'প্রায় অর্ধেক সৌদিপ্রবাসী ফিরে আসার শঙ্কায়'
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম :
- উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখা বাড়ছে-দৈনিক প্রথম আলো
- ‘১১০ কোটি টাকার বিচার হয় না, সাজা হয় দুই কোটি টাকার মিথ্যা মামলার-দৈনিক ইত্তেফাকঅর্ধেক সৌদি প্রবাসীই
- ফেরার শঙ্কায়-দৈনিক মানবজমিন
- বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে নিবন্ধন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
- উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখা বাড়ছে-দৈনিক প্রথম আলো
- ভাষাকে আমরাই হয়তো মর্যাদা দিতে পারিনি -দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
- খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিচ্ছি: ফখরুল -দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- ‘মুসলিমদের পাকিস্তানে পাঠানো উচিত ছিল’, ফের বিতর্কিত মন্তব্য গিরিরাজের -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- দুই আইনজীবীর মধ্যস্থতায় খুলল শাহিনবাগের জট, ৬৯ দিন পরে ৪০ মিনিটের জন্য খোলা হল রাস্তা -দৈনিক আজকাল
- ওয়েইসির সভায় ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান তরুণীর, বিতর্ক তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
আজ শোক ও গৌরবের অমর একুশে। সব ভালোবাসা মিশেছে শহিদ মিনারে।আজ ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পূর্ণ হলো। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষাশহিদদের স্মরণে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে, বাংলা ভাষা নিয়ে নানামুখী খবর দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে।
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবরের শিরোনাম এরকম যে, বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে নিবন্ধন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী।
বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে নিবন্ধিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
শুক্রবার একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
‘সরকার ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধকে লুণ্ঠিত করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আলমগীর সাহেব সবসময় এমন কথা বলেন। বিএনপি গণমানুষের রাজনীতি করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাদের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন নিয়েই কথা বলে তারা।
দৈনিক যুগান্তরের আরও কয়েকটি খবর তুলে ধরছি। ভাষাসংগ্রামীদের তালিকা হয়নি আজও
উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখা বাড়ছে-দৈনিক প্রথম আলো
নিম্ন আদালতে বেশির ভাগ রায় ও আদেশ বাংলায় হচ্ছে। উচ্চ আদালতেও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় রায়–আদেশ লেখা বাড়ছে। বছর দশেক আগে উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়ার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। এখন উচ্চ আদালতের বেশ কয়েকজন বিচারপতি বাংলা ভাষায় রায় ও আদেশ দিচ্ছেন। অবশ্য, এ পর্যন্ত কতগুলো রায় ও আদেশ বাংলায় হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে উচ্চ আদালতে ৯৭ জন বিচারপতি আছেন। একাধিক আইনজীবী ও বিচারালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছর দশেক আগেও বাংলায় রায়-আদেশ দেওয়ার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি এখন নিয়মিত বাংলায় রায় ও আদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। এর
বাইরে বিভিন্ন সময় হাইকোর্টের বেশ কয়েকজন বিচারপতি বাংলায় রায়-আদেশ দিয়েছেন। তবে উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে বলে মনে করেন তাঁরা।
যুগান্তরের অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সর্বত্রই বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করব। তিনি বলেন, ভাষার মিশ্রণ ঠেকানোর এখনই সময়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, বাংলা ভাষা বাঙালির রক্তের সঙ্গে, মেধা মননের সঙ্গে এবং মায়ের মুখের সঙ্গে মিশে আছে। দৈনিক প্রথম আলোর একটি শিরোনাম এরকম যে, ভাষা বিকৃত হচ্ছে পর্দায়, এমনকি আঞ্চলিক ভাষাও।
ভাষাকে আমরাই হয়তো মর্যাদা দিতে পারিনি-বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-গানের রচয়িতা প্রখ্যাত সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা বাংলা ভাষাকে হয়তো মর্যাদা দিতে পারিনি। মুখে দেশকে ভালোবাসি আর একুশের প্রভাতফেরিতে ফুল দিলেই বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান প্রকাশ পায় না। ভালোবাসা দেখানোর বিষয় নয়, ধারণ করার বিষয়। দেশকে ধারণ করলেই আমরা আমাদের স্বাধীনতার মান রাখতে পারব। তিনি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি ৪৮ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, একটি সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে। যদিও সমাজতন্ত্রের অবস্থা পুরো বিশ্বে অনেক খারাপ। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোও আর নিজেদের সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচয় দেয় না। তবে সমাজতন্ত্রের পতন হয়ে গেছে, তা বলি না। বাংলাদেশে ফেল করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। বর্তমান বাস্তবতায় সমগ্র বিশ্বে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদী আদর্শের অনুপস্থিতিতে ধর্মান্ধতা, পশ্চাৎপদতা, মধ্যযুগীয়তা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। বাংলাদেশেও এর ছাপ পড়েছে।
‘১১০ কোটি টাকার বিচার হয় না, সাজা হয় দুই কোটি টাকার মিথ্যা মামলার-দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মাত্র ২ কোটি টাকার মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে ফেলে রাখা হয়েছে। যারা শত শত হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করছে তারা দিব্যি ভালো আছে। আজকে অর্থনীতিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। দুর্নীতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে পত্রিকা খুললেই দেখবেন, বেসিক ব্যাংকের এমডি ১১০ কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি কিনেছেন। শত শত কোটি টাকা তিনি লুটপাট করে নিয়েছেন, দুদক তাকে দেখতে পায় না।
‘খালেদা জিয়া মেট্রিকে বাংলায় ফেল, উর্দুতে পাস’-দৈনি মানবজমিন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাংলা ভাষা ধারণ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আজ শুক্রবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কতটুকু বাংলাভাষা ধারণ করেন সেটিই প্রশ্ন। কারণ তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় বাংলায় ফেল করেছিলেন আর উর্দুতে পাস করেছিলেন।হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া কোনো রাজনৈতিক নয়, তিনি দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে শাস্তি ভোগ করছেন। বিএনপির রাজনীতি তার (খালেদা জিয়া) অসুস্থ আর বন্দিদশার মধ্যে আটকে আছে।বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি) আন্দোলনের কথা ১১ বছর ধরে শুনে আসছি৷ তাদের এই কথাগুলো মানুষের কাছে হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করার আইনি পথ ছাড়া অন্যকোন পথ নেই।
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিচ্ছি: ফখরুল-দৈনিক সমকাল
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, যেদিন সমস্ত জাতি এই মহান দিবসকে স্মরণ করছে, তখন আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং আইনের শাসন নেই। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবার জন্য দেশনেত্রীকে মুক্ত করবার জন্য, আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিচ্ছি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জনগণের অধিকার হরণ করেছে। ভোটের অধিকার হরণ করেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে একদলীয় একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরির জন্য অপকৌশল করছে।এর আগে ভোরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মহাসচিবের নেতৃত্বে আজিমপুর কবরাস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। পরে প্রভাতফেরির অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারা।
অর্ধেক সৌদি প্রবাসীই ফেরার শঙ্কায়-দৈনিক মানবজমিন
বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরবে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। এসব কর্মীরা দেশটির বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তবে ২০১৭ সালে দেশটির সরকারের সৌদিকরণ নীতি গ্রহণের কারণে দিন দিন বেকার হয়ে পড়ছেন তারা। নতুন করে আকামা নবায়ন হচ্ছে না। ওই নীতি অনুসারে দেশটির ৩৯টি খাতে প্রবাসী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গত বছর থেকে বিদেশি কর্মীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। এর আওতায় দেশটিতে অবস্থানরত অর্ধেক বাংলাদেশি-ই কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এসব কর্মীদের জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।এছাড়া এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেণির দালালচক্র প্রতারণার মাধ্যমে লোক পাঠানো অব্যাহত রেখেছে। ফলে, তারাও এর শিকার হচ্ছে। সর্বস্ব খুঁইয়ে দেশটিতে কাজের সন্ধানে গিয়ে অনেকেই স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন পেশায় বিদেশিদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা ও প্রবাসীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স /ফি আরোপের কারণে বর্তমানে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা খুবই দুরাবস্থায় রয়েছে। অনেকে বর্ধিত ফি দিয়ে আকামা করতে না পেরে অবৈধ হয়ে পড়ছে এবং সৌদি পুলিশের হাতে আটক হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। অপরদিকে, ফ্রি ভিসায় আগত শ্রমিকরা কফিল ও কাজ খুঁজে না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন শেষে নিঃস্ব হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করছে। ফ্রি ভিসায় আগত শ্রমিকদের অর্থের একটি বড় অংশ সৌদি পাচার হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দায়ী সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সৌদি সরকার বিভিন্ন সেক্টরে সৌদিকরণ নীতি গ্রহণের ফলে অনেক প্রবাসী বেকার হয়ে পড়ছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে এক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে সৌদি সরকার ঘড়ি, চশমা, হাসপাতাল সামগ্রী, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎচালিত সামগ্রী, গাড়ির যন্ত্রাংশ, আবাসন উপকরণ, কার্পেট, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, গৃহ ও অফিস আসবাবপত্র, বাচ্চাদের কাপড় ও পুরুষদের আনুষঙ্গিক জিনিস, গৃহস্থালি তৈজসপত্র এবং কনফেকশনারি দোকান- এই ১২টি পেশায় প্রবাসীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই বছরের মার্চে শ্রম মন্ত্রণালয় এরকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও ৮টি পেশায় প্রবাসী নাগারিকদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এগুলো হলো- ট্রাক ও লরি ড্রাইভার, জীবন বীমা কোম্পানি ও ডাক যোগোযোগ, বেসরকারি গার্লস স্কুলের কর্মকর্তা ও শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শপিংমলে নিয়োগ। সর্বশেষ একই বছরের এপ্রিল মাসে আরও একটি প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়। এতে সিনিয়র মানবসম্পদ কর্মকর্তা, কর্মী পরিচালক, শ্রম বিষয়ক পরিচালক, জনসংযোগ কর্মকর্তা, কর্মী ব্যবস্থাপক, কর্মচারি ডিউটি লেখক, নিয়োগ বিষয়ক কর্মকর্তা-কর্মচারি, স্টাফ লেখক, টাইম রেজিস্ট্রার সংরক্ষক, জেনারেল রিসেপশনিস্ট, হোটেল রিসেপশনিস্ট, রোগী রিসেপশনিস্ট, বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অভিযোগগ্রহণকারী, কোষাধ্যক্ষ, নিরাপত্তারক্ষী, সরকার সম্পর্কিত কর্মকর্তা, চাবি তৈরি/মেরামতকারী, কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারি ও নারী সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগে প্রবাসীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পাশাপাশি ওই সময়ে আকামা ফিও বাড়ানো হয়। ফলে চাকুরি হারিয়ে অনেক বাংলাদেশি দেশে আসতে বাধ্য হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ৫০ শতাংশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের আকামার মেয়াদ নেই। ফলে তারা অবৈধভাবে অবস্থান করছে। এরা প্রতিনিয়তই পুলিশের হাতে আটক হয়ে দেশে ফিরছেন। এছাড়া আকামার ফি পরিশোধের লক্ষ্যে অনেক প্রবাসী কম বেতনে ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করছে। সৌদি আরবের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আকামার নির্ধারিত পেশা ব্যতিত অন্য পেশায় কাজ করা দ-ণীয় অপরাধ। এর ফলে আকামার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও তাদের পুলিশ ধরে ফেরত পাঠাচ্ছে। নির্ধারিত ৮ ঘণ্টা কাজ শেষে অন্য জায়গায় বাড়তি কাজ করতে গিয়েও অনেকে আটক হচ্ছেন।
দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা এবং সৌদিকরণ নীতির ফলে বর্তমানে দেশটিতে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এরপরও কিছু অসাধু আদম ব্যবসায়ী সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের প্রত্যয়ন ছাড়াই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থার মন্ত্রণালয় থেকে ভিসা এটেস্টেশন করে হাজার হাজার লোককে সৌদি আরবে প্রেরণ করছে। এ সকল শ্রমিকদের অধিকাংশই কফিলকে খুঁজে না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসায় গমনকারী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ফ্রি ভিসা বলতে কিছু নেই।
প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করা হয়। বলা হয়- দেশটিতে শ্রমিক পাঠানোর আগে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক কাজের পরিবেশ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বিষয়াদির খোঁজ-খবর নেয়া এবং এ বিষয়ে দূতাবাসের প্রত্যায়নপত্র অবশ্যই সংগ্রহ করতে হবে। যেসব ট্রাভেল এজেন্সি সরকারের আইন, গাইড লাইন ভঙ্গ করবে বা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। ইতিমধ্যে যেসব এজেন্সির শ্রমিকরা সৌদি আরবে গমণ করে বিপদগ্রস্ত হয়ে দেশে ফেরত আসছে সেসব এজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করে লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে। সৌদি আরবে প্রবাসীদের বর্তমান দুরাবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা। বিশেষ করে ফ্রি ভিসায় যাতে কেউ না যেতে পারে সে বিষয়ে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ সকল বিষয়াদি উপস্থাপনপূর্বক সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সৌদি সরকারের আরোপিত বিভিন্ন বিধি-নিষেধ ও ট্যাক্স হতে অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৬৩৫ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৯৫৯ জন সৌদি আরব থেকে ফিরে এসেছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৩০০ নারীকর্মী রয়েছেন। আর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন যাদের পরিচয় ডিপোর্টি। এদের মধ্যে ২৫ হাজার ৭৮৯ জনই ফিরেছেন সৌদি আরব থেকে। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ফেরত আসা এই প্রবাসীদের পাশে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সবার সমন্বিতভাবে দাঁড়ানো উচিৎ। পাশাপাশি এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় এবং প্রত্যেকে যেন কাজ পায় এবং কাজের মেয়াদ শেষে খরচের টাকাটা অন্তত তুলতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি, দূতাবাস ও সরকার সবাই মিলে এই কাজটি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
