সরকারের অত্যাচার থেকে মানুষ মুক্তি চায়: খালেদা জিয়া
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৪ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের অনলাইন শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের-প্রথম আলো
- সরকারের অত্যাচার থেকে মানুষ মুক্তি চায়: খালেদা জিয়া-দৈনিক ইত্তেফাক
- অল্পতেই চমকে উঠছেন মোবাশ্বার-প্রথম আলো
- অর্থনীতিতে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে খেলাপি ঋণ-দৈনিক যুগান্তর
- গাড়ি চোরের ভয়ংকর সিন্ডিকেট-দৈনিক মানবজমিন
- অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার-বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
- মহাসড়কে মহাভোগান্তি-দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- স্বস্তি বিজেপি–তে, কং লালুর পাশে-দৈনিক আনন্দাবাজার
- মুম্বইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত ক্যাব চালক -দৈনিক আজকাল
- আগামী বছর হজে যাওয়ার জন্য আবেদন রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম মহিলার-সংবাদ প্রতিদিন
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের-দৈনিক প্রথম আলো
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ রোববার সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দায়ের করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, ৯০৮টি রিভিউ আবেদনে ৯০টির বেশি যুক্তি রয়েছে।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। শুনানি শেষে ১৩ জুলাই আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে ওই আপিল খারিজ করে রায় দেন। পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশিত হয়।
পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই ডিএনসিসিতে মনোনয়ন দেয়া হবে-দৈনিক যুগান্তর
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি( নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে একথা বলেন।
তিনি রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বড় ব্যবধানে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখাতে বলেন। এছাড়া আগামী মাস থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, রসিক নির্বাচনে কারা দলীয় প্রার্থীকে অসহযোগিতা করেছেন তার একটি প্রতিবেদন চেয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়া জ্বালাও-পোড়াও করার পরেও বিএনপি প্রার্থী কিভাবে এত ভোট পেল, এমন মন্তব্য করে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। দলের এত বড় পরাজয়কে 'খুব' একটা বড় পরাজয় না হলেও ফলাফল অপ্রত্যাশিত ছিল বলে মন্তব্য করেন দলীয় প্রধান।
তবে রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তিনি বলেন, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পেরেছি এটাই বড় কথা।
আর বিএনপিও হয়তো এখানে সুষ্ঠু ভোট চেয়েছিল। তাই তারা সহিংসতার পথ বেছে নেয়নি। তবে নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তিনি।বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা রসিক নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, প্রার্থী মনোনয়নও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্কের বিষয়টি মনোনয়ন দেয়ার সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।
অর্থনীতিতে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে খেলাপি ঋণ-দৈনিক যুগান্তর
দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণ। মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপির হার ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিযোগী সব দেশের চেয়ে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বেশি।
এছাড়া প্রতিনিয়তই ব্যাংকে প্রতারণা ও জালিয়াতি বাড়ছে, যা ক্রমেই পুরো অর্থ ব্যবস্থায় দীর্ঘ মেয়াদে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
শনিবার রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ডিপে্লামা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী দিনের আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। সম্মেলনে আরও বেশকিছু সমস্যা উঠে এসেছে।
