পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় ১৪৫৬ কোটি টাকা
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৯ ডিসেম্বর শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- আগামী জাতীয় নির্বাচন-গণতন্ত্রে সমঝোতা অপরিহার্য-দৈনিক প্রথম আলো
- বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছি -প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইনকিলাব
- দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে : খালেদা জিয়া-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- বড় দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে ব্যবস্থা- দৈনিক যুগান্তর
- ভোট নিয়ে সংশয় থাকলেও বাড়ছে আগ্রহী প্রার্থী-দৈনিক ইত্তেফাক
- পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় ১৪৫৬ কোটি টাকা-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ আনল কংগ্রেস-আনন্দবাজার
- মণিশংকর আইয়ারকে সাসপেন্ড করল কংগ্রেস-দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
‘বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছি -প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইনকিলাব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারীকে ছাড়া সমাজ কখনো পরিপূর্ণ নয়। খোড়া পা দিয়ে সমাজ কতদূর যেতে পারবে? সবাইকে সমানভাবে এগোতে হবে। এই বাস্তবতা স্বীকার করতে আমাদের সময় লেগেছে। বেগম রোকেয়া যেমন অন্ধকারের অচলায়তন ভেঙ্গে নারীদের অগ্রযাত্রার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই আমরা এগিয়ে চলেছি বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবসে আলোচনা ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে : খালেদা জিয়া-দৈনিক নয়া দিগন্ত
বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে চলছে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূণ্যের নিচে অবস্থান করছে। আগামীকাল রোববার আন্তজার্তিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বেগম জিয়া এসব বলেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচন-গণতন্ত্রে সমঝোতা অপরিহার্য-দৈনিক প্রথম আলো
সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সবারই প্রত্যাশা। এ জন্য সরকারের তরফ থেকে আলোচনার উদ্যোগ নিতে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ অনেক দিন ধরে বলে আসছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে তা নাকচ করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেয়া হয়েছে। বিকল্প ধারা'র সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন,সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনড় অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। সব পক্ষই যদি অনড় অবস্থান ধরে রাখে, তাহলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা এই অচলাবস্থা চাই না। এ ক্ষেত্রে সরকারকে উদার মনোভাবাপন্ন হতে হবে। ‘নাকে খত’ দেওয়া রাজনৈতিক শালীন শব্দ নয়। এসব শব্দ ব্যবহার না করাই মঙ্গল।সরকারকে উদার হতে হবে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, শর্ত মেনে আলোচনা হতে পারে না। বিএনপির যে বক্তব্য বা দাবি, তা সব ধরনের আলোচনার সুযোগ বা সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিচ্ছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিলেও আমি মনে করি, সময় এখনো শেষ হয়ে যায় নি।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন,দেশে এখন নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে উদ্ধার করতে হবে। প্রশ্নটা যখন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা; তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই পক্ষই নিজেদের লাভ খুঁজছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন,
যাঁরা জাতীয় স্বার্থে কাজ করেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষ যাঁদের ওপর নির্ভর করে এবং আস্থা রাখে, তাঁদের কথাবার্তায় সংযত হওয়াটা খুবই জরুরি।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেকোনো মূল্যে সমঝোতা দরকার। প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তাতে তাঁর ক্ষোভের প্রকাশ ছিল। তবে সরকার যেহেতু নিজে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাচ্ছে, তাই সরকারের উচিত এ ব্যাপারে সবার সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া। যেহেতু সরকারের দায়িত্ব বেশি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন,
খালেদা জিয়া ও তাঁর সন্তানদের বিদেশে অবৈধ সম্পদ যদি থাকে, তাহলে এর তথ্য-প্রমাণসহ খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। দুর্নীতি দমন কমিশনেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। বর্তমান সরকার নয় বছর ধরে ক্ষমতায় আছে।
লেখক ও অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, আলোচনার পরিবেশ অনুপস্থিত। সরকারের মন্ত্রী হোক আর বিরোধী দলের নেতা হোক—অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কেবল অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কারও বিরুদ্ধে লেখা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কাজ না।
