ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭ ১৩:১৮ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৮ ডিসেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে: খালেদা জিয়া-দৈনিক ইত্তেফাক
  • প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রও ফাঁস!-প্রথম আলো
  • তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই-দৈনিক মানবজমিন
  • সবজি খাচ্ছে গরু-ছাগল : চৌগাছায় মুলার কেজি ২৫ পয়সা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • ঢাকায় এসে ছিনতাইয়ের কবলে মা, কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু-দৈনিক যুগান্তর
  • আ.লীগ ভোট চোর, কেন্দ্র পাহারা দেবেন : ফখরুল-দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • কংগ্রেসের স্বপ্ন অপূর্ণ, গুজরাতে টানা ছ’বার ক্ষমতায় বিজেপি-ই-দৈনিক আনন্দবাজার
  • রাহুল গান্ধীর কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়!‌-দৈনিক আজকাল
  • ভোটে হারলেই ইভিএমের উপর দোষ চাপান নেতারা, মত প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০-দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের খবর

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীরর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ১০

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অর্ধশত। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের রীমা কমিউনিটি সেন্টারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. হামিদ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে অন্তত ১৫ জনকে আনা হয়েছিল জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. হামিদ বলেন, ‌তাদের মধ্যে নয়জনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার প্রতি এক লাখ করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই-প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ( ফাইল ফটো)

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের মদতদানকারীদের যারা মন্ত্রী বানিয়েছে, তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দল গঠন করেছে, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করা একজন ব্যক্তি সেই দলকে কীভাবে সমর্থন দেন? তাদের কি জ্ঞান বা বোধশক্তি নেই? তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই? তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আর যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের নিয়ে দল গঠন করেছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, মন্ত্রী বানিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের। এদের সন্তানরা দেশের সব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। দেশের উন্নয়নে বিশ্বাসীরা তাদের কখনও ভোট দেবে না, ক্ষমতায় আসতে দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলছে, চলবে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যকে নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না, এটাই আজকের বিজয় দিবসের প্রতিজ্ঞা।

মানবজমিনের অন্য একটি খবরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা, তাই দেশের গণতন্ত্র তাদের চোখে পড়ে না।

দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে: খালেদা জিয়া-দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। গতকাল রবিবার টুইট বার্তায় একথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, একটি সমীক্ষা বলছে দেশের ৫ কোটির ওপর মানুষ খাদ্য-বঞ্চিত। প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ। এক দশক ধরে চাল-ডাল-পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্য বেড়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে এখন। উনয়ন কথামালায় থাকলেও, বাস্তবে মানুষ নিদারুণ কষ্টে, তারা মুক্তি চায়।

দৈনিক ইনকিলাবের একটি খবরে লেখা হয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে প্রস্তুত রংপুরবাসী। আওয়ামী লীগ হলো চোরের দল। তারা ভোট চুরি করবে। আপনার কেন্দ্র পাহারা দেবেন।

প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রও ফাঁস!-প্রথম আলো

বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ৩৯৫টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আর রাজশাহীর বাঘায় বিকেলের চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সকালেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। পরে বিকেলে পরীক্ষা শুরুর পর দেখা যায়, সকালে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে মূল প্রশ্নপত্র।এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১২ ডিসেম্বরের চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।সন্তানের হাতে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র দেখে উদ্বিগ্ন এক অভিভাবক প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘এই কোমলমতি শিশুদের প্রশ্নই যদি ফাঁস হয়ে যায়, তাহলে বলতেই হবে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গোড়াতেই পচন ধরেছে।’

বেকারত্ব-সরকারি চাকরির বিকল্প কী?-দৈনিক প্রথম আলো

বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে

দেশে একদিকে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। কিছুদিন আগে প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক কলামে এই প্রবণতাকে বিসিএস উন্মাদনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলাম। কারণ, সবাই তো আর সরকারি চাকরি পাবে না; যঁারা সেটা পাবেন না, তঁারা কী করবেন? তঁাদের সিংহভাগ যে অন্য চাকরির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন, তা–ও নয়। ফলে চাকরির বাজারে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।    

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পঁাচ বছর সময়ে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে প্রায় ১৮ হাজার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার নিয়োগ হয়েছে। অথচ প্রতিবছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে এই মুহূর্তে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি পদ শূন্য আছে। সব মিলিয়ে এক বছরে পাস করা তরুণ যদি সর্বনিম্ন বেতন স্কেলেও চাকরি করতে রাজি থাকেন, তারপরও তঁাদের সবাইকে সরকারি চাকরি পেতে পঁাচ বছর সময় লাগবে। কিন্তু প্রতিবছর যে আরও সমানসংখ্যক স্নাতক বের হচ্ছেন, তঁাদের জায়গা কোথায় হবে?

সব মিলিয়ে সরকারি চাকুরিতে মোট  শ্রমশক্তির ১০ ভাগের বেশি নয়। তাহলে অন্যদের বেসরকারি চাকরির ওপর নির্ভর করতে হয়। সাধারণভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি যত বেশি হবে, তত বেশি কর্মসংস্থান হবে। তাই প্রাথমিকভাবে সেটা নিশ্চিত করতে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

আমাদের বাস্তবতা হলো, ১৮ পেরোনোর পরও তরুণদের বুকে সাহস আসে না। জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে অন্য সবার মতো তরুণেরাও মুক্ত নয়। সে কারণে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন আছে, যাতে জীবনের বিভিন্ন বয়সে যে ঝুঁকিগুলো রয়েছে, সেগুলো তারুণ্যের চিন্তার প্রবাহে প্রতিবন্ধক হয়ে না দঁাড়ায়। পরিবারেও এই চিন্তার চাষাবাদ হওয়া দরকার। আর আন্তর্জাতিক শ্রম আইনগুলো যাতে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্যও প্রযোজ্য হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। সাধারণ শিক্ষার চেয়ে বিশেষায়িত শিক্ষায় বেশি জোর দিতে হবে। কোন খাতে কেমন জনবল দরকার বা আগামী দিনে কোন খাত বিকশিত হবে, শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই চাহিদা অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে হবে। এ জন্য দরকার সমন্বিত নীতি ও তৎপরতা। তা না হলে আমরা জনসংখ্যা ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে পারব না। বেকারত্ব সমস্যারও সমাধান হবে না।

ঢাকায় এসে ছিনতাইয়ের কবলে মা, কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু-দৈনিক যুগান্তর

ঢাকায় ছিনতাইয়ের কবলে মা, কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

অসুস্থ এক ছেলেকে চিকিৎসা করাতে শরীয়তপুর থেকে রাজধানীতে পৌঁছে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন এক মা। এ সময় ওই মায়ের কোল থেকে পড়ে মারা যায় তার ৯ মাস বয়সী ছেলে। সোমবার ভোরে রাজধানীর দয়াগঞ্জ ঢালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, শিশুটির মা ও বাবা ভোরে লঞ্চযোগে শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় আসেন। শাহ আলম ও আকলিমা বেগম দম্পতির আরেক সন্তান আল-আমিন অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা করাতেই তারা ঢাকা আসেন। এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, ভোরের দিকে সদরঘাটে নেমে শাহ আলম তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে রিকশায় করে শিশু হাসপাতালের দিকে রওনা হন। আরেকটি রিকশায় স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে তুলে দেন। তাদের যাওয়ার কথা আকলিমার বোনের বাসা শনিরআখড়ায়। রিকশাটি দয়াগঞ্জ ঢালে পৌঁছার পর পর ছিনতাইকারীরা আকলিমার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেয়। এ সময় তার কোল থেকে পড়ে শিশু আরাফাত মাটিতে পড়ে যায়।

 পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এসআই।

সবজি খাচ্ছে গরু-ছাগল : চৌগাছায় মুলার কেজি ২৫ পয়সা-দৈনিক নয়া দিগন্ত

কৃষকরা বিপাকে, সবজীর দাম খুবই কম

যশোরের চৌগাছায় প্রতি কেজি মুলার দাম ২৫ পয়সা। সে হিসেবে এক কেজি পিঁয়াজের দামে ৮ মন মুলা পাওয়া যাচ্ছে। পিঁয়াজের কেজি ১১০ টাকা হলেও মুলার মন মাত্র ১০ টাকা। ফলে মুলা চাষীরা মহাবিপাকে পড়েছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দীন জানান চলতি মৌসুমে উপজেলায় মুলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধা কপি, শিম, বেগুন, লাউ, পেপে, টমেটা, পটল, মিষ্টি কুমড়া, পালন শাক, পুইশাক, লালশাক, ধনিয়াপাতা ও বরবটিসহ বিভিন্ন জাতের তরি তরকারির চাষ হয়েছে প্রায় ২৬শ ৭৫ হেক্টর জমিতে। ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত তরকারির বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। 

এদিকে শীতের সবজির বাম্পার ফলন হলেও দাম পাচ্ছেনা কৃষকরা। অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে সবজি তুলছেন না। কৃষকদের অভিযোগ উৎপাদিত সবজির দাম না পাওয়ায় সজবি নিয়ে মহাবিপাকে পড়তে হচ্ছে।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

রাহুল গান্ধীর কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়!‌-দৈনিক আজকাল

