গুজব প্রতিরোধ করতে কমিউনিটি পুলিশকে তৎপর হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
গত রোববার ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিকের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে প্রতিবেদনে কী আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
গত ২০ অক্টোবর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বোরহানউদ্দিনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে 'তৌহিদী জনতা'র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে এক কিশোরসহ চারজন নিহত হন। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক মানুষ আহত হন।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গুজব প্রতিরোধ করতে কমিউনিটি পুলিশকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ডে- ২০১৯ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি ।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, ভোলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী একটি ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আপনাদের প্রথম কাজ হবে এই মিথ্যা ও ভুল তথ্যের বিভ্রান্তি যেন তৈরি না হয় সেটা নিশ্চিত করা। ফেসবুকের প্রভাব আমরা রামুতে দেখেছি, নাসিরনগরেও দেখেছি। অতি সম্প্রতি ভোলাতেও দেখেছি। সেজন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য নিয়ে সচেতনভাবে কমিউনিটি পুলিশকে কাজ করতে হবে।’
এদিকে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত চারজনের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
আজ শনিবার দুপুরে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আলী আজম মুকুল নিহতদের বাবা-মায়ের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।
আজ বেলা ১২ টায় বোরহানউদ্দিনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যৌক্তিক দাবিগুলো আমরা ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছি। তাদের ৬ দফার মধ্যে অন্যতম দাবি ছিলো নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহয়তা, তা প্রদান করা হয়েছে এবং আহতদেরও চিকিৎসার সহয়তা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটির প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে মূল অপরাধীদের অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে বাকিদেরও চিহ্নিত করার কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে।
ভোলা-২ আসনের এই এমপি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারকে সহয়তা ও ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি এলাকা ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের সহানুভূতি জানানোর পাশাপাশি পুনর্বাসনসহ সার্বিক ব্যবস্থা নেয়ারও নিশ্চয়তা দিয়েছেন।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।