বড় দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে ব্যবস্থা- দৈনিক যুগান্তর
সব খাতেরই বড় দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে এ কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, আগামী বছর থেকে খাতওয়ারি বড় বড় দুর্নীতিবাজদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।তবে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।‘জনগণের অর্থ লোপাটের দিন শেষ। জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি করতে দেয়া হবে না।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের স্ত্রীর নামে সম্পদ রাখা একটা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এজন্য অনেক সময়ই দুর্নীতিবাজদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়।’
পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছেই-দৈনিক যুগান্তর
প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে আনুপাতিক হারে।
নতুন পেঁয়াজ উঠার মৌসুমে দাম এত বৃদ্ধিতে কপালে ভাঁজ ক্রেতাদের। দাম বাড়ার কারণ কী? খুচরা ব্যবসায়ীদের একটাই উত্তর, পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। আর পাইকারি ব্যবসায়ী মানেই মুখে পুরনো বুলি- সংকট! বাজার দরের সঙ্গে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ওয়েবসাইটের তথ্যে মিল নেই। তারপরও টিসিবির তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা।
পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় ১৪৫৬ কোটি টাকা-দৈনিক মানবজমিন
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশের পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১,৪৫৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার, যা আলোচিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৭২ শতাংশ বেশি। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১,৪৪৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৮৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১,৩৬২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত
ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ আনল কংগ্রেস-আনন্দবাজার
টান টান উত্তেজনার মধ্যেই আজ শনিবার গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। রাজ্যে মোট ১৮২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এ দিন ৮৯টিতে নির্বাচন হচ্ছে। বাকি ৯৩টি আসনে আগামী ১৪ ডিসেম্বর।এ দিন মোট ২ কোটি ১২ লাখ ৩১ হাজার ৬৫২ জন ভোটার ৯৭৭ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করছেন। ১৮ ডিসেম্বর ভোট গণনা হবে।
দক্ষিণ গুজরাত, সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ এবং কাঠিয়াবাড় অঞ্চলে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে। শেষ হবে বিকেল ৫টায়।
• পোরবন্দর, রাজকোট, সুরেন্দ্রনগরে ইভিএম জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র মণীশ দোশী বলেন, “ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ ব্যবহার করে ইভিএম জালিয়াতি করার চেষ্টা হয়েছে। কংগ্রেসের কাছে এর স্ক্রিনশট আছে। পোরবন্দরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। কমিশন বিষয়টা খতিয়ে দেখছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, সুরাত এবং বেশ কিছু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ইভিএমে প্রযুক্তিগত সমস্যার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই খবর পাওয়ার পরই ত্রুটিযুক্ত মেশিনগুলো পাল্টে দেওয়া হয়েছে। ৭-৮টা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ উঠেছে বলেও জানায় কমিশন।
• কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, “ভোটদানের হার দেখে বুঝতে পারছি এ বার আমরা বিপুল ভাবে জিতব।
মণিশংকর আইয়ারকে সাসপেন্ড করল কংগ্রেস-দৈনিক আজকাল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘নিচ আদমি’ বলার খেসারত দিতে হল কংগ্রেস নেতা মণিশংকর আইয়ারকে।তাঁকে কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড করল দল।এই ঘটনায় রাহুল গান্ধী মণিশংকরকে ক্ষমা চেয়ে নিতে বলেন। গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে একে অপরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেই চলেছে রাজনৈতিক নেতারা। মণিশংকর আইয়ার মোদিকে উদ্দেশ্য করে বৃহস্পতিবার বলে বসেন, ‘উনি খুব নিচু দরের মানুষ, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আর এই সুযোগে তিনি কি নোংরা রাজনীতি করতে অভ্যন্ত হয়ে পড়েছেন?’ তাঁর এই মন্তব্যের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়েননি মোদি। গুজরাটে প্রথম দফার নির্বাচনের আগে শেষ দিন প্রচারে মোদি বলেন, ‘তাঁরা আমাকে নিচ বলছেন। কিন্তু আমার কাজ খুব উঁচু দরের।’#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৯