চীন থেকে ফিরেছে ৩১৪ বাংলাদেশি, ৭ জন হাসপাতালে
করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মাঝে চীনের উহানে আটকে পড়া ৩১৪ বাংলাদেশিকে নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট। এই ফ্লাইটে ৩১৬ জন ফেরার কথা থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় দুজনকে উহানে রেখে আসা হয়।
আজ (শনিবার) বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে ৩১৪ বাংলাদেশিকে নিয়ে বহনকারী বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
চীন থেকে ফেরা সবাইকে বিমানবন্দর থেকে বিআরটিসির ১০টি বাসে করে আশকোনা হজক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাতজনের শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় তাদের সরাসরি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কারণ, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির বেশি হওয়া। যেহেতু করোনা ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১৪ দিন সময় লাগে সেজন্য তাদের ১৪ দিন নিবিড় তত্ত্বাবধায়নে রাখা হবে। এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিমও থাকবে। তারা জানিয়েছেন উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পরে এবং জানুয়ারির মাঝামাঝিতে এটি মহামারী আকার ধারণ করে। এ ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এর লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। গত এক মাসে কেবল চীনেই ১১ হাজারের বেশি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ২৫৯ জনের।

এ অবস্থায় উহান শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির সরকার। এর ফলে খাদ্য সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সহায়তার আবেদন জানালে তাদের ফিরিয়ৈ আনতে উদ্যোগ নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দেশে ফেরাতে আলোচনা শুরু হয় চীন সরকারের সঙ্গে। তাদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে চীনের অনুমতি পাওয়ার পরপরই ঘোষণা দেয়া হয় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তখন উহানে অবস্থানরতদের থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করে চীনে বাংলাদেশ হাইকমিশন। সর্বশেষ ৩১৬ জন দেশে ফিরে আসবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) উহান যায় বিমানের ফ্লাইট। রাতেই তাদের নিয়ে যাত্রা করার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অভিবাসন সংক্রান্ত নানা জটিলতায় শনিবার চীনের স্থানীয় সময় সকালে ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এবং কয়েক জায়গায় মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর খবর আসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
নভেল করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। আপাতত এটি থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো, যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কিছু স্বাস্থ্য বিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।