কথাবার্তা: শার্লি হেবদোকে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বললেন এরদোগান
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত-দৈনিক প্রথম আলো
- দেশকে আরো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী'-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে’- দৈনিক যুগান্তর
- শার্লি হেবদোকে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বললেন এরদোগান- দৈনিক ইত্তেফাক
- মহানবী ( সা.) এর কার্টুন প্রকাশে জাতিসংঘের উদ্বেগ-দৈনিক ইত্তেফাক
- ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ২৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮১-দৈনিক মানবজমিন
- যে দেশের গণমাধ্যম যত স্বাধীন, সে দেশের গণতন্ত্র তত শক্তিশালী : ফখরুল-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- নৈরাজ্য চলছে’! শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরেই ধনখড়ের নিশানা মমতাকে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ভারতের ভয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল অভিনন্দনকে’, পাক সংসদে জানালেন বিরোধী নেতা আয়াজ সাদিক-দৈনিক আজকাল
- ক্ষমতায় আসলে তৃণমূল কর্মীদের মামলাও প্রত্যাহার করে নেব’, আশ্বাস দিলীপ ঘোষের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
এবার বাছাইকৃত কিছু খবরের বিস্তারিত তুলে ধরছি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত-দৈনিক প্রথম আলো
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।আজকের সংবাদ সম্মেলনে দীপু মনি বলেন, সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু সবকিছু নির্ভর করছে পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর।
করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে।দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে তা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছিল। এখন তা বাড়িয়ে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত করা হলো।করোনার বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, দেশের মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি ছেলেমেয়ে। আর মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সোয়া কোটির কিছু বেশি। বাকিরা অন্যান্য স্তরে পড়ছেন।
এমন অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা ছিল ছুটি কি আরও বাড়বে, নাকি খুলে দেওয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে আজ আবার ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা এল।করোনা পরিস্থিতির কারণে এর আগে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
৭ অক্টোবর ঘোষণা দেওয়া হয়, এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও হচ্ছে না। এরপর মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষাও না নেওয়ার ঘোষণা আসে। পরীক্ষা ছাড়াই সব শিক্ষার্থী ওপরের ক্লাসে উঠবে। এদিকে করোনার কারণে বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট বাড়ছে। বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো পড়ছে আর্থিক সংকটে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল পর্যায়ে টিভি ও রেডিওর মাধ্যমে ক্লাস প্রচার এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সেই অর্থে তা কার্যকর হয়নি।
দেশকে আরো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী'-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ করে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে দেশকে বিশ্বে আরো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা অন্যের সহায়তা না নিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার যে স্বপ্ন, যে চেতনায় আমার দেশের লাখো শহীদ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। তাঁদের এবং আমার লাখো মা-বোনের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেই আমরা এই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। আমরা কেন অন্যের কাছে হাত পেতে, মাথা নিচু করে চলব। কিন্তু ’৭৫-এর পর আমরা সেই সম্ভাবনা এবং অধিকার হারিয়েছিলাম।

তাঁর সরকারের পরিচালনায় বাংলাদেশ আজ তাঁর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মুক্ত করে উন্নত ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্যই আমরা আমাদের সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং যথেষ্ট অর্জনও করেছি।
সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠান মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পরিচালনা করেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের জীবনবৃত্তান্ত পড়ে শোনান। অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে প্রফেসর ডা. এ কে এম এ মুকতাদির অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন।
এ বছর সরকার দুজন মরণোত্তরসহ আট ব্যক্তি ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, চিকিৎসাবিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০’-এ ভূষিত করে।
এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ীরা হচ্ছেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দাস্তগীর গাজী, বীরপ্রতীক, প্রয়াত কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ (মরণোত্তর), প্রয়াত বুদ্ধিজীবী মুহম্মদ আনোয়ার পাশা (মরণোত্তর) ও আজিজুর রহমান। চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুকতাদির। সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস্। আজিজুর রহমান সম্প্রতি কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট সোনার একটি ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। প্রতিবছর ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সরকার এ পুরস্কার প্রদান করে এলেও এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে যথাসময়ে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। যা আজ অনুষ্ঠিত হলো।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে’- দৈনিক যুগান্তর
সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতনে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মহানুভবতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রদূত রেন্সে তিরিঙ্ক।
ইইউ রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা (১৪ মিলিয়ন ইউরো) নতুন অনুদান দিয়েছে, যা বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে চলমান নিবন্ধন কার্যক্রমকে সাহায্য করবে।
ইউএনএইচসিআরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা ও সহায়তার জন্য এ অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
রাষ্ট্রদূত রেন্সে তিরিঙ্ক বলেন, ইউএনএইচসিআরের জন্য আমাদের এই ফান্ডিং সেই মহানুভবতা ও মানবিকতার প্রতি একটি অবদান।

এটি বৈশ্বিকভাবে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় টিম ইউরোপের কার্যক্রমের একটি অংশ। আর এর লক্ষ্য হচ্ছে– মহামারীর কারণে শরণার্থী সংকট যেন আরও খারাপ না হয় তা নিশ্চিত করা।
নিবন্ধনের মাধ্যমে শরণার্থীদের সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। আরও নিশ্চিত করা যায় যেন নির্দিষ্ট ও বিশেষ সেবা পাওয়ার যোগ্য মানুষেরা সুরক্ষা পায় এবং সবাই যেন সুষ্ঠুভাবে মানবিক সাহায্য পায়।
এই অনুদান আরও সাহায্য করবে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা, শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের ক্ষমতায়ন, সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, কোভিড-১৯ মোকাবেলা কার্যক্রম এবং কক্সবাজারে করোনায় আর্থ-সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড।
২০১৭ সালে নতুন করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমনের পর থেকে অতিপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, আশ্রয় তৈরি, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি এবং বর্ধিত আকারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইউএনএইচসিআরসহ অন্য মানবাধিকার সংস্থা মিলে বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করে আসছে।
শার্লি হেবদোকে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বললেন এরদোগান- দৈনিক ইত্তেফাক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ফ্রান্সের বিতর্কিত ব্যঙ্গাত্মক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোকে ‘স্কাউন্ড্রেল’ আখ্যা দিয়েছেন।
ওই পত্রিকায় ছাপা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুনকে 'জঘন্য আক্রমণ' বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। বুধবার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে এক আলোচনায় এসব কথা বলেছেন তিনি। খবর ডয়েচে ভেলের।
শার্লি হেবদোর সর্বশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদে গত ২১ অক্টোবর এরদোগানের ব্যঙ্গচিত্র চাপা হয়। ২৭ অক্টোবর শার্লি হেবদোর ওই সংখ্যাটি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়।
এর প্রচ্ছদে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান একটি সাদা টি-শার্ট এবং অন্তর্বাস পরে বসে আছেন। পাশে হিজাব পরা এক নারী মদের পসরা সাজিয়ে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। কার্টুনচিত্রের টাইটেলে বলা হয়– ‘এরদোগান: একান্তে তিনি খুবই মজার’।
এরদোগান জানিয়েছেন, তার যে কার্টুন ছাপা হয়েছে, তা তিনি দেখেননি। তবে বিষয়টি জানেন। 'আমার জঘন্য কার্টুন করেছে বলে আমার রাগ ও দুঃখ হয়নি, এ মিডিয়া আমাদের প্রিয় মহানবীর (সা.) কার্টুন ছাপার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল বলে আমি ক্ষুব্ধ।
