ভারতে শেখ হাসিনার সফর: ৭ টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত 
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i112930-ভারতে_শেখ_হাসিনার_সফর_৭_টি_সমঝোতা_স্মারক_সাক্ষরিত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার  ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে  আজ সোমবার ( সেপ্টেম্বর ০৬) দু’দেশের মধ্যে   ৭ টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২২ ১৪:৪৬ Asia/Dhaka
  • ভারতে শেখ হাসিনার সফর: ৭ টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার  ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে  আজ সোমবার ( সেপ্টেম্বর ০৬) দু’দেশের মধ্যে   ৭ টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। 

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সই হওয়া ৭টি স্মারক হলো—কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলন, দুদেশের বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের মধ্যে সহযোগিতা, ভারতের ভূপালের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি ও বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সমঝোতা, বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা প্রসার, ভারত ও বাংলাদেশের টেলিভিশনের মধ্যে সমঝোতা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে সমঝোতা স্মারক।

এর আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন  হায়দ্রাবাদ ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সময় ভারত সফর নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। যখনই ভারতে আসি, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের, বিশেষ করে আমার জন্য।‘

শেখ হাসিনা  বলেন, ‘আমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দারিদ্র্য দূর করা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। আমি মনে করি, এসব বিষয়ে দুই দেশ একযোগে কাজ করতে পারে। এতে শুধু বাংলাদেশ-ভারতই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সবার জীবনমানের উন্নতি ঘটবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসার  আগে  শেখ হাসিনা  রাজঘাট গান্ধী সমাধিস্থলে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আজ বিকেলে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদ্বীপ ধনগড় এবং এরপর দেশটির প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা।

এদিকে  ঢাকায় এক প্রতিক্রিয়ায়  বিএনপি মহাসচিব  মির্জা ফখরুল  ইসলাম আলমগীর  বলেছে, এই সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। ফলে বহির্বিশ্বের সাথে চুক্তি করে আমাদের (দেশের) স্বার্থকে রক্ষা করা তাদের পক্ষে অত্যন্ত দুরূহ কাজ।

‘মিয়ানমারের ক্ষেত্রে দেখেছি। মিয়ানমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিনষ্ট করে মর্টার শেল মারছে, গোলা মারছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মৌখিক  প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই করতে পারেনি।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘একইভাবে ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যা, সীমান্তে হত্যাসহ অন্যান্য যে সমস্যা রয়েছে তা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার সমাধান করতে পারেনি। কারণ, এই সরকারের পেছনে জনগণের কোনো সমর্থন নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবার ভারত সফরে আশা নিয়ে যান। কিন্তু কিছুই আনতে পারেন না। 

তবে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ডঃ হাসান মাহমুদ দাবী করেছেন ভারত  থেকে যা কিছু অর্জন, তা হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে। এর আগে  বিএনপি ভারতকে কেবল দিয়েই গেছে। 

ওদিকে নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করেছে দুই দেশ এবং আমরা আশা করি, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিসহ সকল অমীমাংসিত সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। আজ মঙ্গলবার হায়দ্রাবাদ হাউসে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এই আশা প্রকাশ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নরেন্দ্র মোদিজির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করি। যা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিকটতম প্রতিবেশী ভারত। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিবেশী কূটনীতির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত।’ তিনি বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং আমি আরেক দফার ফলপ্রসূ আলোচনা শেষ করেছি। যার ফলাফল উভয় দেশের জনগণের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে। আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বৈঠক করেছি।’

এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, বাংলাদেশ আজ ভারতের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার এবং এই অঞ্চলে আমাদের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। জনগণের সহযোগিতায় (সম্পর্কের) ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ ও পারমাণবিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নিয়েও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।’ 

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি নদী প্রবাহিত হয় এবং উভয় দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে এসব নদী যুক্ত। আজ, আমরা কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’ মোদি বলেন, ‘আমরা বন্যা প্রশমনে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। আমরা বাংলাদেশের সাথে বন্যা সংক্রান্ত রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ার করছি এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়েও আলোচনা করেছি। এটা অপরিহার্য, কারণ আমরা একসাথে সেইসব শক্তির মোকাবেলা করি যেগুলো আমাদের প্রতিপক্ষ।’

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করেছি। করোনা মহামারি এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে।#

এআরকে