নোয়াখালীতে গণধর্ষণে জড়িতরা শাস্তি পাবেই- কাদের : মানবতা কাঁদছে- রিজভী
-
সচিবালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশের নোয়াখালীর সুর্বণচর উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চার সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ (বুধবার) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি সেদিনই শুনেছি। যদিও ঘটনাটি আমার নির্বাচনী এলাকায় না, তবে নোয়াখালীতে। এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়। এ ঘটনায় অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। যারাই অপরাধী তারা কেউ পার পাবে না। আমি নেত্রীর মনোভাব জানি।"
তিনি বলেন, "এরইমধ্যে পুলিশের আইজির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ডিআইজি স্পটে গেছেন। তাছাড়া ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর যিনি দায়িত্বে ছিলেন তারাও বিষয়টি দেখছেন। এ ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী যেই হোক শাস্তি পেতে হবে।"
মানবতা এখন কাঁদছে: রিজভী
এদিকে, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নোয়াখালীতে এক সিএনজি চালকের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আজ (বুধবার) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "এটি শুধু একজন ব্যক্তিকেই পৈশাচিক নির্যাতনে শ্লীলতাহানি নয় এটি জনগণের ভোটাধিকারকেই শ্লীলতাহানি করা হলো। সিএনজি চালকের স্ত্রীর ক্রন্দনবিধুর অন্তহীন আর্তি বিশ্ব বিবেককে কাঁদিয়েছে। বাংলাদেশে মানবতা এখন কাঁদছে। বিশ্ব মানবতা এই ঘটনায় স্তম্ভিত-শিহরিত ও বিমুঢ়।"
তিনি বলেন, "কালো টাকার প্রাচুর্য প্রয়োগে বেড়ে ওঠা এই আওয়ামী নির্যাতনকারীরা জালজালিয়াতি ভোটের মহাযজ্ঞের পর এখন কাণ্ডজ্ঞানহীন নিষ্ঠুর বেপরোয়া। এরা ভোট ডাকাতির মহাসাফল্যে সহজাত বিচার-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছে। এরা মনুষ্যত্ব বির্সজন দিয়ে এখন নারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে জনগণের ভোটাধিকারকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে ঘনায়মান হতাশা আর বিরোধীদের গুম-খুনের শিকার হওয়ার পরিমাণ যে কত বাড়রে তা নিয়ে অনাগত দিনের দুশ্চিন্তা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা জনগণের চোখে বীভৎস রূপ নিয়ে ফুটে উঠেছে।"
এদিকে, নোয়াখালীর সুর্বণচর উপজেলায় গত ৩১ ডিসেম্বর ৪ সন্তানের জননীকে গণধর্ষণ অভিযোগের ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৫ বছরের ওই নারী গত ৩১ ডিসেম্বর অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় রুহুল আমীনের ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক গতকাল বলেছেন, এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে তারা নিজেরাই তদন্ত করবে। এছাড়াও, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশসহ ৪০টি মানবাধিকার সংগঠনের একটি প্লাটফর্ম এ ঘটনার নিন্দা ও জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন