জানুয়ারি ১৫, ২০২০ ১২:৪০ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৫ জানুয়ারি বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার রায় ২৩ জানুয়ারি-দৈনিক ইত্তেফাক
  • দেনা শোধ করতে না পেরে ধর্ষকের হাতে মেয়েকে তুলে দিলো বাবা-দৈনিক মানবজমিন
  • বেড়েছে ধর্ষণ ও নির্যাতন-দৈনিক প্রথম আলো
  • বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে উন্নয়নে: আইআরআই -দৈনিক যুগান্তর
  • প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থী বহিষ্কারের বিধান বাতিল-দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:    

  • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জের! ৬ মাস পর কাশ্মীরে আংশিকভাবে ফিরছে ইন্টারনেট -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • ২২ জানুয়ারি ফাঁসি হচ্ছে না নির্ভয়া কাণ্ডের ৪ দোষীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • সিএএ–এনআরসি–এনপিআর মানছি না’, ওয়াংখেড়েতে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন পড়ুয়ারা -দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. গতকাল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে অন্তত দুজন সংসদ সদস্য ক্রসফায়ারে ধর্ষকদের হত্যার দাবি জানিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

২. ইরানের ওপর নতুন করে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার হুমকি দিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। কতটা যৌক্তিক তাদের এই ভূমিকা?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর।

আজও বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে ইরান- মার্কিন উত্তেজনা ও পরবর্তী নানা ফলোআপ খবর পরিবেশিত হয়েছে। এ সম্পর্কে দৈনিক প্রথম আলো এ এফপির বরাত দিয়ে লিখেছে,

ইরানি হামলায় যেন অন্ধ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকে মার্কিনিদের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র হামলা

আকাশে শক্তিশালী চোখ থাকার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে পারেনি মার্কিন সেনারা।  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় কয়েক ঘণ্টা পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল ইরাকে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে সেনারা আকাশে তাদের শক্তিশালী নজরদারির নিয়ন্ত্রণ হারায়। যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য অন্ধ হয়ে যায় তারা।

ইরাকের আইন আল-আসাদ মার্কিন বিমান ঘাঁটিটি যখন ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পর্যুদস্ত, তখন মুহূর্তের মধ্যে চোখে ধাঁধা লাগে মার্কিন সেনাদের। আকাশে মার্কিন সেনাদের অতি শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল নজরদারি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির বর্ণনায় উঠে এসেছে সেদিনের হামলায় মার্কিন সেনাদের অসহায়ত্বের চিত্র। ঘাঁটিতে যৌথ বাহিনী আয়োজিত গণমাধ্যমের পরিদর্শন অনুষ্ঠানে এএফপির সঙ্গে কথা হয় সেদিন ঘটনাস্থলে থাকা মার্কিন সেনাদের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিমান ঘাঁটিতে আঘাত করে। ঘাঁটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী মোতায়েন ছিল। ঘাঁটিতে নজরদারি রাখার জন্য ওই সময় মার্কিন সেনাদের সাতটি ড্রোন মানবশূন্য যান আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেলস (ইউএভিএস) ইরাকের আকাশজুড়ে উড়ছিল। এতে যুক্ত ছিল এমকিউ-১ সি গ্রে ঈগলস নামের অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন যেগুলো ২৭ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে এবং চারটি পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে।

ঘাঁটিতে অবস্থানরত ইউএস ড্রোন

এর একজন পাইলট ২৬ বছর বয়সী স্টাফ সার্জেন্ট কসটিন হেরউইগ বলেন, ‘সংঘাত হতে পারে ভেবে আমরা এয়ারক্রাফটগুলো (ড্রোন) চালু রেখেছিলাম।’

৩ জানুয়ারি ইরাকের বাগদাদে ইরানি জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যার পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরান যখন মার্কিন ঘাঁটিতে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তখন হেরউইগ গ্রে ঈগল চালাচ্ছিলেন। হামলার আগাম সতর্কতার নির্দেশ পেয়ে ঘাঁটির দেড় হাজার সেনার বেশির ভাগই দুই ঘণ্টা ধরে বাংকারে অবস্থান করছিল। তবে ১৪ জন পাইলটকে ঘোর কালো ভার্চ্যুয়াল ককপিটে বসে যানগুলোকে রিমোট কন্ট্রোলে উড়াতে হচ্ছিল। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরায় চোখ রেখে চারপাশের পরিস্থিতি দেখছিলেন তাঁরা।