এরদোগান বলেন, যে স্কাউন্ড্রেলরা আমাদের প্রিয় মহানবীকে (সা.) নিয়ে ওই ধরনের কাজ করতে পারে, তাদের সম্পর্কে আমার কিছুই বলার নেই।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক ফাহরেত্তিন আলতুন বলেন, বাকস্বাধীনতার নামে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার মুসলিমবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক এক ক্লাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখানোর কারণে এক শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় ফ্রান্সজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘মৌলবাদী ইসলাম’র বিপরীতে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। ‘ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র দেখানো বন্ধ করবে না’ বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় ফ্রান্সের লাখ লাখ মুসলিমকে অবজ্ঞা করার শামিল বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। তিনি বলেন, ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার। বিরোধের জেরে জনগণের প্রতি ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেন তিনি।
মহানবী ( সা.) এর কার্টুন প্রকাশে জাতিসংঘের উদ্বেগ-দৈনিক ইত্তেফাক
ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ফর দ্য এলায়েন্স অব সিভিলাইজেশন বিভাগ বুধবার (২৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ফর দ্য এলায়েন্স অব সিভিলাইজেশনের কর্মকর্তা অ্যাঙ্গেল মোরাটিনোস বলেন, ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশ করায় উত্তেজনা এবং অসহিষ্ণুতার ঘটনা ঘটতে পারে। জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ধর্ম, বিশ্বাস বা জাতিসত্তায় আক্রমণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত যেন কোন ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা না করা হয়। আমাদের সবার ধর্মের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখা উচিৎ।
গত ১৬ অক্টোবর প্যারিসের রাস্তায় শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে 'আল্লাহু আকবর' বলে হত্যা করেছিল এক তরুণ। কারণ, ওই শিক্ষক ক্লাসে মহানবীর কার্টুন দেখিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। শিক্ষকের ওপর হামলাকারী আবদৌলখ নামের ওই তরুণ ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।
শিক্ষককে হত্যার ঘটনার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইসলামপন্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিতে চায়, কিন্তু ফ্রান্স কার্টুন প্রদর্শন বন্ধ করবে না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।
যে দেশের গণমাধ্যম যত স্বাধীন, সে দেশের গণতন্ত্র তত শক্তিশালী : ফখরুল-দৈনিক নয়াদিগন্ত
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি দেশের গণতন্ত্র ও সামগ্রীক সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম গণমাধ্যম। যে দেশের গণমাধ্যম যত স্বাধীন ও শক্তিশালী, সেই দেশের গণতন্ত্র তত বেশি শক্তিশালী। দুর্ভাগ্য আজকে সারাবিশ্বে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপরে একটা চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে সেই চাপ অনেক বেশি আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা দেখেছি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদকর্মীকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে। তাদেরকে অনেক সময় কারাগারে যেতে হয়েছে। সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্ত্বরে সংগঠনটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে র্যালি উদ্বোধন করার আগে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন প্রায় অনুপস্থিত। এখানে মানুষের স্বাধীনতা-সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এসেছি।
২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ২৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮১-দৈনিক মানবজমিন
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ হাজার ৮৮৬ জনে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬৮১ জন। মোট শনাক্ত ৪ লাখ ৪ হাজার ৭৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৪৮ জন এবং এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২১ হাজার ২৮১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে আরো জানানো হয়, ১১২টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৪৮টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৪ হাজার ২৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ১০ হাজার ৫৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৭৮শতাংশ।শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৯ দশমিক ৩৮শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ই মার্চ আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মারা যায় ১৮ই মার্চে।
নৈরাজ্য চলছে’! শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরেই ধনখড়ের নিশানা মমতাকে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে আইনশৃঙ্খলা থেকে রাজনৈতিক হিংসা সমস্ত বিষয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।
বুধবার তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে টুইট করে জানিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার তিনি শাহের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পরেই নয়াদিল্লিতে তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আম জনতার সঙ্গে সংযুক্ত বেশ কিছু বিষয়, রাজ্যের আরও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তাঁর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশদে কথা হয়েছে।
