উহানে আটকে পড়া ৩৬১ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বিমান যাচ্ছে চীনে
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77085-উহানে_আটকে_পড়া_৩৬১_বাংলাদেশিকে_ফিরিয়ে_আনতে_বিশেষ_বিমান_যাচ্ছে_চীনে
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস কবলিত চীনের উহান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরছে ৩৬১ বাংলাদেশি। এর মধ্যে ১৮ শিশুসহ ১৯টি পরিবার রয়েছে। বাকিরা শিক্ষার্থী।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জানুয়ারি ৩১, ২০২০ ১০:০১ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে ড. এ কে আব্দুল মোমেন, জাহিদ মালেক স্বপন ও ডা. এনামুর রহমান
    সংবাদ সম্মেলনে ড. এ কে আব্দুল মোমেন, জাহিদ মালেক স্বপন ও ডা. এনামুর রহমান

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস কবলিত চীনের উহান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরছে ৩৬১ বাংলাদেশি। এর মধ্যে ১৮ শিশুসহ ১৯টি পরিবার রয়েছে। বাকিরা শিক্ষার্থী।

আজ (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীনের উহান থেকে শিক্ষার্থীসহ ৩৬১ জন বাংলাদেশে আসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে। গতরাতে চীনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ক্লিলিয়ারেন্স দিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, চীন থেকে আসা বাংলাদেশিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে রাখা হবে। এরই মধ্যে হজ ক্যাম্পে আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। 

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, উহান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম আগে থেকেই। চীন সরকারকেও আমরা জানিয়েছিলাম। তারা অনুমতি দিয়েছে, আমরা এখন সেখান থেকে আমাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে পারি। সে অনুযায়ী আজ (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট যাবে উহানে। সেখান থেকে বাংলাদেশিদের নিয়ে আসা হবে এই ফ্লাইটে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর নাগাদ ফ্লাইটটি ঢাকা নামবে।

করোনাভাইরাস যাতে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। ইমিগ্রেশনের আগে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। 

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গত একমাসে প্রায় গোটা চীনে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১৩ জন মারা গেছেন। বিশ্বের আরও ১৮টি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে এই ভাইরাস ঘিরে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

যে উহানে করোনাভাইরাসের সন্ধান প্রথম পাওয়া গেছে, সেই উহান শহরেরই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চার থেকে পাঁচশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে থাকায় উহান শহরে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা মূলত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। খাদ্য সংকটেও রয়েছেন তারা।

আট দিনে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন প্রায় চার হাজার

এদিকে, চীন থেকে ফেরত আসা এক বাংলাদেশি যাত্রীর শরীরে জ্বর থাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে চীন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। 

বিমানবন্দরের জরুরি হেলথ ডেস্কের ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, “চীন থেকে আসা যাত্রীদের আমরা ২১ জানুয়ারি রাত থেকে স্ক্যানিং করছি। এ পর্যন্ত আমরা তিন হাজার ৭৫৪ জনকে স্ক্যানিং করেছি। আমাদের গাইডলাইন হলো চীন থেকে কোনো যাত্রী আসলেই তাকে স্ক্যানিং করতে হবে। তার জ্বর বা সর্দি কাশি থাকলেই তাকে অবজারভেশনে রাখতে হবে। চীন থেকে আসা ওই বাংলাদেশির জ্বর ছাড়াও সর্দি- কাশি আছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইসিডিডিআর) করোনা ভাইরাসের পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করছে। আইসিডিডিআর জানায়, চারটি হটলাইনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা যাত্রীদের একটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সেই কার্ডে তাদের করণীয় এবং সেবা পাওয়ার জন্য ফোন নম্বর দেওয়া আছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩১ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।