হেরউইগ বলেন, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের শেল্টারে আঘাত হানে। তবে পাইলটদের আগের অবস্থানেই থাকতে হয়। এরপর একের পর এক আঘাত হতে থাকে। তিনি ভাগ্যকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। সেনারা জানায়, তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। পাইলটদের অপারেশন কক্ষ লাগোয়া ঘুমানোর কোয়ার্টারে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে।

ফার্স্ট সার্জেন্ট ওয়েসলে কিলপ্যাট্রিক বলেন, শেষ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার এক মিনিটেরও কম সময়ে আমি বেশ কিছুটা পেছন দিকে দিয়ে ঘুরে বাংকারের দিকে যাচ্ছিলাম। দেখলাম, আমাদের ফাইবার লাইনগুলো আগুনে পুড়ছে। ওই লাইনগুলো ভার্চ্যুয়াল ককপিট থেকে এন্টেনা এবং স্যাটেলাইটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এর মাধ্যমে গ্রে ঈগলসে সিগন্যাল পাঠানো হতো এবং ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফিডব্যাক আইন আল-আসাদ ঘাঁটির স্ক্রিনে চলে যেত। কিলপ্যাট্রিক বলেন, ফাইবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

ফলে সেনারা ড্রোনগুলোর অবস্থান আর খুঁজে পাচ্ছিল না এবং আকাশে-মাটিতে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে কিছু জানতে পারছিল না। তারা ঘটনা সম্পর্কে পুরো অন্ধকারে চলে যায়।

ওই সময় কোনো ড্রোনকে ভূপাতিত করা হলেও আইন আল-আসাদে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বাহিনী খবর পেত না।

হেরউইগ বলেন, ‘এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। একে তো এটা অনেক ব্যয়বহুল। তা ছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যে, আমরা চাই না তা অন্যের হাতে পড়ুক বা শত্রুপক্ষ পেয়ে যাক।’

২০১৯ সালে মার্কিন সামরিক বাজেট অনুসারে, একটি গ্রে ঈগলের দাম ৭০ লাখ মার্কিন ডলার (৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি)। ইরাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মোতায়েনরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী ২০১৭ সাল থেকে এটি ব্যবহার করছে। ইরাকের আকাশে ড্রোন ও উড়োজাহাজ ওড়ানোর জন্য যৌথ বাহিনী ইরাকি সরকারের কাছে সবুজ সংকেত পেয়েছে। তবে ইরান হামলা চালানোর কয়েক দিন আগে ওই অনুমোদনের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। এরপরও ইরাকের আকাশে ড্রোন চালানো অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী।

৮ জানুয়ারি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একপর্যায়ে পাইলটরা বাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তবে হামলা বন্ধ হওয়া মাত্র তার ফের ছুটে গিয়ে গ্রে ঈগলসের সঙ্গে সংযোগ পাওয়ার চেষ্টা করে। ভোর হলে সেনারা পুড়ে যাওয়া ফাইবারের ৫০০ মিটার পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে গর্ত তৈরি হয় এবং নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ফাঁকা পড়ে থাকে। হেরউইগ বলেন, ‘এয়ার ক্র্যাফট অবতরণের জায়গা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই কারও সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই আমাদের অন্যত্র অবতরণ করাতে হয়। বাকি এয়ারক্রাফট কোথায় আছে আমরা জানতাম না। ওই সময়টা বেশ উদ্বেগজনক ছিল।’

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন সেনাদের জন্য অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল গ্রে ঈগলকে অবতরণ করানো। উদ্বেগজনক পর্যায়ে জ্বালানি কমে যাওয়ার আগে পর্যন্ত সেগুলোকে আকাশে উড়তে হয়েছিল। পাইলটদের কয়েক ঘণ্টা লেগেছে এক এক করে ড্রোন অবতরণ করাতে। সকাল নয়টায় শেষ ড্রোনটিকে অবতরণ করানো হয়।

ট্রাম্পকে নিয়ে রসিকতায় মাতলেন আসাদ-পুতিন-দৈনিক যুগান্তর

ট্রাম্পকে নিয়ে পুতিন ও আসাদের হাসাহাসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে হাসিঠাট্টায় মেতে উঠেছেন সিরিয়ার প্রেসিডন্ট বাসার আল-আসাদ ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই নেতার রসিকতার মুহূর্তটি তাদের অজান্তেই ক্যামেরাবন্দি হয়ে যায়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কোর মঙ্গলবার রাশিয়া ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট দেখা করেন। দামেস্কোর ভার্জিন ম্যারিতে অর্থোডক্স চার্চে ট্রাম্প প্রসঙ্গে কথা বলেন এই দুই নেতা।

আসাদ বলেন, ট্রাম্পের উচিত যিশুখ্রিস্টের এক শিষ্যের পদক্ষেপ অনুসরণ করা। তাতে সবকিছুই তার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আসাদের এই কথায় হাসতে থাকেন পুতিন। বলেন, ট্রাম্পের উচিত এই প্রস্তাব গ্রহণ করা। রাশিয়ান-১ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে হাসাহাসি করছেন পুতিন। আসাদ তাকে খ্রিস্ট ধর্মপ্রচারক সেন্ট পলের বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিচ্ছিলেন।

প্রথম জীবনে খ্রিস্টধর্মের প্রতি বিদ্বেষী ছিলেন সেন্ট পল। তার আগের নাম ছিল শৌল। তিনি খ্রিস্টানদের প্রতি অত্যাচার করতেন। কিলিকিয়ার তার্য শহরে তার জন্ম, এই শহরেই তার বেড়ে ওঠা। শিক্ষক গমলিয়েলের কাছে তিনি ইহুদিধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করেন। কঠোরভাবে নিজের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতেন পল। যিশুর পথে যারা চলতেন তিনি তাদের অত্যাচার করে হত্যা করতেন। ইহুদি মহাপুরোহিত ও ধর্ম নেতাদের আদেশে খ্রিস্টানদের বন্দি করতে তিনি দামেস্ক শহর থেকে জেরুজালেম শহরে যাচ্ছিলেন। দুপুর বেলা। দামেস্কোর কাছাকাছি আসলে হঠাৎ তার চারদিকে স্বর্গ থেকে উজ্জ্বল আলো পড়লে তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন।

তিনি শুনতে পেলেন কেউ যেন তাকে বলছেন‚ শৌল, শৌল, কেন তুমি আমাকে কষ্ট দিচ্ছ? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, প্রভু আপনি কে? তিনি বললেন, আমি নাসরতের যিশু; যাকে তুমি কষ্ট দিচ্ছ।

তখন শৌল বললেন, প্রভু আমি কি করব? প্রভু বললেন, ওঠ দামেস্কে যাও, তোমার জন্য যা ঠিক করে রাখা হয়েছে; তা সেখানেই তোমাকে বলা হবে। তখন তার সঙ্গীরা তাকে দামস্ক নিয়ে গেলেন। কেননা তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে সাধু অ্যানানেইয়াস নামে একজন খ্রিস্টভক্ত তার কাছে এলেন। তিনি তার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, ভাই শৌল, তোমার দেখবার শক্তি ফিরে আসুক।

আর তখনই পল দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন। অ্যানানেইয়াস আরও বললেন, যিশু তোমাকে বেছে নিয়েছেন, তুমি তারই সাক্ষী হবে এবং যা দেখেছ ও শুনেছ সব মানুষের তা তা বলবে। এরপর সেন্ট পল খ্রিস্টধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কোর যে ফটকে অ্যানানেইয়াস তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেখানেই রাশিয়া ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট দেখা করেন। দামেস্কোর ভার্জিন ম্যারিতে অর্থোডক্স চার্চে পুতিনের পরিদর্শনের সময় হাসতে হাসতে আসাদ বলেন, যদি ট্রাম্প এই পথ দিয়ে আসেন, তবে সবকিছুই তার সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। জবাবে রসিকতা করে পুতিন বলেন, ট্রাম্পের উচিত এই প্রস্তাব গ্রহণ করা। যদি তিনি সেটা না করেন, তবে দেশটিতে সফরে গিয়ে তিনি তাকে তা বোঝাবেন। টুইটারে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পুতিন বলছেন— এটা ঠিক হয়ে যাবে... তাকে আমন্ত্রণ করেন। তিনি আসবেন। যখন আসাদ বলেন, তিনি ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত। মুচকি হেসে পুতিন বলেন, আমি তাকে বলবো। মধ্যপ্রাচ্যে সফরের মধ্যেই সিরিয়া সফরে যান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মার্কিন সেনা তাড়াতে বিশাল পদযাত্রার ঘোষণা আল সদরের-দৈনিক যুগান্তর

ইরাকের জনপ্রিয় আমেরিকাবিরোধী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদর দেশ থেকে মার্কিন বাহিনী বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের বিশাল এক পদযাত্রারও ঘোষণা দিয়েছেন এ শিয়া নেতা। খবর আলজাজিরার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক পোস্টে মুক্তাদা আল সদর ওই পদযাত্রার ঘোষণা দেন।

ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে টুইটারের ওই পোস্টে সদর বলেন, প্রতিদিন দখলকারী সেনাদের মাধ্যমে ইরাকের আকাশ, ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে।

তাদের অযাচিত উপস্থিতির নিন্দা জানাতে দেশবাসীকে একতাবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ওই পদযাত্রায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান সদর। তবে ঠিক কবে, কোথায় ওই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি এ নেতা। এরই মাঝে সদরের পদযাত্রায় অংশ নেয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে দেশটির শিয়া গোষ্ঠীগুলো। ইরাকের পার্লামেন্টে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারবিষয়ক একটি বিল পাস হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সদর এ পদযাত্রার ঘোষণা দিলেন।

দেনা শোধ করতে না পেরে ধর্ষকের হাতে মেয়েকে তুলে দিলো বাবা-দৈনিক মানবজমিন

দেনার দায়ে বাবা তার মেয়েকে তুলে দিল ধর্ষকের হাতে

দেনা শোধ করতে না পেরে নিজের ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে পাওনাদার ধর্ষকের হাতে তুলে  দিয়েছে এক বাবা। দীর্ঘদিন ধরে ওই পাওনাদার মেয়েটিকে ধর্ষণের এ প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো তারই বাবার কাছে। অবশেষে বাবা রাজি হয়ে মেয়েটিকে তার কাছে তুলে দেয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায়। এ ঘটনায় কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি তার বাবাকেও আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৯৯৯-এ কল পেয়ে মেয়েটিকে কামরাঙ্গীরচরের বেটারিঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোর্শেদ আলী জানান, কামরাঙ্গীরচর বেটারিঘাট এলাকায় থাকে কিশোরীর পরিবার। তার মা বিদেশে থাকে। তার বাবা একটি মুরগীর দোকানে কাজ করে।

দোকানের মালিক আবুল (৩৫) কিশোরীর বাবার কাছে ৬ হাজার টাকা পায়। সেই টাকা দিতে না পারায় তার মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায় ওই মালিক। দীর্ঘদিন চেষ্টার পর কয়েকদিন আগে বাবার সহায়তায় কিশোরীকে ধর্ষণ করে সে।

এসআই আরও জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশের বাসার এক মহিলার কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। এরপর ওই মহিলা ৯৯৯-এ  ফোন দেয়। ফোন পেয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আর ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য তার বাবাকেও আটক করা হয়। প্রতিবেশী ওই মহিলা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এদিকে ধর্ষক আবুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বেড়েছে ধর্ষণ ও নির্যাতন-দৈনিক প্রথম আলো

ফরিদপুরে ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংরক্ষিত নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালে জেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬৬টি। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫১ এবং ২০১৭ সালে ছিল ৪২। অর্থাৎ তিন বছর ধরে ফরিদপুরে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে।

