সাতক্ষীয়ায় গ্রেফতারের পর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিএনপি নেতা নিহত
-
শ্যামনগর থানার ভ্যানগাড়িতে অলিউল্লাহ মোল্লার মরদে
পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অলিউল্লাহ মোল্লা শনিবার মধ্যরাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে ঢাকায় যাওয়ার পথে দেবহাটার পারুলিয়া থেকে অলিউল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি।
অলিউল্লাহ মোল্লা শ্যামনগরের কাশিমারী গ্রামের একরামুল হক মোল্লার ছেলে। তিনি শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন খুলনার দৈনিক 'অনির্বাণ’-এর শ্যামনগর উপজেলার সাবেক প্রতিনিধি।
জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেনের ভাষ্য, শ্যামনগর থানার উপ পরিদর্শক সুধাংশু শেখরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার কাশিমারি ইউনিয়নের গাংহাটি চোরাখাল কালভার্টের ওপর টহল দিচ্ছিল। এ সময় একদল লোক মোটর সাইকেলে দ্রুতবেগে পালাতে থাকলে পুলিশ তাদের থামতে সংকেত দিলেও তারা তা থামেনি। উল্টো তারা পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মোটর সাইকেলসহ পড়ে যায়। অন্যরা মোটর সাইকেল ঘুরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে শ্যামনগর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাকে শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারি গ্রামের নাশকতার বহু মামলার পলাতক আসামি অলিউল্লাহ মোল্লা হিসাবে শনাক্ত করা হয়।
তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাদারীপুর জেলাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, প্রতারণা, নাশকতা ও চাঁদাবাজিসহ কমপক্ষে ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন আরও জানান, বন্দুকযুদ্ধের সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটর সাইকেল, একটি সাটার গান ও বিস্ফোরিত বোমার কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে শ্যামনগর থানার সেকেন্ড অফিসার নিখিল চন্দ্র অলিউল্লাহকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেন। তবে কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপি মির্জা সালাহউদ্দির আহমেদ অলিউল্লাহকে গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করেন।#
পার্সটুডে/এআর/১০