শুভেন্দু অধিকারীর দাবি
'বাংলাদেশের মৌলবাদীদের ঢুকিয়ে পশ্চিমবঙ্গে জনবিন্যাসের পরিবর্তন করছে রাজ্য সরকার '
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বাংলাদেশের মৌলবাদীদের ঢুকিয়ে পশ্চিমবঙ্গে জনবিন্যাসের পরিবর্তন করছে রাজ্য সরকার।
তিনি আজ (শনিবার) পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে প্রদেশ কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারে আজ বলেন, ‘আমরা যে বিষয় নিয়ে সকলেই চিন্তিত, সেটা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসের পরিবর্তন। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রোহিঙ্গাসহ যেভাবে বেআইনি অনুপ্রবেশাকারী ঢুকছে, যেভাবে ‘বিএসএফ’কে রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করছে, যেভাবে বিএসএফের বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব আনা হচ্ছে, যেভাবে ৭২ টি জায়গায় চৌকি করার জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়নি, তাতে সব মিলিয়ে আমাদের মনে হয়েছে বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদ, রাজাকার, হেফাজত যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন এবং পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন সেই শক্তিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে ঢুকিয়ে এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জনসংখ্যার পরিবর্তন ঘটাচ্ছেন, উনি বা উনার উত্তরাধিকারী উনার ভ্রাতুষ্পুত্র যাতে আগামী ৩০/৪০ বছর আরও রাজত্ব পারেন। সেই জন্য এ কাজ কাজ করছেন বলে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আমাদের কাছে যে খবর আছে শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগণা বা মুর্শিদাবাদ, মালদহ নয়। বিধাননগর, সল্টলেক, নিউটাউন, রাজারহাটের বিস্তীর্ণ এলাকা, এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকা বিধানগর পর্যন্ত সেখানেও ইতোমধ্যে কয়েকশো রহিঙ্গা ঝুপড়ি তৈরি হয়েছে। এটা পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ খুবই চিন্তার বিষয়!’
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘আমাদের এই কথাকে নিয়ে তৃণমূল বলতে পারে যে আমরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে বলেছি। কিন্তু আমরা আবারও বলি, ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। কারণ, মোদিজীর সমস্ত কাজের সুফল কেবলমাত্র হিন্দুরা পাননি, সকলে পেয়েছেন। তিনি সব সময়ে বলেছেন, পরিবারবাদ খতম হোক, তোষণের রাজনীতি শেষ হোক, জাতপাতের রাজনীতি শেষ হোক। শুধুমাত্র বিকাশবাদ জয়যুক্ত হোক। বিকাশবাদ মানে কোনও একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করা নয়। আমার অবস্থান খুব স্পষ্ট। কোনও দেশ থেকে ধর্মান্ধতা নিয়ে বা ওই দেশে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে এই রাজ্যে রাজ্য সরকার এবং শাসক তৃণমূলের মদদে বিএসএফকে কাজ করতে না দিয়ে জনবিন্যাস ৯টা জেলায় বদলে ফেলা হচ্ছে। গোটা ভারতে আলকেয়াদা, আইএসআই, জেএমবিদের পাঠানোর সাপ্লাই লাইনটা, রোহিঙ্গাদের বসানোর সাপ্লাই লাইনটা মমতা ব্যানার্জি করেছেন, তা বন্ধ হওয়া দরকার। বিজেপির কার্যকারিণী, রাজ্য কার্যকারিণী এই বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজন হলে আমরা সর্বস্তরে আবেদন নিবেদন করা শুধু নয়, আমরা পরবর্তীকালে অসমের মতো প্রয়োজন হলে আইনি যুদ্ধেও আমরা যাব। কারণ, পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করার দায়িত্ব ভারতীয় জনতা পার্টির বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/ এমবিএ/ ২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।