পর পর দু’দিন কলম ধরতে হল ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির বীভৎসতার আবহে। কলম ধরতেই হল আজও এই বিষয়েই। নিরাপদ কেন বোধ করবেন না নাগরিক নিজেকে? প্রশ্ন তুলতে হয়েছিল আগের দিন। আজও একই প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে, কিন্তু পটভূমিটার অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে। কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন? প্রশ্নটা তুলতে হচ্ছে আজ এই ভাবে।
চণ্ডীগড়ের ক্ষত সামলে উঠতে পারেনি দেশ এখনও। কলকাতা রক্তাক্ত হল তার মধ্যেই আবার। চার বছরের শিশুর উপর যৌন নির্যাতন, অভিযোগের আঙুল দুই শিক্ষকের দিকে।
বীভৎসতা এবং বিকৃতি কী ভাবে সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে দিনের পর দিন, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হচ্ছে। চার বছরের শিশুরও রেহাই নেই যৌন বিকারের হাত থেকে। আর জঘন্য অপরাধটার অভিযোগ কাদের বিরুদ্ধে? দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে! কল্পনাতীত অধঃপতন, অবক্ষয় এবং অন্ধকার। কলকাতার নামী এবং দামি স্কুলের এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটা গোটা শহরকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কে কতটা নিরাপদ? আদৌ কি নিরাপত্তার কোনও স্পষ্ট আশ্বাস রয়েছে? কোনও আশ্বাসেই কি আর আস্থা রাখা যাচ্ছে? ঘরে ঘরে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আবহে আতঙ্কের ধ্বনি টের পাওয়া যাচ্ছে যেন।
৪ হোক বা ৪০, নারীশরীর কোনওভাবেই শুধু যৌনতার সামগ্রী নয়-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
এ বিষয়ে সংবাদ প্রতিদিনের অন্য একটি প্রতিবেদনে মনোবিদ অনুত্তমা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, ৪ হোক বা ৪০, নারীশরীর কোনওভাবেই শুধু যৌনতার সামগ্রী নয়। জিডি বিড়লায় চার বছরের শিশুই যৌন নির্যাতনের শিকার। অনেকেই এটাকে বিকৃতি বা মানসিক অসুস্থতা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু আমি এই শব্দগুলো প্রয়োগ করতে চাই না। কেননা এই শব্দগুলো অপরাধীকেই খানিকটা প্রশ্রয় দিয়ে ফেলে। যেইমাত্র আপনি তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলবেন, তখনই অন্য একটা জায়গা তৈরি হবে। বলা হবে, সেই অসুস্থতার কারণেই এই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তা তো নয়। আমি খুব স্পষ্ট করে বলছি, এটা হল ঘৃণ্য অপরাধ। সেক্সুয়াল অফেন্স।
প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষকরা কী করে এমন কাণ্ড ঘটালেন? আসলে শিক্ষকদের ভাবমূর্তি আমাদের কাছে একরকমভাবে তৈরি হয়ে আছে। আমরা তাই শকড, বিস্মিত হচ্ছি। কিন্তু এখন যাঁরা এই পেশায় আসছেন, তাঁরাও কি সেই একইরকম মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত? এ প্রশ্ন করার সময় এবার এসেছে।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২