চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, নিহত ৭৮
-
নিহতদের স্বজনদের আহাজারী
পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১৫ ঘণ্টা পর আগুন নিভিয়ে উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর এ পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
চকবাজারে আগুন লাগার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাঈদ খোকন বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে থাকবে। তারা ঘটনাস্থল দেখভাল করবে। আগুনে এখন পর্যন্ত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪১ জন। এরমধ্যে ৩২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হয়েছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যোগাযোগ করার জন্য একটি ফোন নাম্বার দেওয়া হয়েছে (০২৯৫৫৬০১৪)। এছাড়া, ঘটনাস্থলে পাশে যে চকবাজার থানা সেখানেও ক্ষতিগ্রস্তরা যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া স্থানীয় সিটি করপোরেশনের অফিস আছে, সেখানেও যোগাযোগ করা যাবে। ’
সাঈদ থোকন আরও বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদের জন্য গত সোমবার থেকেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করা হয়েছে। আগুন লাগার ঘটনার সাত-আট দিন আগে এফবিসিসিআই’র মাধ্যমে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করা হয়েছিল। তারপর থেকে আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করি। আমাদের আগে থেকেই উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গতকাল (বুধবার) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। কেরানীগঞ্জে একটি জায়গায় শনাক্ত করা হয়েছে, সেখানে গোডাউনগুলো স্থানান্তর করা হবে।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় শনাক্ত হলে তাদের স্বজনদের দেখে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া যাদের একেবারেই শনাক্ত করা যাবে না তাদের ডিএনএ টেস্ট করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হবে।’
দক্ষিণ সিটির মেয়র বলেন, ‘বর্তমানে এই এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সেগুলো ছাড়পত্র দেওয়া হলে চালু করা হবে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলোর ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া ঘটনাস্থলে আবর্জনার যে স্তূপ জমে আছে সেগুলো পরিষ্কারের জন্য সিটি করপোরেশন ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।’
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী যদি কেউ দোষী হয় তাহলে তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এছাড়া চকবাজারে অবস্থিত চুড়িহাট্টার শাহী জামে মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে সকালে আগুন নেভানোর পর তল্লাশি চালিয়ে ৭০টি লাশ উদ্ধারের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ আজ দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত আমাদের মর্গে (মেডিকেল কলেজ মর্গ) ৬৭টা লাশ পেয়েছি। আরো ১১টা লাশ আমাদের হাসপাতালে মর্গে আছে। এই টোটাল ৭৮টা লাশ। ৭৮টা লাশের মধ্যে কিছু কিছু লাশ আছে তাদের চেহারা দেখে শনাক্ত করা যাবে। কিছু কিছু লাশ আছে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট লাগবে, ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে শনাক্ত করা যাবে। কিছু কিছু লাশ আছে চেহারা এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে শনাক্ত করা যাবে না, তাদের আমরা ডিএনএ প্রফাইলিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করব।’#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২১
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন