ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল': আওয়ামী লীগ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66643-ঐক্যফ্রন্টের_ইশতেহার_মানুষকে_বিভ্রান্ত_করার_অপকৌশল'_আওয়ামী_লীগ
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারকে জাতির সঙ্গে তামাশা ও ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮ ১১:৪০ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
    সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারকে জাতির সঙ্গে তামাশা ও ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আজ (সোমবার) সকালে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'মানুষের সঙ্গে তামাশা করার জন্যই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এমন ইশতেহার দিয়েছে। তারা ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে, তা কোনোভাবেই তাদের আচরণ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যায় না। মানুষের কাছেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তারা এমন ইশতেহার ঘোষণা করেছে।'

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর সমালোচনা করে আবদুর রহমান বলেন, ২৩ জনের অধিক যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসুরীকে নিয়ে তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। আর যুদ্ধাপরাধীরা ঐক্যফ্রন্টের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই আছে। সুতরাং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তারা করবে এটা একটা হাস্যকর ব্যপার, অবিশ্বাস্য।’ 

তিনি বলেনযারা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, মনোনয়ন  দিয়েছে, তারা কী করে এই যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে? এটা জনগণের সঙ্গে নেহায়েত প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।

আরও পড়ুন : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: ৩৫ দফা, ১৪ প্রতিশ্রুতি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া মানিলন্ডারিং মামলায় দণ্ডিত, ক্ষমতায় থাকতে তারা হাওয়া ভবন করে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে। তাদের ইশতেহারে যদি বলা হয়-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার কথা, তা হাস্যকর ছাড়া আর কি হতে পারে? বাংলাদেশের মানুষ কোনো অবস্থাতেই এসব বিশ্বাস করে না।

মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার অপকৌশল এই ইশতেহার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আবদুর রহমান বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশের মধ্য দিয়ে এটা পরিষ্কার যে, নির্বাচনকে বানচালের নানা চক্রান্তের জাল বুনছেন তারা। যারা নির্বাচন বানচালের চক্রান্তে আছেন, তাদেরকে বলতে চাই যেকোনও মূল্যে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা তারা নিজেরাই ঘটিয়েছে। তাদের মনোনয়ন বাণিজ্যে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।এর দায়ভার ও দোষ আমাদের ওপরে চাপানোর চেষ্টা করে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা তারাই চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যু্গ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু প্রমুখ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন