শুষ্ক আবহাওয়ায় কিউলেক্স আর বর্ষায় এডিস; মশার উৎপাত থেকে মুক্তি কবে?
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i120672-শুষ্ক_আবহাওয়ায়_কিউলেক্স_আর_বর্ষায়_এডিস_মশার_উৎপাত_থেকে_মুক্তি_কবে
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। শীতের বিদায় আর গরম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। কিউলেক্স মশার কামড়ে ডেঙ্গুর ভয় না থাকলেও ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ নিয়ে ভয়ে আছেন নগরবাসী।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৩, ২০২৩ ১৬:৪৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। শীতের বিদায় আর গরম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। কিউলেক্স মশার কামড়ে ডেঙ্গুর ভয় না থাকলেও ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ নিয়ে ভয়ে আছেন নগরবাসী।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীতে এলাকাভেদে একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫০টি মশা কামড়ায়। অন্যান্য বছরের তুলনায় রাজধানীতে আনুপাতিক হারে মশার ঘনত্ব প্রায় আটগুণ বেড়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, গত বছরের জুন-জুলাইয়ের তুলনায় চলতি মার্চ মাসে মশার ঘনত্ব প্রায় চার-পাঁচগুণ বাড়তে পারে। জানা গেছে, ঢাকার ছয়টি স্থানকে সেন্ট্রিনাল সাইট হিসেবে নিয়ে নিয়মিত লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে নিয়ে এসে পরীক্ষা করা হয়। মশার ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ও প্রজনন স্থানের পানির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে গত ৮ মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তৈরি করা মডেল অনুসারে গবেষকরা বলছেন মার্চ মাসে মশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, শীতের পর হঠাৎ করে তাপমাত্রা বেড়েছে, সে কারণে আমরা প্রচুর মশা বাড়ছে। এর আগে যে মশাগুলো প্রকৃতিতে লার্ভা হিসেবে ছিল সেগুলো একসঙ্গে ফুটে প্রচুর মশা বের হয়। আর সেই মশার ঝাঁক আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, যা আসলে বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কমবে না। 

ড.কবিরুল আরো বলেন, অনেকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নালা-নর্দমায় যে পানি থাকে, তা ঘন হয়ে যায়। এই পানিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। এগুলো কিউলেক্স মশার খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই সময়ে কিউলেক্স মশার প্রজননটাও বেড়ে যায়। ঝুঁকি প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলেন, কিউলেক্স মশা দেশের কিছু অঞ্চলে ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়। তবে ঢাকা শহরে এই রোগ ছড়ানোর কোনো ইতিহাস নেই।  চিকিৎসকদের মতে ফাইলেরিয়া রোগে মানুষের হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ অস্বাভাবিক ফুলে ওঠে। একে স্থানীয়ভাবে গোদ রোগ বলা হয়। এটি একটি কৃমি জাতীয় রোগ, যাক্ষুদ্র পরজীবী জীবাণুর আক্রমণে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এই পরজীবীর জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মশার কামড়ে।

গত এক বছরে এখন পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া নেই। ডেঙ্গু সংক্রমণও কম। তবে যে মশাগুলো দেখছি সেগুলো কিউলেক্স মশা। এগুলো শুধু মানুষের বিরক্তি তৈরি করে। কামড়ায়, চারপাশে ঘুরঘুর করে। এই মশাগুলো সাধারণত ময়লা-আবর্জনায় হয়ে থাকে। কিন্তু এডিস মশা কিছুটা ভদ্র মশা, জমানো পানিতে এর উৎপত্তি হয়। এখন এডিস মশা এত বেশি নেই। সমস্যা হল পানি না থাকলে শুষ্ক আবহাওয়ায় বাড়ে কিউলেক্স মশা, আর বর্ষা শুরু হলে পানি জমে সৃষ্টি হয় এডিসের উৎপাত। 

তবে আশার কথা হলো দেশে এডিসবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমে সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুও শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

এ বছর জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি ৫৬৬ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। ফেব্রুয়ারি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১৬৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। তবে মার্চে এখনো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।

এমন বাস্তবতায় মশার বংশ বিস্তার নিধনে উদোগ নিচ্ছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জোবায়দুর রহমান জানান, মশার লার্ভা দমনের পাশাপাশি নগরের মানুষকে সচেতন করতেও তারা এবার নিয়েছেন বিশেষ পদক্ষেপ। #

পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।