ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ ১২:৩২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম :

  • ‘এক নেতা ও এক নীতির কারণে দেশে উন্নয়নের জোয়ার’ নাসিম-দৈনিক ইত্তেফা
  • ‘খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে কাদেরের সঙ্গে কথা হয়নি ফখরুলের’-দৈনিক মানবজমিন
  • করোনায় মারা গেলেন উহানে এক হাসপাতালের সভাপতি-দৈনিক মানবজমিন
  • ছোটবেলায় কচুরিপানার ফুল খেয়েছি, এটা খুব মিস করি: পরিকল্পনামন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
  • প্যারোল কি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আত্মহত্যা হবে?-দৈনিক প্রথম আলো
  • করোনভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১,৮০০ ছাড়াল-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • ইয়াবার কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার-দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:

  • করোনা সংক্রমণ কমছে? চিনের রিপোর্টে আশাবাদী হু-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • বিহার কিন্তু আজও দেশের অন্যতম গরিব রাজ্য’ নিজের প্রথম অনুষ্ঠানে নীতীশকে ঠুকলেন প্রশান্ত কিশোর-দৈনিক আজকাল
  • কাটমানি নিয়ে ফরাক্কার কাজ হওয়ার ফলেই দুর্ঘটনা, বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মৌসম নুর -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

‘খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে কাদেরের সঙ্গে কথা হয়নি ফখরুলের’-দৈনিক মানবজমিন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে  কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে আবেদনের বিষয়টি তার পরিবার দেখছে। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

দৈনিকটির অন্য একটি খবরের শিরোনাম এরকম যে, ফখরুল সাহেব আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, রেকর্ড আছে- ওবায়দুল কাদের।

এ খবরে লেখা হয়েছে, আজকে দেখলাম ফখরুল সাহেব বলেছেন আমাকে তিনি ফোন করেননি। আমি তাকে ছোট করতে চাই না। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। সেটা রেকর্ড আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি (মির্জা ফখরুল) আমাকে অনুরোধ করেছেন বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটু কথা বলার জন্য। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছি। এখন অসত্য কথা কেন বলব। তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, আন্দোলনে ও জনবিস্ফোরণে ব্যর্থ দলটি কোনো নতুন সুযোগ পাওয়া যায় কি না, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা নতুন নতুন নাটক করছে। যুগান্তর শিরোনাম করেছে এরকম, ওবায়দুল কাদের বলেছেন ফখরুলকে এতটা নিচে নামাতে চাই না।

প্যারোল কি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আত্মহত্যা হবে?-দৈনিক প্রথম আলো

প্যারোল কি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আত্মহত্যা হবে?

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি কারাবন্দী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে আছেন অনেক দিন। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

তাঁর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের দাবি,  চিকিৎসকদের যা করণীয়, তা–ই করছেন। দেশসেরা চিকিৎসকেরা তো এ নিয়ে হেলাফেলা করবেন না। জানতে পারলাম, তাঁর জন্য যে মেডিকেল বোর্ড হয়েছে, তাঁর পছন্দের দুজন চিকিৎসক ওই বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে তাঁরাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাঁর জামিনের চেষ্টা করছেন অনেক দিন ধরে। শেষমেশ তাঁরা ‘মানবিক’ কারণে তাঁর জামিন চেয়েছেন। অর্থাৎ ধরেই নিয়েছেন, আদালত তাঁকে জামিন দেবেন না। বিএনপির নেতারাও সরকারের কাছে মানবিক কারণে তাঁর জামিন দাবি করছেন। তাঁদের দাবি, মামলাটি সাজানো। এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়ার স্বজনেরা তাঁর ‘মুক্তি’ চাইছেন। তাঁরা বলছেন, বাঁচাতে হলে তাঁকে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

খালেদা জিয়ার জামিন, চিকিৎসা, শারীরিক অবস্থা এখন টক অব দ্য টাউন। আসল অবস্থা কী, এটা বোঝা মুশকিল। তবে এর মধ্যে যে অনেক গুমর আছে, তা টের পাওয়া যায়।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, মামলা এ সরকার দেয়নি, এটি দিয়েছে এক-এগারোর সরকার। এ কথার অর্থ হলো, যে সরকারই মামলা দিক, এর মেরিট আছে। আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা মাঝেমধ্যে এক-এগারোর ‘কুশীলবদের’ প্রসঙ্গ টেনে হুংকার দেন। অথচ ওই সময়ের একটি মামলাকে তাঁরা পরম আদরে জিইয়ে রেখেছেন। কেন?

এ ব্যাপারে খালেদা জিয়া নিজে কী ভাবছেন বা বলছেন, তা জানার উপায় নেই। দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে কারাবন্দী অবস্থায় গণমাধ্যমে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না, এমন আইন করে গিয়েছেন মহারানি ভিক্টোরিয়া। এরপর আমরা দুবার স্বাধীন হলেও ওই আইন ছাড়া আমাদের চলে না।

প্যারোল বনাম জামিন নিয়ে বেশ কিছুদিন রশি–টানাটানি হলো। খালেদা প্যারোলে ছাড়া পান, এটা বিএনপি চায় না। প্যারোলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দেওয়া থাকে। প্যারোলের সময়সীমা কী হবে, সেটা নির্ধারণ করবে সরকার। ওই সময় তিনি যে কারণ দেখিয়ে প্যারোলের আবেদন করেছেন, এর বাইরে অন্য কোনো কাজে জড়িত হতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে তাঁর একমাত্র কাজ হলো চিকিৎসা করা। অর্থাৎ তিনি প্যারোল নিয়ে দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, রাজনীতি করতে পারবেন না। প্যারোল দেওয়াটা সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক। তাহলে তাঁরা খালেদা জিয়াকে আপাতত রাজনৈতিকভাবে ছেঁটে ফেলতে পারবেন। এখানেই বিএনপির আপত্তি।

খালেদা জিয়া কোন অপরাধে কারাবন্দী এবং কেন জামিন পাচ্ছেন না, এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি শুনে হিমশিম খেতে হয়। কে সত্য বলছেন, আর কে বলছেন মিথ্যা? এখানে আরও কয়েকজন রাজনীতিবিদের মামলার প্রসঙ্গে টেনে আনা যায়। যেমন নাজমুল হুদা। তাঁর দণ্ড তো উচ্চ আদালতেও বহাল আছে। তাহলে তিনি কেমন করে জামিন পান?

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন একজন তারকাখ্যাতিসম্পন্ন ‘অপরাধী’, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ছিল। মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। কিন্তু তিনি জামিনে ছিলেন। বলা যায়, ‘চিরস্থায়ী’ জামিনের যে উদাহরণ দেখা গেল তাঁর ব্যাপারে, এটি আমাদের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ছোটবেলায় কচুরিপানার ফুল খেয়েছি, এটা খুব মিস করি: পরিকল্পনামন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের কচুরিপানা খাওযার ব্যাখ্যা

‘গরু কচুরিপানা খেতে পারলে আমরা কেন পারব না’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করে দেখেন। এবং হাস্যরস করে বলেছি- এটা খাওয়া যায় কিনা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা খাওয়াতে কোনো ক্ষতি আছে কিনা, একজন ভদ্রলোক বললেন- গরু-ছাগল তো খায়।’

এমএ মান্নান আরও বলেন, ‘কচুরিপানার ফুল তো আমি নিজে খেয়েছি। বেসনে ডুবিয়ে আমার মা ছোটবেলায় ভাজতেন, চ্যাপটা করে। খুব চমৎকার হয়। এটা খুব মিস করি।’তিনি বলেন, আগে বইতে পড়তাম কাঁঠালের আমসত্ত্ব। কাঁঠালের আমসত্ত্ব এখন বাস্তবেই আছে। আমি উইটাই বলেছি আর কিছু নয়।

‘আমি কি বলেছি, বাংলার মানুষ সব কচুরিপানা খান, ননসেন্স। আচ্ছা, আমি কি বাংলার মানুষ নই, আমার মা-বাবা কি বাংলার মানুষ নয়। এটা কী ধরনের কথা হলো।’

‘এক নেতা ও এক নীতির কারণে দেশে উন্নয়নের জোয়ার’-নাসিম-দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মাদ নাসিম

এক নেতা ও এক নীতির কারণে দেশের উন্নয়নের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা অব্যাহত রাখার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে বলেই দেশ জঙ্গিমুক্ত হয়েছে, আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।’একমত বিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় অনেক চরাই-উৎরাই পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সরকার ১২ বছর দেশ পরিচালনা করে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে দাঁড় করিয়েছে। এর অংশীদার সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরাও।’ দেশের উন্নয়নের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

ভোট নয়, সরকারের প্রয়োজন নিশিরাত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ভারতের কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলেই ভোটারদের ভোট দেয়া নিয়ে তাচ্ছিল্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের জনগণ পরাধীন হয়ে যায়। আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী আরো বলেন, শনিবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- কে ভোট দিলো, কে দিলো না তা বিবেচনা করে না আওয়ামী লীগ। এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিলেন, তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কিংবা সরকার গঠনের জন্য দেশের জনগণ কিংবা জনগণের ভোটের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় নিশিরাত আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনগণের প্রতি, জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি এমন অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য একমাত্র সরকার প্রধান এবং তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষেই সম্ভব।

নতুন ভাইরাস আসছেই, আমরা প্রস্তুত তো?-দৈনিক প্রথম আলো

 প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদকের লেখা এ বিশ্লেষণে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশকে ধরে নিতে হবে, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কেটে যাওয়া মানে শেষ নয়। নভেল মানে নতুন। করোনা না হোক, অন্য কোনো নভেল ভাইরাস আসবে। ফলে নতুন ভাইরাস আসবে ধরে নিয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু ইনফেকশাস ডিজিজ অধ্যয়ন, পাঠ্যক্রম, ডিগ্রি, গবেষণাগার, সবকিছুতেই শূন্যতা চলছে।

এ বিষয়ে কথা শুনতে মেডিসিনের প্রবীণ অধ্যাপক এম এ ফয়েজকে প্রথম আলোর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তাঁর একটি সাক্ষাৎকার আমরা ছেপেছি। তাতে তিনি বলেছেন, ভাইরাস অধ্যয়ন, নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাংলাদেশের সামর্থ্য কম। তাঁর মন্তব্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছি। তাতে এমন অনেক তথ্য বের হয়ে এসেছে, যা বিস্মিত হওয়ার মতো। দেশে শতাধিক মেডিকেল কলেজ ও অনেকগুলো গবেষণাগার আছে, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে ভাইরাস শাস্ত্রচর্চা অনুপস্থিত। একটিও সেন্টার অব এক্সিলেন্স (কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ ল্যাব) নেই।২০০৮ সালে কমলাপুরের ১৬ মাস বয়সী একটি ছেলে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিল সাত দিনের জ্বর, পাঁচ দিনের কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, তিন দিনের শ্বাসকষ্ট নিয়ে। ব্যাপক ল্যাব পরীক্ষায় কোনো জীবাণু সংক্রমণের আলামত পাওয়া যায়নি। এরপর তার রক্তের নমুনা আমেরিকার সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনে (সিডিসি) পাঠানো হয়। সেখানেই প্রথম ধরা পড়ে শিশুটির শরীরে মরণব্যাধি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণু আছে। তার মা মুরগি জবাই করে পলিথিনে বর্জ্য রেখে শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন।

ওই জীবাণু নির্ণয়ে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের হয়তো জ্ঞান ছিল, প্রযুক্তি ছিল না। তাই শিশুটির কী রোগ হয়েছিল, সেটা জানতে বাংলাদেশের প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল। সিডিসি সারা বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ল্যাব। উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে নমুনার ভিড় সেখানে লেগেই থাকে। তাই বছরখানেক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

একটি শিশু কী রোগে আক্রান্ত হয়েছে, সেটি শনাক্ত করতে এক বছর লেগে গেলে সেটি নিয়ে একটি জরুরি অবস্থা বা কোনো হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয় না। কিন্তু এক হাজার লোক যদি এ রকম অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তখন এ পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যাবে? দেশের ও মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে সরকার এ রকম একটি অসহায় অবস্থায় নিজেকে রাখতে পারে না। কিন্তু অনুসন্ধান করে যা পাওয়া গেল, তা খুবই হতাশাজনক। এ সম্ভাব্য বিপদ মোকাবিলায় কিছুই করা হয়নি, বিষয়টি তা নয়। আবার দরকারি প্রায় সবকিছুই করা হয়েছে, সেটিও সত্য নয়।

এবারও বাংলাদেশ ধরনা দিয়েছে ওই সিডিসির কাছেই। জীবাণুর ডায়াগনসিস বা জীবাণু শনাক্তের জন্য তার পুরো জেনেটিক কাঠামো জানতে হয়। এ প্রক্রিয়ার নাম জেনোম সিকোয়েন্সিং। এটা ব্যয়বহুল ও উচ্চ মানের বিশেষজ্ঞনির্ভর প্রযুক্তি। কিন্তু এরপরও এটা করতে পারার সম্পূর্ণ সামর্থ্য অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য জরুরি।

চীন করোনার জিন দ্রুত বের করে বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। এখন তাই আটলান্টার সিডিসি ‘রি–এজেন্ট’ দিতে পারবে। এই রি–এজেন্ট পেলে বাংলাদেশ আক্রান্ত রোগীকে পরীক্ষা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বলতে পারবে, কাউকে করোনায় ধরেছে কি ধরেনি।

সম্প্রতি মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রস্তাবিত ১০ তলা সরেজমিনে দেখলাম। সেখানকার নতুন ভবনের পাঁচতলা থেকে নয়তলা পর্যন্ত অত্যাধুনিক ল্যাব বসানো হচ্ছে। আমেরিকান সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজি এতে সহায়তা দিচ্ছে। ওই সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর ২০০০ সালে ভাইরোলজিতে পিএইচডি করেছেন জাপানে। উদ্যমী ও সৃজনশীল মানুষ। যুগে যুগে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি (২০১০) নামে একটি বই লিখেছেন। তিনি তাঁর দপ্তরে বলেন, ‘আমরা এর আগে জিকা, ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস সিকোয়েন্সিং করেছি। তবে ডব্লিউএইচওর সহায়তায় ডেঙ্গু এখনো প্রক্রিয়াধীন। আর করোনার বিষয়ে সিডিসি আটলান্টা ও ডব্লিউএইচও সার্বক্ষণিক কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। করোনার বিষয়ে রিয়েল টাইম পিসিআরের (পলিমারেজ চেঞ্জ রি–অ্যাকশন) প্রাইমার এবং প্রোবস আমাদের দিতে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অনুমোদন দিয়েছে। শিগগিরই এটি পাব। তখন আমরা নমুনা সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে সক্ষম হব।’

আলমগীরের কথায়, বাংলাদেশের যদি একটি বৃহৎ উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান থাকত, যারা নিজেরাই প্রাইমার ও প্রোবস দেশে সিনথেসিস করতে পারবে। তাহলে আর পরমুখাপেক্ষী থাকতে হতো না। যেহেতু সার্স, মার্স, ইবোলা, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গুর মতো নতুন নতুন উপদ্রব আঘাত হানছেই। তাই সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।

চীনের মতো বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। তাই এতটা পরনির্ভরশীলতা মোটেই নিরাপদ নয়। এটা ঘোচাতে হবে। ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মধ্যে ভাইরাস শাস্ত্র কিছুটা পড়ে, সবটা নয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে শেরেবাংলা নগরে ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। অধিগ্রহণ করা জমি পরে গণভবনে মিশেছে। আরেকটি তথ্য হলো, সাবেক ইনফেকশাস ডিজিজ ইনস্টিটিউট বিলুপ্ত হয়েছিল এই আশায় যে পিজিতে চালু হবে। সেটি আর হয়নি। এরপর চার দশক লেগেছে ইনফেকশাস ডিজিজ শব্দটি ব্যবহার করে ফৌজদারহাটে একটি সংস্থার ফিতা কাটতে। এম এ ফয়েজ যখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি ছিলেন, তখন তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহে এটি করা হয়েছিল। সরকারের স্বাস্থ্যনীতির অগ্রাধিকার প্রকল্প ছিল না। তার প্রমাণ মেলে ২০১৩ সালে ১০ তলাবিশিষ্ট ১২০ শয্যার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) মাত্র ৩ তলা করার পর এর কাজ চিরতরে বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে। মিজেল, কালাজ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা তারা দিচ্ছে, এটা কর্মীদের নিষ্ঠার ফল। এবং সত্য এটাই যে এখানকার একমাত্র গবেষণাগারটি সরকারি টাকায় নয়, গড়ে উঠেছে ফ্রান্সের অনুদানে। বছরে মাত্র ৩৫ লাখ টাকায় এটি চলে, কিন্তু জীবাণু গবেষণায় কোনো টাকা নেই। ল্যাব পরিচালনার বরাদ্দ আড়াই লাখ টাকার বেশি নয়।