এগুলো হল- সুদের হার এখনও বেশি, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি, ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগ, কৃষি, স্থাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ কম এবং টেকসই বিনিয়োগের অভাব।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড.তৌফিক আহমদ বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কোনো ব্যাংক অক্সিজেন দিয়ে বঁাচিয়ে রাখা ঠিক হবে না। বরং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম কমিয়ে আনতে একটি ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া হলে তা একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একবার কেউ ব্যাংকের লাইসেন্স পেলে তা বঁাচিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকারের।
কিন্তু ফারমার্স ব্যাংকে যা হয়েছে, তাতে এ ব্যাংকের অবশ্যই মরে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, যত কিছুই করা হোক না কেন, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
সরকারের অত্যাচার থেকে মানুষ মুক্তি চায়: খালেদা জিয়া-দৈনিক যুগান্তর/
সব দলের অংশগ্রহনে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন চান খালেদা জিয়া। শনিবার রাতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমরা দেশে গণতন্ত্র চাই, বহুদলীয় গণতন্ত্র চাই। সবার অংশগ্রহনে যাতে দেশে একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হয় সেটি আমরা চাই।
সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তা নাহলে কিন্তু কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।
গুলশান কার্যালয়ে রাতে বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ওই সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। পরে সবাইকে নিয়ে বড়দিনে কেক কাটেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বড়দিনের প্রাক্কালে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করেন খালেদা জিয়া।
নতুন বছর ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায় অত্যাচার থেকে দেশের মানুষ মুক্তি চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বড়দিন ও নববর্ষে আমরা প্রত্যাশা করবো- আগামী বছরে গণতন্ত্র ফিরবে; শান্তি ফিরে আসবে। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির ‘একদলীয়’ নির্বাচনের কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ওই নির্বাচনে ক‘জন লোক গিয়েছিলো ভোট দিতে? যদি সত্যিকার নির্বাচনই হয় তাহলে কী করে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলো। এখন তারা চায় আবারো সেই রকমভাবে।
বিএনপিকে দুর্বল করার সরকারের দমননীতির কঠোর সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা করছে সরকারি দলের লোকরা। এর মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিশেষ করে যুব সমাজকে ধ্বংস করার কাজ করছে তারা।
ধরাও পড়ছে তারা কিন্তু তাদের কোনো বিচার হচ্ছেনা।দেশ আজকে অনাচারে ভরে গেছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ অন্ধকার একটা সময় অতিক্রম করছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে সব ধর্মের মানুষকে, সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।দেশের জন্য এক হতে হবে।
গাড়ি চোরের ভয়ংকর সিন্ডিকেট-দৈনিক মানবজমিন
ভাই, হুনেন এই লাইনে কিছু খারাপ লোক চলে আসছে! এজন্য আমাদের বদনাম হচ্ছে। গাড়ির মালিকরা অনেকে আমাদের বিশ্বাস করতে চায় না। টাকা দেয়ার পর যে গাড়ি ফেরত পাবে- এই ভরসা পায় না। কিন্তু আমরা এরকম না। এক জবান আমাদের। টাকা দিবেন গাড়ি ফেরত পাবেন।
কোনো চিন্তা কইরেন না। টাকা পাঠায়া দেন।’ গাড়ি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে মোবাইল ফোনে এভাবেই কথা বলছিল চোরচক্রের একজন। গাড়ির মালিক দুশ্চিন্তায়। টাকা দিয়েও যদি গাড়ি ফেরত না পান। বিশ্বাস রেখে টাকা পাঠাতে বলেছে চোরচক্রের সদস্য। দাবিকৃত টাকা পেলে ফেরত দেয়া হয় গাড়ি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও ঘটে। সমপ্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গাড়ি চোরচক্র। খোদ রাজধানীতে প্রতি মাসে শতাধিক গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটছে। চারদিকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। রয়েছে নিরাপত্তাকর্মীও। তার পরও মুহূর্তের মধ্যেই পার্কিং থেকে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে গাড়ি। এমনকি চালককে অজ্ঞান করে, মারধর করে গাড়ি নিয়ে যায় চক্রটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই ঘটছে এসব ঘটনা। চুরির তুলনায় গাড়ি উদ্ধারের সংখ্যা খুবই কম। চোরচক্র নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে। যে কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পেরে উঠছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাই সাধারণত থানা-পুলিশমুখো হতে চান না চুরি যাওয়া গাড়ির মালিকরা। বরং চুরি যাওয়া নিজের গাড়িটি টাকার বিনিময়ে ফিরিয়ে নেন চোরের কাছ থেকে। এক্ষেত্রে চোরেরাই কৌশলে যোগাযোগ করে। রয়েছে চোরের দালালপক্ষ। চোরের কাছ থেকে কমিশনের বিনিময়ে তারা মালিক ও চোরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।
পুলিশের হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় গাড়ি চুরির মামলা হয়েছে ৩৪৭টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৫০ জন। নভেম্বরে ৩৫টি গাড়ি চুরি হয়। গেল বছরে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় গাড়ি চুরির অভিযোগ এসেছে ৫৮২টি। অথচ গাড়ি উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ১৬৬টি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গাড়ি চুরির তুলনায় খুব কমই অভিযোগ পান তারা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চোর চক্রের ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে চান না। এর কারণ সম্পর্কে ভুক্তভোগী মালিকরা জানান, চোরচক্র গাড়ি চুরির পর টাকার বিনিময়ে ফেরত দিতে চায়। কিন্তু পুলিশমুখো হলে গাড়ি গায়েব করে ফেলে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মিথুন জানান, মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকে চোরচক্রের সদস্যরা। সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে এক ধরনের মাস্টার লক ব্যবহার করে। গাড়ি চুরি করে তাদের সর্দারের নিকট জড়ো করে। চক্রের কিছু সদস্য থাকে যাদের কাজ ফোনে গাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে টাকা আদায় করা।
মহাসড়কে মহাভোগান্তি-দৈনিক ইনকিলাব
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুরে রেলক্রসিং ওভারব্রিজ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একদিক দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় আরেক দিকের যানবাহন থেমে থাকছে। এতে করে রাত-দিন যানজট লেগেই আছে। ত্রিশ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৫/৬ ঘণ্টা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট রেগে আছে। খানাখন্দে ভরা সড়ক ও কুয়াশার কারনে ঢাকা থেকে রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যে কোনা জেলায় যেতে এখন দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-ফরিদপুর, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের অবস্থাও বেহাল।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার-বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি:বাংলাদেশ প্রতিদিন
দেশে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের ব্যবহার ও অপব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অপব্যবহারের কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা থাকছে না এবং সাময়িকভাবে রোগ সেরে গেলেও রোগীকে পরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। সঠিক মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যবহার না করার কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ওষুধের মাত্রা বাড়িয়েও রোগ সারছে না। উপরন্তু স্বাস্থ্যগত জটিলতায় পড়ছেন রোগীরা। আক্রান্ত হচ্ছেন নতুন রোগে। এদিকে অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ওষুধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; প্রোটিনযুক্ত খাবারের মধ্যেও ঢুকে পড়ছে। গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক প্রোটিন হিসেবে ঢুকছে মানুষের শরীরে। অথচ এ সম্পর্কে কার্যকর সচেতনতা গড়ে উঠছে না। সূত্র জানায়, দেশের মানুষের একটি সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসিতে গিয়ে দোকানির পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা সংস্থার (আইসিডিআরবি) এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের অপব্যবহার উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। সংস্থাটির গবেষক ডা. মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রামের ডাক্তার ও ফার্মেসির বিক্রেতারা রোগীদের চাহিদামাফিক অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন। এর শতকরা ৭৫ ভাগই সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না।’ সাধারণত সর্দি, জ্বর বা ছোটখাটো অসুস্থতায়ও রোগীদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়।
চিকিৎসকরা জানান, অ্যান্টিবায়োটিক একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেবন করতে হয়। নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ওই ওষুধের বিপরীতে ধ্বংস না হয়ে কৌশলী আচরণে বেঁচে থাকে। ফলে এ চিকিৎসা কোনো কাজে আসে না, পরবর্তীতে ওই জীবাণুকে ওষুধসহনশীল করে তোলে। নিম্নমানের বা ভেজাল ওষুধে পরিমাণের তুলনায় কম মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক থাকায় জীবাণুরা প্রতিরোধী হয়ে ওঠে অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। এ কারণে অতি সাধারণ রোগ নির্মূলে অনেক উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে প্রোটিনযুক্ত খাবারের মধ্যে মাছ, মুরগি ও গরুর মাংস মানুষের খাদ্য তালিকায় বেশ জনপ্রিয়। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়ও ফ্রাইড চিকেন, মাংস ও মাছ খেতেই বেশি পছন্দ করে সবাই। এসব খাবারের প্রতি তরুণ সমাজের আগ্রহ অন্যদের চেয়ে বেশি। কিন্তু এসব পছন্দনীয় খাবারের মধ্যে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক মানুষকে কিডনি, হার্ট, লিভারের রোগ এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক-সন্ত্রাস থেকে রোগীদের বাঁচাতে হলে এর পরিমিত ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেমন, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের প্রয়োজন পড়লে কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত দিন সেবন করতে হয়। কিন্তু যেহেতু এ দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই তাই যথেচ্ছভাবে ব্যক্তিপর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বেশি হয়। এ ছাড়া ব্রঙ্ককাইটিস, ঠাণ্ডা, ফ্লু, কাশি, কানের-গলার ইনফেকশনসহ কিছু কিছু ইনফেকশন ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়। এসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই। তবুও বেশির ভাগ রোগী হয় নিজেরা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন অথবা অনেক ডাক্তারও না বুঝেই অ্যান্টিবায়োটিক দেন। তাই কোনো অবস্থাতেই অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। পাশাপাশি ওষুধের দোকানগুলো থেকেও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা উচিত নয়। স্বাস্থ্য বিভাগেরও দায়িত্ব ওষুধের দোকানে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যেন অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা জাতীয় কোনো পর্যায়েই সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. রাকিবুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে সেটা এখন আর কাজে আসছে না। মানুষের শরীর ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে মানুষের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। কিডনি রোগ বাড়ছে। মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।’
অল্পতেই চমকে উঠছেন মোবাশ্বার-দৈনিক প্রথম আলো
ভীতির মধ্যে আছেন মোবাশ্বার হাসান। অল্প কিছু হলেই চমকে উঠছেন। ধীরে ধীরে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন, প্রত্যাশা তাঁর পরিবারের।
দীর্ঘ ৪৪ দিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটায় ফিরে আসেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। একটি মাইক্রোবাসে করে কে বা কারা তাঁকে বিমানবন্দর সড়কে রেখে যায়। ফিরে এসে মোবাশ্বার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও কে বা কারা, কী কারণে তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
মোবাশ্বারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি এখনো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেননি। সব সময় অন্যমনস্ক থাকছেন। কথা ঠিকমতো ধরতে পারছেন না। তবে তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। বন্ধুবান্ধব এলে দেখা করছেন।
মোবাশ্বারের বোন তামান্না তাসমিন প্রথম আলোকে বলেন, মোবাশ্বার যদি মনে করেন ট্রমা কাটাতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন, তবেই তাঁরা তাঁকে নিয়ে যাবেন। তবে তিনি নিজেই স্বাভাবিক হবেন—এমনটাই তাঁরা আশা করছেন।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তামান্না বলেছেন, ‘এত অপেক্ষার পর যে ঘরের মানুষ ঘরে ফিরেছে, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। আপনাদের সবার দোয়া আর শুভকামনাতেই তো আমাদের পরিবারটা আবার সম্পূর্ণ হয়েছে। তাই কাউকে ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করব না। শুধু বলব, আমাদের ছোট্ট পরিবারটা যেন আগের মতো শান্তিতে থাকতে পারে, সে জন্য দোয়া করবেন।’
