চমেকে ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধি
সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ফ্রি করা উচিত: ভোক্তা অধিকারের প্রেসিডেন্ট
ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বিক্ষোভ করেছেন রোগীরা। আজ মঙ্গলবার একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন রোগী আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক ও করেছে পুলিশ। গেল তিন দিন ধরে কিডনি ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বিক্ষোভের সময়ে বেসরকারি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেন্ডর কর্মচারীরা রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। এর আগে একই দাবিতে গেল শনিবার হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসানকে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল সাধারণ রোগীরা।
আন্দোলনরত রোগী ও তাদের স্বজনেরা জানান, প্রতিমাসে একজন রোগীকে আটবার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়। এরমধ্যে দুইবার ২ হাজার ৭৯৫ টাকা করে পরিশোধ করলেও বাকি ছয়বারই ৫১০ টাকা করে পরিশোধ করতে হতো একজন রোগীকে। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতে এসে দু’বারের পরিবর্তে তা চারবার করা হয়। তাও আবার ফি বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৩৫ টাকা করা হয়েছে। আর বাকি চারবার ৫৩৫ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রতি রোগীর ডায়ালাইসিস ফি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান জানান, মেডিক্যালে ডায়ালাইসিস করার সক্ষমতা সাড়ে ছয় হাজার। কিন্তু এই সীমা অতিক্রম করার কারণে ফি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সাড়ে ছয় হাজার জন ডায়ালাইসিস সুবিধা পাবে। সরকারি নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সমাধান পাবো। তবে পূর্বের ফি না নিলে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হাসপাতালের রোগী ও স্বজনেরা।
এ দিকে দেশের স্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতি ও দেশের গরীব রোগীদের অবস্থা বিবেচনায় সরকারি হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসের ফি নেয়াকে অযৌক্তিক বলছেন কনজুমার রাইটস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাবের প্রেসিডেন্ট । রেডিও তেহরানকে তিনি বলেন, দেশের গরীব নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পিপিপি’র আওতায় পরিচালিত চমেক হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারটি চালু হয়। বর্তমানে ৩১টি মেশিন নিয়ে চলছে এ সেন্টার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোর এই সেন্টারে তাদের কার্যক্রম ১০ বছর চালিয়ে যাবে। এর জন্য সরকারি জায়গা ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি কিডনি ডায়ালাইসিসের বিপরীতে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার টাকা দিতে হয় রোগীকে।#
পার্সটুডে/নিলয় রহমান/আশরাফুর রহমান/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।