শেখ হাসিনাকে হত্যা অথবা ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া বিএনপি-আওয়ামী লীগ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i108802-শেখ_হাসিনাকে_হত্যা_অথবা_ক্ষমতাচ্যুত_করতে_মরিয়া_বিএনপি_আওয়ামী_লীগ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আজ জানিয়েছেন, সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গঠনের চেষ্টায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। শিগ্রই জনগণ সরকার পতনের এক দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমে আসবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ০৪, ২০২২ ১৩:৫৮ Asia/Dhaka

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আজ জানিয়েছেন, সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গঠনের চেষ্টায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। শিগ্রই জনগণ সরকার পতনের এক দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমে আসবে।

আজ শনিবার (৪ জুন) দুপুরে রাজধানীতে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন  ডঃ খন্দকার মোশারফ হসেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি’র এ নেতা বলেন, যারা এই স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন করে না ও তাদেরকে বিরোধিতা করে এবং গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সেসব দল-ব্যক্তিকে নিয়ে একটা জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা আনন্দিত এতে অনেক সাড়া পাচ্ছি। তার চেয়ে বেশি আনন্দিত জনগণের মধ্যে বেশি সাড়া পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, জনগণ আজ বেশি ঐক্যবদ্ধ। শুধুমাত্র রাস্তায় নেমে কার্যকর আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে।

খন্দকার মোশারফ  বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ বিনির্মাণের ইতিহাসকে বিকৃত করে মিথ্যা ইতিহাস প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।  বলে দাবি করেন তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলের পাঠ্য বইয়ে তাদেরকে মিথ্যা ইতিহাস শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র নেই বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আর গণতন্ত্র না থাকলে কোনো দেশে মানবাধিকার থাকে না। আমাদের দেশে গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মামলা, নির্যাতন ও খুন- এসব গত ১২ বছরে যেভাবে চলেছে- এর উদাহরণ পৃথিবীতে কোথাও নেই।

তিনি আরও বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটের নির্বাচন ছিল। ১৫২ আসনে কোনো প্রার্থী ছিল না। সুতরাং জনগণের ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তারপরে ২০১৮ সালে নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করেছে। আবার নতুন করে তারা ষড়যন্ত্র করছে। আগামীতে তারা আরেকটি পদ্ধতি নিয়েছে, সেটা আমরা বুঝতে পারছি। এবার ইভিএম যন্ত্রের মধ্যে চিপ ঢুকিয়ে দিয়ে আরেকটা কারচুপি করার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।

দেশ একটা নীরব দুর্ভিক্ষের মধ্যে দিয়ে চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম প্রত্যেক দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক দিনে চাল থেকে শুরু করে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি। কী পরিমাণ ঊর্ধ্বগতি, আমাদের এখানে এটা নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। মূল্যস্ফীতি একদিকে, অন্যদিকে টাকার মান কমে যাচ্ছে! এটা কিসের জন্য। এই দুঃশাসনের জন্য।

সিন্ডিকেট করে সরকার টিকে আছে বলে মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যও আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের হাতে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট। তাই আওয়ামী লীগ সরকার এটাকে কোনো দিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আজ সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মানুষ এই সরকারে প্রতি বিক্ষুব্ধ। এই সরকারের প্রতি তারা আস্থা হারিয়েছে। জনগণ শিগগির এই সরকারের পতন চায়।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা অথবা ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তারা।

বিএনপি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবার সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে বিএনপিকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

শনিবার (৪ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে বিতাড়িত করতে হবে। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের গণমানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের দল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে সবসময় ছিল, রাজপথে আছে। ঢাকা-চট্টগ্রামে আওয়ামী মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগের কর্মীরা মাঠে নেমেছে। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার জন্য আমাদের নারী কর্মীরাই যথেষ্ট।

শুক্রবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী মহিলা লীগ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যেসব দলের সঙ্গে মিটিং করছে এসব দলের বাস্তবে কোনো অস্থিত্ব নেই। অস্থিত্ববিহীন দলের সঙ্গে মিটিং করে করে তারা একটি সংবাদ পরিবেশন করছে মাত্র। অস্থিত্বহীন দলের সঙ্গে মিটিংয়ের মাধ্যমে বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পাচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নাকি ডান-বাম সবার সঙ্গে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ডান-বাম অতিডান অতিবাম সবার ঐক্য করেছিল। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে তারা নির্বাচনও করেছিল। ফলাফল বিএনপির ঘরে মাত্র পাঁচটি আসন। সুতরাং এবারও সর্বোচ্চ সংখ্যক দলের সঙ্গে মিটিং করেও গতবারের চেয়ে বেশি ভালো ফল হবে বলে জনগণ মনে করে না। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। যদি তারা আবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর হস্তে তাদের আমরা প্রতিহত করব।

হাছান মাহমুদ বলেন, সমগ্র দেশে বিএনপি-জামায়াত তাদের দোসরদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসীদের সমাবেশ ঘটিয়ে অছাত্র ও ছাত্রদের বাবাদের সমাবেশ ঘটিয়ে সেখানে তারা স্লোগান দিয়েছে পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে তারা দুটো জিনিস প্রমাণ ও স্বীকার করেছে। একটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে হয়েছে। আরেকটি কথা বলেছে তারা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।