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর
স্বস্তি বিজেপি–তে, কং লালুর পাশে-দৈনিক আনন্দাবাজার/আজকাল/সংবাদ প্রতিদিন
স্বস্তি বিজেপি–তে। অন্যদিকে মুষড়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি বিরোধী শিবিরে। রাঁচিতে বিশেষ সিবিআই আদালত লালুপ্রসাদকে পশুখাদ্য মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পর এটাই ছিল রাজধানীর রাজনৈতিক মহলের ছবি।
বিজেপি স্বস্তিতে, কারণ পরপর দু’দিন ২জি ও আদর্শ আবাসন কেলেঙ্কারির রায়ে দুর্নীতির তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল শাসক দল। আজ লালুপ্রসাদের পক্ষে রায় গেলে সেই সমালোচনার সুর যে আরও তীব্র হবে তা জানতেন বিজেপি নেতারা। তাই সকাল থেকেই চাপা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন তাঁরা। তা থেকে মুক্তি মেলে বিকেল ৩টের কিছু পরে। অন্যদিকে আশায় ছিল কংগ্রেস, আরজেডি–সহ বাকি বিরোধী দলগুলি। পরপর তিনদিনে তৃতীয় বার সিবিআই মুখ থুবড়ে পড়বে, এমনটা ধরে নিয়েই তাঁরা সকাল থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁদের সেই অঙ্ক মেলেনি। তাই রায়ের কথা জানাজানি হতে অনেকেই মুখ খুলতে চাইছিলেন না। কিছু পরে অবশ্য তাঁদেরই আবার দেখা যায় বিজেপি–র বিরুদ্ধে পুরোদমে বিষোদ্গার করতে।
মুম্বইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত ক্যাব চালক -দৈনিক আজকাল
মুম্বইয়ের এক ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ৩০ বছর বয়সী ওই যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিস ক্যাব চালককে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের থানেতে। ধৃত ক্যাব চালকের নাম সুরেশ পাণ্ডুরাং গোসাভি। এই ঘটনায় ওই ক্যাব চালককে সাহায্য করার জন্য উমেশ যশোবন্ত জালা নামে আরও ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওই মহিলা জানিয়েছেন, বুধবার কাশিমিরিয়া থেকে থানে যাওয়ার জন্য ওই সুরেশ পাণ্ডুরাংয়ের ক্যাবে উঠেছিলেন তিনি। আগে থেকেই ক্যাবে বসেছিল উমেশ নামে একজন। অভিযোগ, গন্তব্যে না নিয়ে গিয়ে তাঁকে জোর করে নির্জন এলাকায় একটি লজে নিয়ে যায় ২ জন। তারপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা টাকা ও অন্য মূল্যবান সামগ্রীও কেড়ে নেওয়া হয়। থানে গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার মহেশ প্যাটেল বলেন, অভিযুক্তরা ওই মহিলাকে ব্রজেশ্বরী এলাকার একটি লজে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযোগ দায়েরের পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আগামী বছর হজে যাওয়ার জন্য আবেদন রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম মহিলার-সংবাদ প্রতিদিন
মোদি জমানায় নিয়ম শিথিল হতেই হজযাত্রা করতে চেয়ে আবেদন করলেন রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম মহিলা। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী বছর পুরুষসঙ্গী ছাড়া হজে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ১ হাজার ২৪৪ জন মহিলা। এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ১৬ জনের আবেদন মঞ্জুরও করা হয়েছে।
কিন্তু, হজযাত্রা নিয়ে মুসলিম মহিলাদের এই তুমুল উৎসাহের কারণটা কী? সৌদি আরব-সহ আরব দুনিয়ার মতো এতটা রক্ষণশীল নন এদেশের মুসলিমরা। এখানে অনেকেই বোরখা পড়েন। তবে মুসলিম মহিলাদের রাস্তায় চলাফেরা করা নিয়ে তেমন কোনও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ নেই। কিন্তু, কোনও মুসলিম মহিলা যদি হজে যেতে চান, তাহলে স্বামী বা এমন কোনও পুরুষ আত্মীয়, যাঁর সঙ্গে বিয়ের কোনও সম্ভবনা নেই, তাঁকে সঙ্গে নিতে হয়। এই প্রথা বা রেওয়াজ মেহরাম নামে পরিচিত। সেই রেওয়াজ মেনে পুরুষসঙ্গী ছাড়া মুসলিম মহিলাদের হজে যাওয়ার অনুমতি দিত না কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকও। কিন্তু, গত অক্টোবর মাসে হজ যাত্রা অনুমোদন সংক্রান্ত নিয়মে পালটেছে মোদি সরকার। নয়া নিয়মে এখন স্বামী বা কোনও পুরুষ আত্মীয় ছাড়াই দলবদ্ধভাবে মুসলিম মহিলারাও হজে যেতে পারবেন।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৪