আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন জয় অথবা পুতুল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৫ ডিসেম্বর শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনার প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতেই দেখে নেব ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রধান প্রধান বাংলা দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিরোনাম:
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বন্ধু ভারত আতঙ্ক সৃষ্টির মতো কিছু করবে না, আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর- দৈনিক প্রথম আলো
- ডাক্তারদের ঘাড়ে কয়টা মাথা যে বলবেন খালেদা জিয়া খারাপ আছেন: ফখরুল- দৈনিক যুগান্তর।
- আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন জয় অথবা পুতুল- আমাদের সময়
- দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতার পেছনে বিএনপির ইন্ধন: কাদের- দৈনিক সমকাল।
- খেত থেকে চুরি হচ্ছে পেঁয়াজ, রাত জেগে পাহারা- দৈনিক নয়াদিগন্ত।
- এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয় : গণপূর্তমন্ত্রী- দৈনিক কালের কণ্ঠ।
ভারতের শিরোনাম:
- রাজ্যে বিনিয়োগের আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর- দৈনিক আজকাল
- এনকাউন্টারে মৃত্যু হায়দরাবাদ গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত ৪ অভিযুক্তের- দৈনিক বর্তমান
- অনেকেই বলছেন সাবাশ, কেউ বলছেন অন্যায়, তেলঙ্গানা এনকাউন্টার নিয়ে তোলপাড় দেশ- দৈনিক আনন্দবাজার
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন বাছাই করা কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ:
বন্ধু ভারত আতঙ্ক সৃষ্টির মতো কিছু করবে না, আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর- দৈনিক প্রথম আলো

বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বরং বন্ধুত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত এগিয়ে যাবে। উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আজ শুক্রবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এসব কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ সংগ্রামে ভারতের বহুমাত্রিক অবদানের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।
বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। তিনি বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ একটি মাস। এই মাসে তাঁরা দুর্দশা ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ভারত তার নিজস্ব সম্পদের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে প্রায় এক কোটি নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছিল এবং ভারতের সেনারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। বন্ধুরা একে অপরের জন্য এটাই করে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ বছরের ভিসা, আর্মড ফোর্সেস হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।
ডাক্তারদের ঘাড়ে কয়টা মাথা যে বলবেন খালেদা জিয়া খারাপ আছেন: ফখরুল

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকদের অবাধ ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যখন বলেন যে, সব ঠিক আছে, তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন, রাজার হালতে আছেন; তখন বিএসএমএমইউর উপাচার্য ও ডাক্তারদের ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে, বলবেন তিনি (খালেদা) খারাপ আছেন।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আবদুস সালাম হলে '৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য আয়োজিত খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের সাজা বাতিল এবং স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কালকে সরকার আদালত অবমাননা করেছে। বিএসএমএমইউর উপাচার্য আদালত অবমাননা করেছেন। কারণ আদালত ৫ তারিখের মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। কোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন যে, এই রিপোর্ট ডাক্তারদের স্বাক্ষরসহ হাজির করতে হবে। কিন্তু তারা করেননি। তার আগের দিন প্রধানমন্ত্রী বললেন— ‘খুব ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।’ এমন বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করে অবমাননা করেছেন।
বিচার বিভাগ খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে চাপে আছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে বিচার বিভাগের যে অবস্থা, সেখানে কে কতটা সাহস রাখবেন, তা আমি জানি না।খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সবসময় সরকারের স্বার্থরক্ষার জন্য চেষ্টা করেন। এমনভাবে চেষ্টা করেন যে, সরকারের না হয় দলের স্বার্থরক্ষার জন্য চেষ্টা করেন। এতকিছুর পরও আমরা হতাশ হয়েছি, সুপ্রিমকোর্টের বিচার বিভাগ এ বিষয়টিকে লক্ষ্য করেনি। এই বিষয়ে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেয়নি।’
আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন জয় অথবা পুতুল- আমাদের সময়

