চাহিদা যোগানের তথ্যগত বাকবিতন্ডায় দাম বাড়ছেই
ব্রয়লার মুরগীর দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে,ক্ষুব্ধ বিক্রেতারাও; রমজানে কি হবে ? শংকিত ভোক্তারা
বাংলাদেশের বাজারে রেকর্ড ছাড়িয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই মুরগির দাম দফায় দফায় বেড়ে ২৪০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। কোথাও আবার বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরেও।
রমজানের ঠিক আগে যদি এই দাম হয় তাহলে রমজান মাসে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন সাধারণ ক্রেতা ও ভোক্তারা। এক মাসের ব্যবধানে বলতে গেলে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এই মুরগির দাম আগে কখনও এতটা বাড়েনি। এবার তা রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
দাম এতটা বাড়ায় সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে মুরগি। এক ক্রেতা বলেন, দেশি ও পাকিস্তানি মুরগি তো আমাদের সামর্থ্যের বাইরে। ব্রয়লার মুরগিই যা কিনতে পারতাম। এখন সেটির দামও চড়া। এদিকে মুরগির দামের এই বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছেন খোদ বিক্রেতারাও। এক বিক্রেতা বলেন, মুরগির দাম অতিরিক্ত বেশি। যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
হঠাৎ কেন এমন অসহনীয় হয়ে উঠল বাজার? সর্বোচ্চ কত টাকা হতে পারে এককেজি ব্রয়লার মুরগির দাম? এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, এত বাড়ার কথা না। কেন মুরগির দাম এত বেশি বাড়বে? কেন আড়াই শো টাকা কেজি হবে। আমাদের উৎপাদন খরচ সমন্বয় করে ব্রয়লার মুরগির সর্বোচ্চ বাজার দর হওয়া উচিত ২০০ টাকা।
তবে ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব হাসান বলেন, মুরগির বাচ্চার দাম কত হবে, সেটি কত টাকায় বিক্রি করা উচিত; খাবারের উৎপাদন খরচ কত, কত টাকায় বিক্রি করা উচিত; ব্রয়লার মুরগির খরচ কত হবে, কত টাকায় বিক্রি করা উচিত; এটি নিয়ে আমরা প্রতি মাসে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরকে প্রতিবেদন দেই। আমরা একটি থার্ড পার্টির মাধ্যমে-যেটিতে প্রফেসর, কৃষকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, তাদের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
তাহলে নিয়ন্ত্রণহীন মুরগির এই দাম বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করছে কে? যার জবাবে মো. সুমন হাওলাদার বলেন, চাহিদা তেমন একটা বাড়েনি। কিন্তু যে চাহিদা ছিল আমরা সেটিরই যোগান দিতে পারছি না। এর পেছনে কারণ হচ্ছে ডিম-মুরগির ন্যায্য মূল্য না পেয়ে খামারিরা খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।
তাহলে সত্যিই কি সরবরাহ সংকটে পড়েছে বাজার? ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের তথ্য, সাধারণত ব্রিডার ফার্মগুলো প্রতি সপ্তাহে ১ কোটি ৮০ লাখ ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদন করে। যা চলে যায় খামারে। সেখান থেকে সেটি ২৮ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসে।
কিন্তু লাগাতার লোকসানে গত দেড় বছরে বহু খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাচ্চার দাম নেমে আসে ৫ থেকে ৯ টাকায়। যা উৎপাদন খরচের চেয়ে অন্তত ৩০ টাকা কম। বড় অংকের এই লোকসান ঠেকাতে গত মাসের শুরু থেকে বাচ্চার উৎপাদন নামিয়ে আনা হয় ১ কোটি ৩০ লাখে। অর্থাৎ স্বাভাবিক চাহিদার বিপরীতে প্রতি সপ্তাহে মুরগির উৎপাদন কমতে থাকে ৫০ লাখ করে। বর্তমানে বাজারে এসে এই সংকটেরই মাশুল গুণছেন ভোক্তারা।
অন্যদিকে বাজার স্বাভাবিক রাখতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে কন্টাক্ট ফার্মিংয়ে জোর দিচ্ছেন, তা সঠিকভাবে করা হচ্ছে কি-না; তাও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।