দুই আইনজীবীর মধ্যস্থতায় খুলল শাহিনবাগের জট, ৬৯ দিন পরে ৪০ মিনিটের জন্য খোলা হল রাস্তা-দৈনিক আজকাল
দুই আইনজীবীর মধ্যস্থতায় সমাধান হল যানজট সমস্যার। ৬৯ দিন পরে ৪০ মিনিটের জন্য খোলা হল নয়ডা ও দিল্লির সংযোগকারী রাস্তা।
ডিসেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে দিল্লির অন্যতম গুরত্বপূর্ণ রাস্তা। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় শাহিনবাগে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন মহিলারা। কোলে কয়েক মাসের শিশুকে নিয়ে রাতের পর রাত একইভাবে বসে আছেন একাধিক মহিলা। এতে সরকারের অস্বস্তি উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। রাস্তা আটকে আন্দোলন করার অভিযোগে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা আটকে প্রতিবাদ করছেন। তাঁদেরকে সরিয়ে দেওয়া হোক। গত সোমবার আদালতে সঞ্জয় হেগড়ে ও সাধনা রামাচন্দ্রনের মতো দুই দুঁদে আইনজীবীকে সমস্যার সমাধান করার জন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে পাঠানো হয়। সমস্যার সমাধানের ফলশ্রুতি হিসেবে শুক্রবারের এই কার্যকলাপ। ৪০ মিনিটের জন্য দিল্লির শাহিনবাগের প্রয়োজনীয় রাস্তা খুলে দেওয়া হয় উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি পুলিশের তত্ত্বাবধানে। আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে জানালেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের বলেছি, যাতে বিকল্প কোনও উপায় বের করা যায়। পাশাপাশি তাঁদের প্রতিবাদ করার অধিকারও যেন ক্ষুণ্ন না হয় সেটাও আমাদের দেখতে হবে।’
ওয়েইসির সভায় ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান তরুণীর, বিতর্ক তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
বিরোধীরা দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রকাশ্য জনসভায় অন্যরূপে দেখা গেল অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে। তাঁর বক্তব্যের আগে জনসভার মঞ্চে উঠে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ার জন্য এক যুবতীকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন তিনি। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা ভারতের জন্য’।
পরে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে আদালতে তোলা হলে মেয়েটিকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে মেয়ে ভুল করেছে’, স্বীকার করলেন অমূল্যার বাবা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
জনসভায় ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ‘ স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে বছর কুড়ির অমূল্যা। ওই জনসভায় অমূল্যার এই স্লোগান দেওয়া যে ভুল ছিল, তা মেনে নিয়েছেন তাঁর বাবা। তাঁর কথায়, “অমূল্যা যা বলেছে, ভুল করেছে। কয়েকজন মুসলিম ওঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। আমি ওদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনল না।” যদিও চরম দক্ষিণপন্থী নেটিজেনদের দাবি, মেয়ের হয়ে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নেমেছেন তাঁর বাবা। অবশ্য এর পালটা মতও রয়েছে। তাঁদের দাবি, ওয়েইসি ও মুসলিমদের কালিমালিপ্ত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে।
‘মুসলিমদের পাকিস্তানে পাঠানো উচিত ছিল’, ফের বিতর্কিত মন্তব্য গিরিরাজের-দৈনিক আনন্দবাজার
১৯৪৭ সালেই মুসলিমদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। এমনই মন্তব্য করে ফের বিতর্কে জড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। এখানেই থামেননি তিনি। বলেন, “পূর্বপুরুষদের কর্মের ফল ভোগ করতে হচ্ছে দেশবাসীকে।”
বুধবার বিহারে একটি জনসভায় গিয়েছিলেন গিরিরাজ। সেখান থেকেই দেশবাসীকে তাঁদের কর্তব্যের প্রতি অটল থাকার আহ্বান জানান তিনি। এর পরই পুরনো প্রসঙ্গ টেনে এনে তাঁর মন্তব্য, “১৯৪৭ সালে সমস্ত মুসলিমকে যদি পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হত এবং হিন্দুদের এ দেশে আনা হত, তা হলে আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত না আমাদের।” এর পরই গিরিরাজ প্রশ্ন তোলেন, “যদি ভারতবাসীরাই এ দেশে আশ্রয় না পান, তা হলে তাঁরা কোথায় যাবেন?”
কয়েকদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে মুসলিমদের একটি জনসভা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন গিরিরাজ। ওই জনসভাকে ‘আতঙ্কবাদ কি গঙ্গোত্রী’ বলেও আখ্যা দেন। বিশেষ করে যখন দেশ জুড়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে প্রবল আন্দোলন চলছে, সে সময় এমন বিদ্বেষমূলক মন্তব্যে দলকে যথেষ্ট অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে ডেকে সতর্ক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। কিন্তু তাতেও যে কোনও কাজ হয়নি, বুধবার গিরিরাজের মন্তব্যে ফের তা স্পষ্ট হল।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২১