প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় ও অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইস্যুতে। আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন সামনে রেখে আগামী ২০ থেকে ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার খবর শোনা যাচ্ছে। তবে তারা এমন আগ্রহের কথা এখনো জানাননি।
জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে এক নম্বর সদস্য হিসেবে পুনর্র্নিবাচিত হন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আওয়ামী লীগের শীর্য পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগই চান বঙ্গবন্ধুর এই ২ উত্তরসূরি দলের নেতৃত্বে আসুক। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা মনে করেন, বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি তথা কূটনৈতিক বিষয়ে স্পষ্ট ধারণাসম্পন্ন মানুষের নেতৃত্বে আসা জরুরি। এসব বিষয়ে জয় ও পুতুল দুজনেই যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন। তবে জয় ও পুতুল একই সঙ্গে নেতৃত্বে না এলেও তাদেরও কোনো একজন আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটি একান্তই পার্টির সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। তবে ওই দু’জন রাজনীতিতে আসবেন কিনা সেটাও জানার ব্যাপার।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতক চক্রের হাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা শেখ হাসিনা এবং খালা শেখ রেহানার সঙ্গে লন্ডনে থাকায় বেঁচে যান জয়। পরে মায়ের সঙ্গে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় মেলে তার। শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতেই। পড়াশোনা করেন ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজ ও তামিলনাড়ুর পালানি হিলেসর কোডাইকানাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। এরপর বেঙ্গালুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, পদার্থ এবং গণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আরেকটি ব্যাচেলর ডিগ্রি অব সায়েন্স অর্জন করেন। সব শেষে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন। ২০০৭ সালে জয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক ‘গ্লোবাল’ লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার বিষয়টি নিয়ে আসেন জয়। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর জয়কে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে অবৈতনিক উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়।
‘বিএনপি যে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অংশ, তাদের আচরণই তা প্রমাণ করে- দৈনিক ইত্তেফাক

বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির সময় আদালতে বিএনপির হট্টগোল সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, 'বিএনপি যে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অংশ, সেটি তারা তাদের আচরণ দিয়ে প্রমাণ করেছে।' শুক্রবার সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'বিএনপির জন্য এই ধরণের আচরণ কোনো নতুন ঘটনা নয়। বিএনপি এর আগেও আদালত প্রাঙ্গণের ভিতরে মিছিল করা থেকে শুরু করে তৎকালীন বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছিলো।'
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপি তাদের আচার আচরণ সব সময়ই প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশের সংসদ ও আইন বিশ্বাস করে না। তারা সংসদকে তোয়াক্কা করে না। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটিও আমি মনে করি ভিন্ন কিছু করেনি। সর্বোচ্চ আদালতে বিএনপির এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা সারাদেশের মানুষের কাছে ফুটে উঠেছে।'
এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নইম পাটওয়ারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী আরো কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতার পেছনে বিএনপির ইন্ধন: কাদের- দৈনিক সমকাল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীলতার পেছনে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারণ দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে তারা (বিএনপি) ইন্ধন দিচ্ছে, মদদ দিচ্ছে।
শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে দফতর উপ-কমিটির এ সভায় বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের ব্যর্থতার কোনো সীমা নেই। তারা রাজনৈতিকভাবেও ব্যর্থ। সাংগঠনিকভাবে তাদের নেতৃত্বের নির্দেশ আসে টেমস নদীর ওপাড় থেকে। তাদের নেতৃত্ব ঠিক নেই। নেতাদের কেউ বলেন রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন, আবার কাউকে পাওয়াই যায় না।
খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটা দুর্নীতির মামলা। দুর্নীতির মামলায় সরকারের কোনো করণীয় থাকে না। রাজনৈতিক মামলা হলে সরকার রাজনৈতিকভাবে মুক্তির কথা বিবেচনা করতে পারতো। তারা বলে, সরকার রাজনৈতিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না। অভিযোগটি সত্যের অপলাপ।
এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয় : গণপূর্তমন্ত্রী- দৈনিক কালের কণ্ঠ

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি শতভাগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সাথে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের নিজ-নিজ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদি পালন করছে। তিনি বলেন, এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়।
শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পিরোজপুর জেলার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব ধর্মের লোকের বসবাস রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধর্মের লোকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছেন। যে যার ধর্ম শান্তিপূর্নভাবে পালন করতে পারছে। বিএনপি-জামায়াতের আমলে এ দেশের হিন্দুদের নির্যাতন করা হয়। জামায়াত বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সনাতন ধর্মালম্বীদের মন্দির এবং বাড়িঘর লুট করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। তাদের ধর্মীয় কর্মকাণে্ড বাধা সৃষ্টি করা হয়।
খেত থেকে চুরি হচ্ছে পেঁয়াজ, রাত জেগে পাহারা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