১৯৬১ সালের ১৯ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী লে জে ডব্লিউ এ বার্কি মহাখালীতে ম্যালেরিয়া ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করেছিলেন। সেই দোতলা ভবনটিতে একতলা বাড়িয়ে ১৯৭৬ সালে চালু করা হয়েছিল আইইডিসিআর। এখন এই সংস্থাটিই জীবাণুঘটিত রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ কাজে সক্রিয়। কিন্তু এর নামে ‘ইনফেকশাস ডিজিজ’ কথাটি নেই। কিন্তু উন্নত দেশে করোনার মতো পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরা সংক্রামক রোগ (আইডি) বিশেষজ্ঞ। আমাদের এমন একজনও বিশেষজ্ঞ নেই জেনে বেশ কৌতূহল হলো। করোনা ছড়ানোর পর ইতিমধ্যে টিভি পর্দার পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনিও মানলেন, আমাদের কোনো আইডি নেই। তাঁর প্রতিষ্ঠানটি ১৮ কোটি টাকার বাজেটে চলে। কিন্তু অন্য সূত্রে জানলাম, জীবাণু গবেষণায় এই সংস্থায়ও নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ নেই। অবশ্য তারা সিডিসি আটলান্টা, জন হপকিন্স, কেমব্রিজ, আটলান্টাভিত্তিক ইয়ানপি ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে গবেষণা সহায়তা পাচ্ছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে গত কয়েক দিনের আলাপ–আলোচনায় তাঁরা নির্দিষ্ট করে অনতিবিলম্বে অন্তত ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতালসহ একটি কেন্দ্রীয় গবেষণাগার বা সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার জোর সুপারিশ করেছেন। লোহা গরম থাকতে আঘাত করাই ভালো। করোনার মেঘ কাটলেই তারা ভুলে যাবে।

 অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কেমব্রিজ থেকে রোগতত্ত্বে পিএইচডি করেছেন। বর্তমানে মর্যাদাসম্পন্ন ইয়ানপির নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট। বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গড়তে নীতিগত সম্মতি থাকলেও তিনি এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। আমরা তাঁর সঙ্গে একমত যে ফৌজদারহাটে ১০ তলা ভবন সম্পূর্ণ করা এবং দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকা পাঁচটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। পাকিস্তান আমল থেকে চলে আসা এই সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালগুলো ধুঁকছে। ব্যাপক মাত্রায় কোনো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোতেই ওয়ার্ড খুলতে হবে। কিন্তু সেটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণই থেকে যাবে।

মহাখালীতেই সরকারের আরেকটি সংস্থা হলো কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)। এরাই বর্তমানে বিমান, স্থল ও নৌবন্দরের যাত্রী স্ক্রিনিং করছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে করোনা আক্রান্তদের বিষয়ে ডব্লিউএইচওকে তারাই রিপোর্ট করবে। এই সিডিসির পরিচালক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী আমাকে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি, এটাই হাই টাইম। অবিলম্বে ঢাকায় ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ গবেষণাগার দরকার। যারা শুধু ভাইরাস এলে নয়, সারা বছর ধরে দিন–রাত ভাইরাস গবেষণায় ব্যস্ত থাকবে।’

শামসুজ্জামান তুষার একজন জ্যেষ্ঠ মাইক্রোবায়োলজিস্ট। বর্তমানে তিনি শেরেবাংলা নগরে সদ্য চালু হওয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক। ভবিষ্যতে তারাও ভাইরাস নির্ণয়ে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে শহরের বাইরে ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠাতেই জোর দিলেন।

এ তো গেল ল্যাবের কথা। পড়াশোনা? এখানে দৈন্য আরও গভীরতর। সম্ভবত ঐতিহাসিকভাবে ম্যালেরিয়া, চিকেন পক্স, ডায়রিয়া, ফাইলেরিয়া গরিবের অসুখ হওয়ার কারণে এই শাস্ত্র অধ্যয়নে জোরটা সব সময় কম পড়েছে। হার্ট, ক্যানসারের মতো মেডিসিনের ১৬টি শাখার বিকাশ ঘটলেও ইনফেকশাসের কোনো জায়গা হয়নি। দেশে ইনফেকশাস ডিজিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী একজন বলেই জানা যায়। আরও ছয়জন ট্রপিক্যাল মেডিসিনে (এর পাঠক্রমে সংক্রামক ব্যাধি অন্তর্ভুক্ত) এমডি (ডক্টর অব মেডিসিন) করেছেন, যার পাঁচজনই ফৌজদারহাটে কর্মরত। স্বাস্থ্য খাতের সমগ্র সাংগঠনিক কাঠামোয় সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের জন্য কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি। ষষ্ঠজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেপুটি রেজিস্ট্রারের চাকরি করছেন।

অধ্যাপক আরিফুল বাশার হলেন সংক্রামক রোগ বিষয়ে দেশের একমাত্র এফসিপিএস। ২০০৩ সালের আগে এটা পড়ার সুযোগও ছিল না। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পাস করার পর তাঁর এই পরিচয়ের সুবাদে এই প্রথম তিনি সংবাদমাধ্যম থেকে ফোন পেলেন। তিনি বর্তমানে প্রেষণে থেকে ক্লিনিক্যাল কেয়ার মেডিসিনে তৃতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।

ওই ছয় এমডির পরে আর কেউ এ বিষয়ে ডিগ্রি নিতে আগ্রহী হননি। দেশের একটি মেডিকেল কলেজও আবাসিক স্নাতকোত্তর কোর্স হিসেবে একে গ্রহণ করেনি। ২০১৩ সালে বিআইটিআইডি জন্মেছে বলে ওই পাঁচজনের একটা সান্ত্বনা যে তাঁরা একটি বিশেষায়িত আইডি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন নামের একটি সংগঠন রয়েছে। এর সভাপতি ইসমাইল পাটোয়ারি বলেন, বিদ্যমান ভাইরাসের সঙ্গে নতুন উপাদান মিউটেশন বা যুক্ত হয়ে নতুন ভাইরাস জন্ম নিচ্ছে। নোবেল করোনাও মিউটেশনের ফল। আমরা তাঁর সঙ্গে একমত যে ময়মনসিংহে কালাজ্বর, উত্তরবঙ্গে ফাইলেরিয়া, নিপাহ ভাইরাসের মতো নানা জীবাণু অনেকটা স্থায়ীভাবে জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকি তৈরি করছে। তাই জেনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সামর্থ্য গড়তে হবে। অধ্যাপক রোবেদ আমিন করোনায় ইন্টেরিম গাইডলাইন প্রণেতা, তাঁরও মত তা–ই।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট–এ দেখলাম, কোনো ভাইরাস শনাক্তকরণ পাঁচ দিনের পরিবর্তে এক দিনে পারলে তা মানুষের মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকি ৮০ ভাগ থেকে শূন্যের কোঠায় নেমে যায়।

১৫ ফেব্রুয়ারি খবর বেরোল মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত করছে মহাখালীতে। কারণ, সিডিসি আটলান্টা রি–এজেন্ট দিয়েছে বলে পেরেছে। এই পারাটা আমাদের পারতে হবে। আমেরিকা এটা না দিলে কি হতো?

ইয়াবার কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার-দৈনিক সমকাল

ইয়াবা

মোহাম্মদ ইসমাইল। চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি। বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফের লামার বাজারে। সেখান থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে। প্রায় চার বছর আগে ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' একটি পা হারিয়েছে। এর পরও ইয়াবা ব্যবসা ছাড়েনি। কৃত্রিম পা লাগিয়ে চলাফেরা করে সে। মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার করেছে। বিদেশে তার কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, সে বিষয়ে খুব শিগগির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।২০১৮ সালের মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। মাদককে জিরো টলারেন্সে আনতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্নিষ্টরা। অভিযানে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের 'বন্দুকযুদ্ধে'র ঘটনাও ঘটছে। এরপরও থেমে নেই মাদক কারবারিরা। নানা কৌশলে তারা পাচার করছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। ধরাও পড়ছে বিভিন্ন সময়। ইয়াবা আসছে মূলত মিয়ানমার থেকে। অভিযানের মধ্যে গত বছরের শুরুতে কক্সবাজার-টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজারের চিহ্নিত ১০২ মাদক কারবারি একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও একাধিক মাদক কারবারি আত্মসমর্পণ করে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

করোনা সংক্রমণ কমছে? চিনের রিপোর্টে আশাবাদী হু-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