এর পরই তিনি রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। রাজ্যপাল বলেন, ‘‘গোটা রাজ্য জুড়ে নৈরাজ্য চলছে। আইনের শাসন ভেঙে পড়ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আমলারা সরাসরি রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে কাজ করছেন। গোটা আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। রাজ্যপাল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘যে কোনও রাজ্যে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ গনতন্ত্র টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
রাজ্য সরকারের প্রতি রাজ্যপালের এই আক্রমণের পরেই টুইট করে পাল্টা রাজ্যপালকে বিজেপির ‘লাউডস্পিকার’ বা মুখপাত্র বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘রাজ্যপাল কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন না বিজেপি নেতাদের সঙ্গে’? কল্যাণ লিখেছেন, ‘এর আগে অন্তত ৯৯ বার এই একই কাজ করেছেন রাজ্যপাল। এটা ১০০তম বার। তিনি দিল্লি গিয়েছেন মিথ্যায় ভরা আবর্জনা নিয়ে’। কল্যাণ ধনখড়কে ‘রাজভবনের কলঙ্ক’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
ভারতের ভয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল অভিনন্দনকে’, পাক সংসদে জানালেন বিরোধী নেতা আয়াজ সাদিক
ভারতের হামলার ভয়ে পা কাঁপছিল পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার। প্রচণ্ড ঘামছিলেন তিনি। পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির অবস্থাও ছিল তথৈবচ। ভয়ে অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। বুধবার, পাক সংসদে দাঁড়িয়ে এমনটাই জানিয়েছেন খোদ পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিক।

ইমরান খান প্রশাসন ও পাক সেনার ভারত ভীতি প্রকাশ্যে এনে সংসদে সাদিক জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করে রীতিমতো বিপাকে পড়েছিল পাকিস্তান। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি, পাক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। ওই বৈঠকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাদিক। তবে বৈঠক এড়িয়ে যান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেদিনের আলোচনার বিষয়ে জানিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লিগের ওই নেতা বলেন, ‘সেদিনের বৈঠকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসেননি, সেখানে ছিলেন সেনাপ্রধান বাজওয়া। তাঁর পা কাঁপছিল। ঘামছিলেন তিন। বিদেশমন্ত্রী কুরেশি বলেছিলেন, অভিনন্দনকে না ছাড়লে সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই পাকিস্তানের উপর হামলা করবে ভারত। তাই ইশ্বরেই দোহাই ওকে ছেড়ে দেওয়া হোক।’
অভিনন্দন বর্তমানকে (Abhinandan Varthaman) মুক্তি দেওয়ার আসল রহস্য সামনে আসার পরই কংগ্রেসকে তুলোধোনা করলেন জে পি নাড্ডা (J P Nadda)। পাক সাংসদের সেই ভিডিও টুইটারে পোস্ট করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি লিখলেন, “এবার আশা করি উনি (রাহুল গান্ধী) বিশ্বাস করবেন।” নাড্ডার কথায়, “কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী ভারতীয় সেনার ক্ষমতার বিশ্বাস করেন না। এই ভিডিও তারই জবাব।”
ক্ষমতায় আসলে তৃণমূল কর্মীদের মামলাও প্রত্যাহার করে নেব’, আশ্বাস দিলীপ ঘোষের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
লীয় কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে বারবার সুর চড়িয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তবে করোনা মুক্তির পর প্রথমবারের চা চক্রে অন্য সুর তাঁর গলায়। শুধু বিজেপি নয় ঘাসফুল শিবিরের অনেকের নামেই মিথ্যে মামলার খাঁড়া ঝুলছে বলে দাবি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। ক্ষমতায় আসার পর যেকোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এই মিথ্যে মামলার হাত থেকে রেহাই দেবেন বলেও আশ্বাস দিলেন বিজেপি সাংসদ।
করোনা থাবা বসিয়েছিল দিলীপ ঘোষের শরীরে। তাই বেশ কয়েকদিন সকলের সংস্পর্শ এড়িয়ে দূরে ছিলেন তিনি। চা চক্রে যোগ দেওয়া হয়নি তাঁর। তবে এখন একেবারে ফিট। বৃহস্পতিবার তাই জ্যাংরায় চা চক্রে উপস্থিত হন তিনি। এতদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি এলাকায় আসছেন বলে কথা। তাই তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে এলাহি আয়োজন করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। জর্দা বাগান থেকে মিছিল করে ঘোড়ার গাড়ি চড়িয়ে দিলীপ ঘোষকে চা চক্রে যোগ দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তৃণমূলকে একহাত নেন তিনি। বলেন, “নিজের দলের কর্মীদের নিজেরাই হত্যা করে সিপিএম যেমন ভাবাবেগের রাজনীতি করত, ঠিক তেমনি তৃণমূল নিজের দলে কর্মীদের নামেও মামলা করে রেখেছে, যাতে ভয়ে কেউ দল ছাড়তে না পারে। আমি তাই বলেছি এ ধরণের যত প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক মিথ্যে মামলা আছে, তা যে দলেরই হোক, তাকে আমরা মুক্তি দেব।”
পার্সটুডে/এমবিএ/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।