করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে পণ্য আমদানী-রপ্তানি ব্যাহত
-
চট্টগ্রাম বন্দর
করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চে যেসব পণ্য বাংলাদেশমুখী জাহাজে বোঝাই করার কথা, তা অন্তত ১০ দিন পিছিয়ে গেছে। চীনে নববর্ষের ছুটি আরও বাড়ানো হলে এই সময় আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাতে কিছুদিন পর উৎপাদন খাত থেকে শুরু করে প্রকল্পকাজ ব্যাহত হতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দর, জাহাজ কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
চীনে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশটির অধিকাংশ কারখানা ও অফিস বন্ধ। তাদের পণ্য সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। সেটির প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়তে শুরু করেছে। চীন থেকে আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন রপ্তানিকারকেরা। চীনে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
করোনাভাইরাস নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাট সুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিকারকেরা। তবে আমদানিকারকেরা বলছেন, নববর্ষের ছুটির কারণে চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ হয়নি। ছুটি শেষ হলে অবস্থা বোঝা যাবে। আর করোনাভাইরাসের কারণে ছুটির সময় বাড়লে পরিস্থিতি জটিল হবে।
করোনাভাইরাসের কারণে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মালিকেরা, বিশেষ করে যাঁরা উইভেন পোশাক রপ্তানি করেন। কারণ, উইভেন পোশাকের ৬০-৬৫ শতাংশ কাপড় আমদানি হয়, যার একটি বড় অংশ চীন থেকে আসে।
বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার জন্য কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ১ হাজার ২১৭ কোটি মার্কিন ডলারের। আমদানি হওয়া এই কাঁচামালের বড় অংশ চীন থেকে আসছে বলে জানালেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি আরশাদ জামালঢাকার একটি দৈনিকের কাছে বলেছেন, পোশাকশিল্পে বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং সময় যাচ্ছে। তার মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। পুরো বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে- সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আমদানি ও রপ্তানির পণ্য দ্রুত খালাস ও জাহাজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তাছাড়া, চীনারা বাংলাদেশ থেকে চামড়া আমদানি স্থগিত রেখেছে। করোনাভাইরাসের সমস্যাটি দ্রুত সমাধান না হলে চামড়া খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নামবে।
করোনাভাইরাসের কারণে পাট খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাটসুতার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা চীন। দেশটি ৪ কোটি ৬১ লাখ ডলারের পাটসুতা আমদানি করেছে। ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের কাঁচা পাটও কিনেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। অবশ্য জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জাহিদ মিয়া বলেন, চীনাদের অনেক ক্রয়াদেশ পাটকলে আছে। নববর্ষের ছুটি শেষ হলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে।
চীন থেকে রসুন ও আদা আমদানি করেন শ্যামবাজারকেন্দ্রিক আমদানিকারক আবদুল মাজেদ। তিনি জানান, ‘নববর্ষের পর আজ চীনের অফিস খোলার কথা। শুনেছি এখন সেই ছুটি বাড়িয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। আমাদের কাঁচামালের মধ্যে যেগুলোর জাহাজীকরণ হয়েছে, সেগুলো নথিপত্র আসেনি। নথি না এলে পণ্য খালাস করা যাবে না। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’ অবশ্য ইতোমধ্যে দেশের বাজারে চীনা রসুনের দাম বেড়েছে। কয়েক দিন আগে দেড় শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।