উত্তরাখণ্ডে এ বছরেই ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ কার্যকর করা হবে: মুখ্যমন্ত্রী ধামি
-
পুষ্কর সিং ধামি
ভারতে বিজেপিশাসিত উত্তরাখণ্ডে বহুলালোচিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ চলতি বছরেই কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ওই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন থাকা উচিত- এমনটাই দাবি জনগণের। এর সূচনা হবে উত্তরাখণ্ড থেকে। সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে, আমরা এ বছরই রাজ্যে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’কার্যকর করব।
এ প্রসঙ্গে আজ (বৃহস্পতিবার) দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দেওয়ান আব্দুল গণি কলেজের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এক দেশ,এক ক্যালচার,এক আইন হতেই পারে কিন্তু এক দেশ এক দেবতা, এক ধর্ম সম্ভব নয়, অভিন্ন দেওয়ানী আইনে ব্যক্তিগত, ধর্মীয় এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করার প্রয়াস হচ্ছে যা ভারতবর্ষের সংহতি,ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। আমদের দেশ সকল ধর্ম ও বিবিধের আশ্রয়স্থল,বহু জাতি,বর্ণ একসাথে বসবাস করছে বহুকাল ধরেই। পৃথিবীর চারটি ধর্মের উৎসভুমি,সকলের ধর্মীয় রেওয়াজ রীতি নীতি আলাদা তাই সবকিছু এক করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভাবার দরকার। আমরা বলতে পারি অভিন্ন দেওয়ানী আইনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে বিজেপি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন জয়লাভ করতে চাচ্ছে এবং ধামীর মত হিন্দুত্ববাদী পোস্টার বয়দের এজন্য মাঠে নামানো হয়েছে। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি, উত্তরাধিকার মত ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত বিষয়কে একাকার করা যায় না।’
‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’র নামে মূলত মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে। মুসলিমদের বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকারের মতো বিষয়ে ব্যক্তিগত আইনকে আঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে’ বলেও দেওয়ান আব্দুল গণি কলেজের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, রাজ্যে প্রচুর বহিরাগত লোকজন এসে বাস করার জনবিন্যাসে প্রভাব পড়ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উত্তরাখণ্ডে প্রচুর বহিরাগত লোকের আগমন ঘটেছে। পরিচয়পত্র যাচাই না করিয়ে এরা এখানে বসবাস করা শুরু করেছে। এরফলে রাজ্যের জনবিন্যাসে বিরাট পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তন রোধ করা দরকার। সেই সঙ্গে যারা সরকারি জমি জবরদখল করে বসবাস করছে, তাদের উচ্ছেদ এবং জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতোমধ্যে তিন হাজার হেক্টর জমি থেকে জবরদখলকারীদের সরকার উচ্ছেদ করেছে এবং জোর করে ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। রাজ্যে প্রতারণা ও লোভ দেখিয়ে মনগড়া জিনিসের মাধ্যমে ধর্মান্তরের কাজ চলছিল, যা দেবভূমির আসল রূপ ধরে রাখতে হলে বন্ধ করা প্রয়োজন’ বলেও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা পুষ্কর সিং ধামি মন্তব্য করেছেন।
প্রসঙ্গত, হিন্দুত্ববাদী বিজেপির দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে বহুলালোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হল ‘অভিন্ন দেওয়ানী বিধি’ বা ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি। এরকম কোন আইন বাস্তবায়িত হলে বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, বা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের, দত্তক ইত্যাদির মত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্পদ্রায়ের মানুষজন ‘নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত আইন’ অনুসরণ করেন, তা আর থাকবে না। ধর্ম, লিঙ্গ, বা যৌন অভিরুচি নির্বিশেষে সকলের জন্য একটিই অভিন্ন আইন হবে। ভারতে মুসলিমদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শরীয়াহ বিধি চালু রয়েছে। কিন্তু ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’কার্যকর হলে সেই বিধি গুরুত্ব হারাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৩১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।