এ বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে ফরিদপুরের সচেতন নাগরিকদের। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসন না মানার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ মাদকাসক্ত। পাশাপাশি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে চলে গেছে মুঠোফোন।’

বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে উন্নয়নে: আইআরআই-দৈনিক যুগান্তর

আই আর আই প্রতিবেদন

বাংলাদেশের মানুষ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)।এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি গত এক বছরে জনসমর্থন বেড়েছে বলেও সংস্থাটির সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বিপরীতে কমেছে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা।

সম্প্রতি আইআরআই পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শেখ হাসিনার সরকারের বছরপূর্তিতে সংস্থাটি এ জনমত জরিপ করে। এই জরিপের ফল তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৯ সালের ১ অগাস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেডস্টোন সায়েন্টিফিকের তত্ত্বাবধানে এই জরিপ পরিচালনা করে আইআরআই।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-দৈনিক মানবজমিন

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সারা বিশ্বের মানবাধিকার নিয়ে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২০’তে বাংলাদেশ অধ্যায়ে তারা বলেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ছিল সারা বছরই। কিন্তু সেই আহ্বানকে তোয়াক্কা করেনি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। দুই বছরের মতো সময় জেলে আছেন বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও সমালোচক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের কণ্ঠরোধ করা বন্ধ হয় নি। পক্ষান্তরে ভূমিধস বিজয়ের ফলে দৃশ্যত এসব পক্ষকে দমনপীড়নে উৎসাহী হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার ওপর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো নির্যাতনে যুক্ত থাকা নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়মুক্তি ছিল এ বছরে পরিব্যাপক। সরকারের সমালোচকদের দমনপীড়নে মত প্রকাশের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদ- অব্যাহতভাবে লঙ্ঘন করেছে সরকার। প্রতিবেশী মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে জোর করে তাদের ফেরত না পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে বাংলাদেশ।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার রায় ২৩ জানুয়ারি-দৈনিক ইত্তেফাক

Image Caption

রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার রায় আগামী ২৩ জানুয়ারি ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) । সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে গাম্বিয়ার বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের আন্তর্জাতিক জেনোসাইড কনভেনশন ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে গাম্বিয়া। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি সেনা পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন, নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণ করা হয়।

এদিকে গত মাসে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে নিজের দেশের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি। সেখানে তিনি মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মামলার শুনানির অধিকার নেই আন্তর্জাতিক আদালতের।ওই সময় গাম্বিয়ার পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার তথ্য প্রমাণ উত্থাপন করা হয় এবং সেখানে গণহত্যা বন্ধের আহবান জানানো হয়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১১ নভম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

২২ জানুয়ারি ফাঁসি হচ্ছে না নির্ভয়া কাণ্ডের ৪ দোষীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

নির্ভয়া কাণ্ডে চার দোষীর ফাঁসি হচ্ছে না ২২ জানুয়ারি

নির্ভয়া কাণ্ডে চার দোষীর ফাঁসি হচ্ছে না ২২ জানুয়ারি। রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অন্তত ১৪ দিন সময় দিতে হয় অপরাধীদের। সেই নিয়মেই ২২ তারিখ চার জনকে ফাঁসি দেওয়া যাবে না বলে জানাল দিল্লি হাইকোর্ট।  

নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষী বিনয় শর্মা, মুকেশ কুমার, পবন গুপ্ত ও অক্ষয়কুমার সিংহকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। তার পর হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। এর পর সুপ্রিম কোর্টে রায় সংশোধনের আর্জিও খারিজ হয়ে যায়। এর মধ্যেই দিল্লির বিশেষ আদালতে নির্ভয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি চার জনের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছিল নিম্ন আদালত। আদালত জানিয়েছিল, ২২ জানুয়ারি সকাল সাতটায় তিহাড় জেলে চার দোষীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জের! ৬ মাস পর কাশ্মীরে আংশিকভাবে ফিরছে ইন্টারনেট-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট কাশ্মীরে নাগরিক পরিষেবা বন্ধ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার ব্যপারটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল। তার জেরে এবার আংশিকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া শুরু করলেন উপত্যকাবাসী। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে তিন পাতার একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে কাশ্মীরে আংশিকভাবে ফিরছে ব্রডব্যান্ড পরিষেবা। তবে, আপাতত পরিষেবা দেওয়া হবে কয়েকটি জায়গায়। ধীরে ধীরে গোটা উপত্যকা এর আওতায় আসবে।

সিএএ–এনআরসি–এনপিআর মানছি না’, ওয়াংখেড়েতে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন পড়ুয়ারা-দৈনিক আজকাল

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি এবং এনপিআর বিরোধী বিক্ষোভ এবার আছড়ে পড়ল মঙ্গলবারের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ভারত–অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচ চলাকালীন অভিনব বিক্ষোভ দেখা গেল। কেন্দ্রের আনা নতুন আইনের প্রতিবাদ করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচকেই হাতিয়ার করলেন পড়ুয়ারা। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দেখা গেল নো এনআরসি–নো সিএএ–নো এনপিআর লেখা টি–শার্ট পরে হাজির একঝাঁক পড়ুয়া। তাঁদের দেখামাত্রই বিজেপি সমর্থকরা তুললেন মোদি–মোদি স্লোগান। ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হল। যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

সংশোধিত নাগরকিত্ব আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। কেউ কেউ প্রতিবাদে অভিনবত্বও এনেছেন। মঙ্গলবারের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও দেখা গেল অভিনব প্রতিবাদ।

ঐশীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য ভুয়ো, সরব মা শর্মিষ্ঠা ঘোষ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

জেএনইউ কাণ্ডে আক্রান্ত ঐশী ঘোষকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ভুয়া তথ্য, জবাব দিল তার মা

জেএনইউ কাণ্ডে আক্রান্ত ঐশী ঘোষকে নিয়ে গত কয়েকদিন প্রচুর ভুয়ো তথ্য ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছাত্র সংসদের সভানেত্রী দুর্গাপুরের ঐশী ঘোষ নাকি আক্রান্ত হওয়ার নাটক করছেন। তাঁর ভুয়ো ছবি ফেসবুক, টুইটারে ভাইরাল করার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ছড়িয়েছে হাজারো মিম, ভুয়ো তথ্য। ছাত্রী হিসাবে কেমন এসএফআই নেত্রী ঐশী? এবার মুখ খুললেন তাঁর মা শর্মিষ্ঠা ঘোষ। জানালেন, শৈশবের লাজুক ঐশীর মেধা সম্পর্কে জানলে গর্ব হবে। স্কুল জীবন থেকেই ছবি আঁকতে ভালবাসত মেয়ে। তার জন্য স্কুল-কলেজে প্রচুর পুরস্কারও পেয়েছেন ঐশী।

৫ জানুয়ারি জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগুত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে আহত হন ঐশী ঘোষ-সহ বহু ছাত্র-ছাত্রী। তারপর থেকেই গেরুয়া শিবিরের নিশানায় বছর চব্বিশের তরুণী। এবিভিপি এবং বিজেপি নেতারা তাঁকে নিয়ে কদর্য মিমে ভরিয়ে দিয়েছে সোশ্যাল সাইটগুলি। তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর, স্মৃতি ইরানিরা। অনেকেই তাঁর মেধা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু সেই সব ধারণায় জল ঢেলে দিয়েছেন তাঁর মা। তিনি জানিয়েছেন, বরাবরই মেধাবী ছাত্রী ছিলেন তাঁর মেয়ে। মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ নম্বর এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ঐশী। তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লিতে পাড়ি। সেখানে দৌলত রাম কলেজ থেকে ফার্স্ট ক্লাস স্নাতকের ডিগ্রি নিয়ে জেএনইউতে ভরতি হন ঐশী। সেখানেও মেধার পরিচয় দিয়েছেন ঐশী। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শিক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস মাস্টার্স করার পর এখন ইন্টিগ্রেটেড এম ফিল-পিএইচডি করছেন তিনি।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৫