করোনাভাইরাস

ধীরে ধীরে নোভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কি কমছে? সোমবার চিনে আরও ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা ১৮০০ ছাড়িয়েছে। তবে আশার কথা, গত কয়েক দিনের তুলনায় মৃতের সংখ্যা কিছুটা কম। আবার নতুন আক্রান্তদের সংক্রমণও কিছুটা মৃদু। এ থেকেই চিনের স্বাস্থ্যকর্তাদের আশা, সংক্রমণ কমছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) কর্তারা বলছেন, এখনই এতটা আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো পরিস্থিতি আসেনি। মঙ্গলবার চিনের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণে ৯৮ জন মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৮৬। মোট আক্রান্ত ৭২৪৩৬ জন। তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে মঙ্গলবারই বেজিং প্রথম জানাল, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৪৫ হাজার মানুষই আক্রান্ত হয়েছেন চিন থেকে।

বিহার কিন্তু আজও দেশের অন্যতম গরিব রাজ্য’ নিজের প্রথম অনুষ্ঠানে নীতীশকে ঠুকলেন প্রশান্ত কিশোর-দৈনিক

ফের নীতীশ কুমার এবং তাঁর এককালীন স্নেহধন্য প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে সংঘাত প্রকাশ্যে। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর মঙ্গলবার পাটনায় প্রথমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের আগামী প্রচারমূলক অনুষ্ঠান ‘বাত বিহার কি’–র ঘোষণা করলেন জেডিইউ–র প্রাক্তন সহ সভাপতি তথা দুঁদে রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশান্ত কিশোর। সেখানেই তাঁর মেন্টর নীতীশ কুমারকে বিধানসভা ভোটের প্রচারের জন্য উন্নয়নের বড়াইকে কড়া ভাষায় বিঁধে তিনি বলেছেন, লালুপ্রসাদের পর রাজ্যে নীতীশ কুমারের সরকার আসার পর গত ১৫ বছরে বিহার অনেকটাই উন্নতি করেছে। অথচ আজও ঝাড়খণ্ডের পরই দেশের অন্যতম গরিব রাজ্য বললে বিহারের নাম আসে। রাজ্যের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের দৈন্য দশা নিয়ে সরব তিনি। প্রশান্তের ক্ষোভ, ‘২০০৫ সালে বিহার ছিল দেশের সব চেয়ে দরিদ্র রাজ্য। এবং এখনও তাই আছে। নীতীশ কুমারের প্রশাসনিক ক্ষমতার তুলনা হয় না। নীতীশজি লালুজির আমলের সঙ্গে তুলনা করছেন। কিন্তু তুলনা যদি করতেই হয় তাহলে গুজরাট, কর্নাটক, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর কাছে বিহারের অবস্থান কোথায়।’

কাটমানি নিয়ে ফরাক্কার কাজ হওয়ার ফলেই দুর্ঘটনা, বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মৌসম নুর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

কাটমানির বিনিময়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠ কর্মীদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। তারই ফল মিলেছে হাতেনাতে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার ফলেই ভেঙে পড়েছে ফরাক্কার নির্মীয়মাণ সেতু। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি এই অভিযোগ তুললেন মালদহে তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মৌসম বেনজির নুর। দাবি তোলেন, নির্মাণকারী সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল। ভেঙে পড়া সেতু নিয়ে আরও একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সূ্ত্রে খবর, ভেঙে পড়ার চারদিন আগেই ফাটল দেখা গিয়েছিল গার্ডার বসানোর অংশে। গত রবিবার সন্ধে নাগাদ গার্ডর বসানোর কাজ চলাকালীন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ফরাক্কা সেতুর নির্মীয়মাণ অংশ। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ট্রেনি ইঞ্জিনিয়ারের।

বৃদ্ধির হার কমলেও থামছে না অর্থনীতি, ফ্রান্স-ব্রিটেনকে টপকে বিশ্বে পঞ্চম ভারত!-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

দেশের অর্থনীতির হাল খুব একটা ভাল নয়। নোটবন্দি এবং জিএসটির ধাক্কা পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি ভারত। মন্থর হয়েছে বৃদ্ধির হার। কিন্তু, তা বলে অর্থনীতি কিন্তু থেমে নেই। এক মার্কিন সংস্থার রিপোর্ট বলছে, আর্থিক বৃদ্ধির হার স্লথ হলেও দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে এদেশের অর্থনীতি। এবং তা সবার অলক্ষ্যে ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো মহাশক্তিশালী দেশকে টপকে গিয়েছে। বিশ্বের দুই তাবড় শক্তিকে হারিয়ে ভারত এখন অর্থনীতির বিচারে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৮