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী

গুজরাট এবং হিমাচলপ্রদেশ বিধানসভার ফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি। তার দু’দিন আগেই তাঁকে কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশা ছিল, কংগ্রেস গুজরাটে সরকার গড়বে। আর তার কৃতিত্ব দেওয়া হবে নতুন কংগ্রেস সভাপতিকে। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গত তিন বছরে অনেক বিষয়ে বিতর্ক হয়েছে। তার ফল ভুগতে হবে বিজেপি’কে। আর লোপ্পা ক্যাচ ধরে গুজরাট জয় করবে কাটা হাত। ফল বলছে, আগের থেকে পশ্চিমের এই রাজ্যে ভাল ফল করেছে কংগ্রেস। কিন্তু সরকার গড়ার মতো কোনও কারণ ঘটেনি। সমস্ত শক্তি নিয়ে কংগ্রেস ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গুজরাট জয়ে। হিমাচলপ্রদেশে সরকার থাকা সত্ত্বেও সেদিকে নজর দেননি রাহুলরা। তাই এবার হিমাচলপ্রদেশও হাতছাড়া হয়েছে। বড় রাজ্য বলতে পাঞ্জাব এবং কর্নাটক ছাড়া আর কোনও রাজ্য কংগ্রেসের হাতে নেই। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের ব্যাটন হাতে নিয়েছেন রাহুল।

তিনি আশ্বস্ত হতে পারেন এটা দেখে যে দু’দশক আগে যখন সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখনও পরিস্থিতি এমনই ছিল। এরপরে গোধরা দাঙ্গা। ২০০৪ সালে মনমোহন সিং–কে প্রধানমন্ত্রী করে জোট সরকার গড়ে কংগ্রেস। এক দশক কংগ্রেস কেন্দ্র শাসন করেছে। রাহুলও কী পারবেন? 

গুজরাটে যে প্রচার তিনি করেছেন তাতে কংগ্রেস আশ্বস্ত হতে পারে। ফল যাই হোক না কেন, প্রচারে তিনি খামতি রাখেননি। চনমনে রাহুল নেমেছিলেন উত্তরপ্রদেশ ভোটের প্রচারে। সফল হননি। গুজরাটে হেরে যাওয়ার পরে রাহুলের সামনে বিকল্প খুব বেশি নেই। শুধুমাত্র ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিক মুল্যবোধের বুলিতে যে ভোটার মন ভিজবে না, তা বুঝতে হবে। হাই কম্যান্ড ভিত্তিক রাজনীতি ছেড়ে নতুন করে ভাবতে হবে। নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

কংগ্রেসের স্বপ্ন অপূর্ণ, গুজরাতে টানা ছ’বার ক্ষমতায় বিজেপি-ই-দৈনিক আনন্দবাজার

গুজরাট নির্বাচন

গুজরাতে এ বারেও ক্ষমতায় বিজেপি। এই নিয়ে টানা ছ’বার গুজরাতের রাশ থাকছে বিজেপির হাতে। যদিও গতবার, অর্থাৎ ২০১২-র বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বারের ফল তুলনামূলক ভাবে খারাপ হয়েছে বিজেপির। ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১১৫টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। সেখানে এ বারে ৭টি আসন খুইয়ে এখনও ১০৮টি রয়েছে বিজেপির জিম্মায়। অন্য দিকে, ২০১২-র বিধানসভা নির্বাচনে ৬১টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। এখনও পর্যন্ত যা হিসেব তাতে এখনও পর্যন্ত আরও ১১টি আসন বেড়েছে কংগ্রেসের। অন্যান্যরা পেয়েছে ২টি আসন।

ভোটে হারলেই ইভিএমের উপর দোষ চাপান নেতারা, মত প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের

ইভিএম

ভোটে হারলেই রাজনৈতিক দলের নেতারা ইভিএমের উপর দোষ চাপান। তাঁদের এই প্রবৃত্তি নতুন নয়। এমনটাই মত প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওলার। সোমবার দেশজুড়ে যখন গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশের ভোটগণনাকে ঘিরে পারদ চড়ছে, সেই পরিস্থিতিতে তাঁর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

সোমবার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দল ভোটে হারলেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের উপর দোষ চাপায়। আমি মনে করি এটা উচিত নয়।’ তাঁর সংযোজন, রাজনৈতিক দলগুলির বোঝা উচিত, নির্বাচন কমিশনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে। আর শুধু আমরা একা নই, আদালতও ইভিএমকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অভাবনীয় বলে উল্লেখ করেছে। গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশের গণনা শুরুর মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই পতিদার আন্দোলনের নেতা ও মোদি-বিরোধী হার্দিক প্যাটেল অভিযোগ করেন, ভোটে ইভিএম কারচুপির জন্য বাইরে থেকে হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার ভাড়া করে এনেছে বিজেপি। নাম না করে কি তাহলে হার্দিককেই জবাব দিলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার?

ভোরবেলা ভয়াবহ আগুন দোকানে, ঘুমন্ত অবস্থাতেই পুড়ে মৃত ১২-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

মাঝরাতে হঠাৎ করে ভয়াবহ আগুন দোকানে। আর তার জেরেই ঘুমের মধ্যে প্রাণ হারালেন ১২ জন ব্যক্তি। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের খাইরানি রোড এলাকায়। যাঁরা দোকানের বাইরে শুয়েছিলেন তাঁরা বেঁচে গেলেও, ভিতরে থাকা ওই ১২ জন মারা যান। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন দমকল কর্মীরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৮