দাম অনেক বেশি হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে পেঁয়াজ। চোরের ভয়ে রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা দিচ্ছেন পেঁয়াজ চাষিরা।সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশি দাম পাবার আশায় দুই মাস আগে জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজের বীজ রোপণ করেছিলেন এই জেলার অনেক কৃষক। পেঁয়াজের আকার বড় হয়েছে। ২০-২৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়ে উঠবে। বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার ভালো হওয়ায় এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজ খেতে চোরের দল হানা দিতে শুরু করেছে। তাই চুরি হওয়ার ভয়ে রাত জেগে পেঁয়াজ খেত পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। গত মৌসুমে পেঁয়াজের দর ভালো না পেলেও এবার বাজার দর বেশি হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা।
কৃষকরা জানায়, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। গত বছর পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি হয়েছে। তবে এবার পেঁয়াজের বাজার ভালো। আবহাওয়াও অনুকূলে। তাই ফলনও ভালো হবে বলে আশা তাদের। শেষ পর্যন্ত যদি বাজার এমন থাকে তাহলে লাভের মুখ দেখবেন তারা। তবে এরই মধ্যে পেঁয়াজের জমিতে চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকে।
সদর উপজেলার হায়াতমোড় এলাকার পেঁয়াজ চাষি আমিরুল হক জানান, আগাম পেঁয়াজ লাগালে দাম বেশি পাওয়া যায়। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। এখন পেঁয়াজ অনেকটা বড় হয়ে গেছে। এবার পেঁয়াজের বাজার দর ভালো থাকায় লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।
এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:
রাজ্যে বিনিয়োগের আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর- দৈনিক আজকাল

বাংলায় বিনিয়োগ করতে শিল্পপতিদের আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার আইটিসি সোনার হোটেলে ‘ইনফোকম–২০১৯’ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্প বিষয়ক দুদিনের ওই আলোচনা সভার উদ্বোধনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তাঁর ভাষণে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন ও তাকে ঘিরে দ্রুত অগ্রগতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। মমতা বলেন, ‘সারা দেশে যে অনিশ্চয়তা, তার চেয়ে বাংলা এখন অনেক ভাল আছে। আমাদের রাজ্যে জমি ব্যাঙ্ক আছে। শিল্পের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আপনারা শিল্প করুন। বিনিয়োগ করুন বাংলায়।’
কেন্দ্রে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মমতা এদিন রাজ্যের উন্নয়নে তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। মমতার মতে, কেন্দ্রে মোদি সরকারের ভুল আর্থিক নীতিতে মন্দার সৃষ্টি হয়েছে সারা দেশে। তাঁর কথায়, ‘উন্নতি থমকে রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বহু শিল্প কারখানা। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অন্ধকার নেমে এসেছে। তবু বলব, এই পরিস্থিতিতে বাংলা ভাল রয়েছে।’ তার কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর মতে গত কয়েক বছরে শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরাট সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি যেমন সম্ভাবনা বাড়িয়েছে, তেমনই পরিষেবামূলক শিল্পক্ষেত্র, পর্যটন, বিশেষত চা–শিল্পকে ঘিরে শিল্পায়নের দিক খুলে গিয়েছে। মমতা বলেছেন, ‘আমরা ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমিয়েছি। দক্ষ শ্রমিক কর্মচারী রয়েছে আমাদের রাজ্যে। এত খারাপ সময়ের মধ্যেও দারিদ্র দূর করেছি আমরা। ব্যাঙ্কের তথ্য বলছে, মাঝারি ও ছোট শিল্পের এক নম্বরে রয়েছে এখন বাংলা। ৯০ লক্ষ ইউনিট কাজ করছে এখানে। ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ যুক্ত রয়েছে এই শিল্পে।’
এনকাউন্টারে মৃত্যু হায়দরাবাদ গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত ৪ অভিযুক্তের- দৈনিক বর্তমান

পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এনকাউন্টারে মৃত্যু হল চার অভিযুক্তের। পুলিস সূত্রে খবর, সে দিনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে আজ ভোর প্রায় তিনটে নাগাদ ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিযুক্তদের। ছিল কড়া পুলিসি নিরাপত্তাও। কিন্তু তখন গাঢ় কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল এলাকা। সেই সময় পুলিসের নজর এড়িয়ে ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। তাদের থামতে বলা হয়, এমনকী শূন্যে গুলিও চালায় পুলিস। শেষে উপায়ন্তর না দেখে একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান পুলিস কর্মীরা। এদিন হায়দরাবাদ পুলিস কমিশনার অঞ্জনি কুমার জানিয়েছেন ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফ, নবীন, শিবা এবং চেন্নাকেশাভুলু এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে।
আজ সকালে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের। উদ্দেশ্য ছিল, ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জানা। পুরো বিষয়টি ভালো করে বুঝে নেওয়া। কিন্তু এলাকায় ব্যাপক কুয়াশা থাকায় পালাতে চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। বাধ্য হয়েই গুলি চালান পুলিস কর্মীরা। তাতেই মৃত্যু হয় ওই চারজনের। অন্যদিকে তেলঙ্গানার আইনমন্ত্রী এ ইন্দ্রকরণ রেড্ডি জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা পুলিসের অস্ত্র ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে। ফলে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিস। তাতেই মৃত্যু হয়েছে ওই অভিযুক্তদের। ঘটনার পর এদিন বিকেলে সাইবারাবাদের সিপি ভি সি সজ্জনার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, অকুস্থলে অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়ার পর পুলিস হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে তারা। কয়েকজন পুলিস কর্মীদের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলিও ছুঁড়তে শুরু করে। আমাদের লক্ষ্য করে পাঁথরও ছোঁড়া হয়। তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হলেও তারা আমাদের কথা শোনেনি। ফলে আত্মরক্ষার্থে আমরা গুলি চালাতে বাধ্য হই। তাতেই ওই চারজনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তদের হামলায় দু’জন পুলিস কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই শুক্রবার সকালে হওয়া এনকাউন্টারের খবর জেনেছেন ওই নির্যাতিতার পরিবারও। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানিয়েছেন, তাঁরা এই খবরে অত্যন্ত খুশি। এদিনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দিল্লি গণধর্ষণ কাণ্ডের নির্যাতিতা নির্ভয়ার মা। তিনি বলেন, অন্তত একটি মেয়ে সুবিচার পেল। আমি এই পদক্ষেপের জন্য পুলিসকে ধন্যবাদ জানাই।
অনেকেই বলছেন সাবাশ, কেউ বলছেন অন্যায়, তেলঙ্গানা এনকাউন্টার নিয়ে তোলপাড় দেশ- দৈনিক আনন্দবাজার
ভোররাতের তেলঙ্গানা এনকাউন্টারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশ জুড়ে প্রশংসার বন্যা। তবে এ ভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সে প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে সাবাশির স্রোতের মধ্যেও। আইনরক্ষদের হাতে বিচারাধীন বন্দিদের হত্যাকেই শেষে কি বিচার ভেবে বসলেন দেশের জনতা! এ দিন পুলিশকে লক্ষ্য করে পুষ্পবৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেকরই প্রশ্ন, গোটা ঘটনায় কি বিচারব্যবস্থার অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে না?
শুক্রবার ভোররাতে পুলিশি এনকাউন্টারে গণধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তদের নিহত হওয়ার ঘটনা এ দিন সাতসকালে শোনার পর নিজের স্বস্তি চেপে রাখতে পারেননি নির্যাতিতার বাবা। তাঁর মতে, এই ঘটনার পর মেয়ের আত্মা শান্তি পেল। তিনি বলেন, ‘‘দশ দিন হল আমার মেয়ে মারা গিয়েছে। পুলিশ এবং সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। মেয়ের আত্মা এখন অবশ্যই শান্তি পেয়েছে।’’
২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদের শামশাবাদে এক তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে খুন করে ওই চার অভিযুক্ত। এর পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে সাদনগরে পুড়িয়ে ফেলা হয় ওই তরুণীর দেহ। এ দিন গভীর রাতে ওই ঘটনার পুনর্নিমাণ করতে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, সে সময় তাঁদের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তেরা। আত্মরক্ষার্থে তাদের গুলি করে মারা হয়।
তো শ্রোতাবন্ধুরা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। এ আসর নিয়ে আবার আমরা হাজির হব আগামীকাল।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।